বালুর ট্রলারের চাঁদা না দেয়ায় মধ্যরাতে রফিকুল ইসলাম নামের এক বালু ব্যবসায়ীকে মারধর ও ঘরবাড়ি ভাংচুর করে আহত করেছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় ওই ব্যবসায়ীর দু’সন্তান, স্ত্রী, বাবা ও মাকেও আহত করে তারা। এক পর্যায়ে নগদ আড়াই লাখ টাকা, প্রায় ৭০ হাজার টাকার স্বর্ণালঙ্কার ও দুটি দামি মোবাইল লুট করে। এসময় ফিল্মি স্টাইলে ত্রাস সৃষ্টি করে সন্ত্রাসীরা। আহতদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। গত শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে রৌমারী উপজেলার বাগুয়ারচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে রৌমারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
মামলার বাদী রফিকুলের বাবা আব্দুস সালাম ভিন্নবার্তা ডটকমকে জানান, মূল ব্রহ্মপুত্র থেকে বালু উত্তোলন করে ট্রলারের মাধ্যমে বলদমারা ঘাটে বালুগুলো জমা করা হয়। এ জন্য প্রতিটি ট্রলার থেকে ১০০০ করে টাকা চাদা নেয় রিপন, মমিন, সোহেল গ্রুপ। আমার ছেলে সে চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে গত কয়েক দিন ধরে ওই গ্রুপটি আমার ছেলেকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আমার বাড়ি লাগোয়া দাখিল মাদ্রসা মাঠে চাঁদা নিয়ে ব্যাপক বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তারা আমার ছেলেকে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে শনিবার রাতে ২০/২৫ জনের একটি দল আমার বাড়িতে আচমকা হামলা করে। তারা বাড়ির গেইট ভেঙে বাড়িতে ঢুকে ঘরের দরোজাও ভেঙ্গে ফেলে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ধরালো অস্ত্রের মুখে রফিকুলের স্ত্রী ও দু’সন্তানকে জিম্মি করে লুটপাট শুরু করে। রফিকুলকে মারধর করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ সময় আমি ও আমার স্ত্রী সেখানে উপস্থিত হলে তারা আমাদেরকেও মারধর করে। পরে গ্রামবাসীরা ছুটে এলে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
রফিকুলের স্ত্রী মুন্নী আক্তার ভিন্নবার্তা ডটকমকে বলেন, প্রথমে তারা বাড়ি গেইট ভেঙে ফেলে। ভয়ে আমি আমার বড় ছেলেকে বিছানার নিচে ঢুকিয়ে দেই। পরে ঘরে ঢুকে তারা সেখান থেকে তাকে টেনে বের করে। আমার কোলের দু’সন্তানের গলায় ছোড়া ধরে। আমার কাপড় ধরে টানা হেঁচড়া করে। প্রাণভয়ে আমি আমার দু’সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরতে গেলে আমাকে মারধর করে। কেউ কেউ জানালার ওপাশ থেকে ধারালো কিছু দিয়ে টিনের বেড়ায় আঘাত করে। অল্পের জন্যে আমার বড় ছেলে রোমিও প্রাণে বেঁচে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা বলে যায় এ ব্যাপারে কোনো মামলা করলে এর পর ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হবে।
ওই গ্রামের আবুল কালাম, রমজান আলী, আব্দুস সাত্তারসহ অনেকে জানান, মধ্যরাতে চিৎকার শুনতে পেয়ে আমরা কয়েকজন সেখানে যাই। গিয়ে দেখি রিপন, মমিন, সোহেল, শাহিনসহ অনেক ছেলে রফিকুলকে মারধর করছে। তাদের সবার হাতে চাকু, সোরা, লাঠি, লোহার রড রয়েছে। আমাদের অনেককে দেখে কিছুক্ষণ পর তারা পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে রিপনকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে মমিন বলেন, আমি এর কিছুই জানি না। রৌমারী থানার ওসি হাসান ইনাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।
ভিন্নবার্তা ডটকম/প্রতিনিধি/এসএস
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051