উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে রাজধানীর নুরজাহান অর্থোপেডিকস হাসপাতালসহ আরও একটি হাসপাতাল সিলগালা করে দিয়েছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। নুরজাহান অর্থোপেডিকস হাসপাতালের একটি চক্র সরকারি হাসপাতালের রোগী ভাগিয়ে এনে অপরিষ্কার মেঝেতে রক্ত মাখা কাপড় ব্যবহার করে অপারেশন করাতো ওয়ার্ড বয়কে দিয়ে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতালটির পরিচালক বাবুল হোসেনকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ওয়ার্ড বয়কে দুই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার রাত ১০টা থেকে পাঁচ ঘণ্টার অভিযানে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও শ্যামলী এলাকায় হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও র্যাব-২ এর সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু।
অভিযান শেষে তিনি বলেন, রাজধানীর শ্যামলী ও মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডে হাসপাতালে দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে থেকে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে এসে কম খরচে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার আশ্বাস দেয়। তারা রোগী আনার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সরকারি হাসপাতাল সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া।
পলাশ কুমার বসু বলেন, ক্রিসেন্ট হাসপাতালের পরিচালক হাজী মোহাম্মদ আবুল হোসেন। বয়স ৫০ এর কোঠায়। তিনি এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। হাসপাতালটির পরিচালক রোগীদের ভাঙা হাত-পায়ের এক্স রে দেখে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিজেই দেন।
এছাড়াও ক্রিসেন্ট হাসপাতালের অনুমোদনের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে আরও চার মাস আগে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আবুল হোসেনকে এক বছরের কারাদণ্ড ও হাসপাতালটিকে সতর্ক করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় সরকারি হাসপাতালে সাধারণ মানুষ আসে চিকিৎসা নিতে। তারা বেশিরভাগই অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। এরাই এই সব দালাল চক্রের খপ্পরে পড়েন।
র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, অভিযানের শুরুতেই মক্কা-মদিনা হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। সেখানে পরিচালক নূর নবীর কোনও ধরনের চিকিৎসা প্রদানের সনদ বা অনুমোদন নেই। তিনি তার রুমে বসে রোগী দেখছেন এবং তাদের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছে। হাত ভাঙাসহ বিভিন্ন গুরুতর আহত যে রোগীরা আসছেন তাদেরকে অপারেশন করার জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। যা তিনি কোনোভাবেই দিতে পারেন না।
এ অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত হাসপাতালটির পরিচালক নূর নবীকে এক বছরের কারাণ্ডসহ আনোয়ার হোসেন কালু ও তার সহযোগী আব্দুর রশিদকে ৬ মাস করে সাজা প্রদান করা হয়েছে। সেই সাথে মক্কা-মদিনা হাসপাতালটিও সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা চাই মানুষের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে এইচএসসি পাস চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসার নামে প্রতারিত না হন। এমন অপচিকিৎসা মানুষের অর্থ ও জীবনের জন্য খুবই বিপজ্জনক। সিলগালা করা হয়েছে জনস্বার্থে। সিলগালা করে টোটাল রিপোর্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আছেন তার মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রেরণ করা হবে। যাতে করে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়।
ভিন্নবার্তা/এমএসআই
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051