মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ও সাবেক সাংসদ এম এ জব্বার (৮৮) যুক্তরাষ্ট্রে মারা গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয় বলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত তাঁর কয়েকজন স্বজন জানিয়েছেন।
এম এ জব্বার পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে জাতীয় পার্টির সাবেক সাংসদ ছিলেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি আত্মগোপন করে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। সেখানে ছেলে ও মেয়ের কাছে থাকতেন। তাঁর বড় ছেলে মো. নাসিম যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ও মেয়ে ফ্লোরিডায় থাকেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট এম এ জব্বারের বিচার শুরু হয়। ২০১৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তাঁকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন।
মঠবাড়িয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এম এ জব্বার মঠবাড়িয়ায় শান্তি কমিটির সভাপতি ছিলেন। তাঁর নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, বাড়ি–ঘরে আগুন লাগানো এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ২০০ হিন্দুকে ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রথম ধাপে প্রকাশিত স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকায় তাঁর নাম আছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে এম এ জব্বার মুসলীম লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। একাত্তরে তাঁর নেতৃত্বে মঠবাড়িয়ায় শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনী গঠিত হলে শুরু হয় গণহত্যা, লুন্ঠন ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা। স্বাধীনতার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। ১৯৭২ সালে তাঁর বিরুদ্ধে গণহত্যা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে রাজাকার বাহিনীর হাতে নিহত বিনোধ বিহারী বিশ্বাসের ছেলে যজ্ঞেস বিশ্বাস ও শহীদ জিয়াউজ্জামানের বাবা মতিউর রহমান বাদী হয়ে স্থানীয় থানায় দুটি মামলা করেন। ১৯৭৪ সালের ১৪ মে যজ্ঞেস বিশ্বাসের মামলায় জব্বারসহ ২৬৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মঠবাড়িয়া আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। পরে তৎকালীন স্বৈরশাসক এরশাদের সঙ্গে আঁতাত করে ভোট কারচুপির মাধ্যমে সাংসদ নির্বাচিত হন। ওই সময় ভোট কারচুপির প্রতিবাদে জনতা প্রতিরোধ গড়ে তুললে গুলিতে চারজন নিহত হয়েছিলেন। এরপর তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টি ও ১৯৯৬ সালে বিএনপি থেকে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। ২০০১ সালে বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে আবার জাতীয় পার্টিতে ফিরে যান এবং দলটির ভাইস চেয়ারম্যান হন। ২০০৬ জাতীয় পার্টির টিকিটে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত মহাজোটের মনোনয়ন পান। ওই নির্বাচন থেকে মহাজোট সরে দাঁড়ায়। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পুনরায় মহাজোটের মনোনয়ন পান। ওই সময় ঋণ খেলাপি হওয়ায় তাঁর মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি আত্মগোপন করেন।
শফিকুল আলম নামের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এম এ জব্বারের এক আত্মীয় তাঁর মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে সরকারিভাবে এ বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভিন্নবার্তা ডটকম/পিকেএইচ
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051