
রাজধানীর মহাখালি ও গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল স্থাপনের ৩৫ বছর পার হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সম্প্রসারণ করতে পারেনি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। তবে নয় বছর আগে মহাখালি ও গাবতলী টার্মিনালটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিলেও এখন পর্যন্ত সম্প্রসারনের কাজই শুরু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ উত্তর সিটি। কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে তাও জানাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে দক্ষিণ সিটি এখন পর্যন্ত কোন উদ্যোগই নেয়নি। ফলে টার্মিনালের ভেতরে জায়গা কম থাকায় শত শত বাস রাখা হচ্ছে সড়কের উপরই। এতে সংশ্লিষ্ট সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।
সূত্র মতে, ৩৫ বছর আগে রাজধানীর গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘ বছরে রাজধানীতে জনসংখ্যা ও যানবাহন কয়েকগুন বাড়লেও স্থাপিত হয়নি নতুন কোন বাস টার্মিনাল। এমনকি টার্মিনালের জায়গা বাড়ানোর উদ্যোগও নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এতে জনসংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি টার্র্মিনালে গাড়ির সংখ্যাও বেড়েছে। ফলে টার্মিনালের ধারণ ক্ষমতা আরো আগেই ছেড়ে গেছে। আর জায়গা স্বল্পতার কারণে এর প্রভাব পড়েছে সড়কের ওপর। এক্ষেত্রে বাসগুলো টার্মিনালে জায়গা না পেয়ে সড়কে রাখায় সব সময় সড়কের যানজট লেগেই থাকছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সড়কে যাতে বাসগুলো রাখা না হয় সে কথা বিবেচনা করেই রাজধানীর মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনাল সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয় ডিএনসিসি। এ লক্ষ্যে কয়েক দফা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে সারা না পাওয়ায় টার্মিনাল স¤প্রসারনের কাজ শুরু করতে পারেনি ডিএনসিসি।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, টার্মিনাল দুটির জায়গা বাড়াতে গাবতলী বাস টার্মিনালের দক্ষিণ পাশে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) প্রায় ২০ বিঘা পরিত্যক্ত ও পতিত জমি রয়েছ। এ জমি কজে লাগিয়ে গাবতলী বাস টার্মিনাল সম্প্রসারণ করতে উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। ডিএনসিসি জানায়, বর্তমানে ২১ দশমিক ৮৬ একর জমির ওপর বাস টার্মিনালটি রয়েছে। যাত্রী পরিবহণ ও যানজট নিরসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ওই এলাকায় টার্মিনালটি স¤প্রসারণ করা খুবই জরুরী হয়ে পড়ছে।
অপরদিকে, মহাখালী বাস টার্মিনালের পশ্চিম পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ১৫ বিঘা পরিত্যক্ত জমি রয়েছে। পূর্ব পাশে ঢাকা ওয়াসা, সড়ক ও জনপথ বিভাগের ১ একর জমি পরিত্যক্ত রয়েছে। ওসব জমি কাজে লাগিয়ে মহাখালী বাস টার্মিনাল সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে ওই জমিগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতীকী মূল্য নির্ধারণ করে ডিএনসিসি পক্ষ থেকে বুঝিয়ে দেয়ার কথাও বলা হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষর সারা পাচ্ছে না ডিএনসিসি।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, ৩৫ বছর আগে নির্মিতব্য গাবতলী বাস টার্মিনালটি মাত্র সাড়ে ৩’শ বাস রাখা যাবে এমন ধারন ক্ষমতাসম্পন্ন করে নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্ত এখান খেকে বর্তমানে উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের ২০টি জেলার তিন হাজার বাস যাতায়াত করছে। এসব বাসগুলোকে টার্মিনালে জায়গা দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। ফলে বাধ্য হয়ে বাসগুলোকে রাস্তায় দীর্ঘ সময় দাড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অপরদিকে মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বৃহত্তর ময়মনসিংহসহ বর্তমানে ১৬ জেলায় বাস চলাচল করছে। এই টার্মিনালটিকেও সাড়ে ৩শ’ বাসের ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন করে তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে টার্মিনাল দু’টিতে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে পাঁচ থেকে সাতগুণ বেশি বাস চলাচল করায় টার্মিনাল ছাড়িয়ে বাসগুলো আশপাশের সড়কের ওপর রাখা হচ্ছে।
ফলে সড়কগুলোতে প্রতিনিয়ত দীর্ঘ যানজটসহ বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে নাগরবাসীর ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, ভবিষ্যতে এর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করলে গাবতলী ও মহাখালি বাস টার্মিনালটি সম্প্রসারণের জন্য ওই জমি ছাড়া, আরো ৫০ একর জমি প্রয়োজন। এ জায়গা যদি সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দ দেয়া হয় তাহলে ভবিষ্যতে বাসের সংখ্যা বাড়লেও কোন ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে না। এ বিষয়ে ডিএনসিসির বাস টার্মিনাল বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ ৩৫ বছরে এ টার্মিনাল দুটির জায়গা সম্প্রসারণ না করায় বাসগুলোকে নিয়ে অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। চালকরা করা বাধ্যে হয়েই সড়কে বাস রাখছে। এ সমস্যা সমাধানে তা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হযেছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলেই কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয় কোন ধরনের সহযোগিতা করছে না বলেও তিনি জানান।
ভিন্নবার্তা/এমএসআই