বাংলাদেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। প্রতিদিনই আক্রন্ত হচ্ছে শত শত মানুষ। মৃত্যুর সংখ্যাও কম নয়। বিশেষ করে রাজধানীতে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার অনেক বেশি।
এমতাবস্থায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে নগরবাসীকে সব ধরনের করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ সচেতন করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সচেতন করার তেমন কোন উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। যার ফলে নগরীতে প্রতিদিনই কেউ না কেউ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। তবে নগরবাসীকে নিজ উদ্যোগে সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীতে প্রথমে করোনায় আক্রান্তের সময় বিপণিবিতান থেকে শুরু করে কাঁচাবাজারগুলোতেও সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতো। কিন্তু ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণা বাড়তে থাকায় এখন কোথাও কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না বলে লক্ষ্য করা গেছে। এতে বিপণিবিতান ও কাঁচাবাজার থেকে এখনও করোনা ছড়াচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, গত ১০ মে থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মেনে চলার শর্তে বিপণিবিতানগুলো খুলে দিয়েছে সরকার। এতে তদারকির দায়িত্ব দুই সিটি করপোরেশনের। কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, ঢাকায় মোট সোয়া ৫ লাখের মতো দোকান রয়েছে। একক তদারকির মতো লোকবল-সামর্থ্য সিটি করপোরেশনের নেই। তবুও দুই সিটি কর্পোরেশন প্রথম দিকে নানা কার্যক্রম চালিয়েছে।
জানা গেছে, প্রথম দিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আটটি এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের ১০টি গাড়ি প্রধান সড়কগুলোয় জীবাণুনাশক ছিটিয়েছিল। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এটা বেহুদা, বরং স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু তাও চোখে পড়ছে না। এছাড়া, ডিএনসিরি ১০টি অঞ্চলে পথচারীদের হাত ধোয়ার জন্য ১০০টির মতো বেসিন বসানো হয়েছিল তার একটিরও এখন অস্তিত্ব নেই। অথচ করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৬০ শতাংশই শনাক্ত হয়েছে রাজধানীতে।
জানা গেছে, দুই সিটি এলাকায় কাঁচাবাজার আছে ২৮টি।
এসব বাজারগুলো প্রথমদিকে সরিয়ে খোলা জায়গায় নেয়া হলেও পরে আবার নির্দিষ্ট স্থানে ফিরিয়ে আনা হয়। ফলে এসব বাজারে নিয়মিত ক্রেতারা আসছেন। কিন্তু অধিকাংশ ক্রেতা কোন ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। এমনকি কেউ মাস্কও পরছেনা। একজন আরেকজনের গা ঘেসে দাঁড়াচ্ছে বাজার করছে। অবস্থা দেখে মনে হয় দেশে করোনা চলে গেছে। কিন্তু এসব দেখবালের দায়িত্বে থাকা দুই সিটি তেমন কোন উদ্যোগ না নেয়ায় বিক্রেতারা দুই সিটির উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ডিএসসিরি প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন বলেন, আমরা বাজার গুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানছে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। দোকানমালিক সমিতিগুলোকে সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু সরাসরি তদারকির বিষয়টি দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা বাজার ঘুরছেন, অনেকে জরিমানা করছেন। তবে তিনি বলেন, আমরা যতই চেষ্টা করি নগরবাসীকে নিজ উদ্যোগে সচেতন হতে হবে। না হয় করোনা প্রতিরোধ করা সম্ভব না। ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি আকতার মাহমুদ বলেন, করেনা প্রতিরোধে নগরবাসীকে সচেতন করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দুই সিটি করপোরেশনকে।
কিন্তু তারা তাদের দায়িত্ব পালন করছে না। তাদের সচেতনতামূলক কাজ চোখে পড়ার মতো নয়। দুই সিটির ওয়ার্ড কাউন্সিলররা মহামারি পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে জনসচেতনতা তৈরি এবং বাজার তদারকিসহ নানা কাজে আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন ছিল।
এ বিষয়ে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত। না হয় এই মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার সম্ভবনা কম। তবে তিনি নগরবাসীকে নিজ উদ্যোগে সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।
ভিন্নবার্তা/এমএসআই
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051