
আধুনিক যুগের ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক ও প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের প্রায় দুই সপ্তাহ পর তুরস্ক সফর করছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন। দক্ষিণ তুরস্ক এবং উত্তর সিরিয়ায় হওয়া ওই ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত একটি প্রদেশে রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) তিনি সফর করেন।
এসময় তিনি এই অঞ্চলের জন্য আরও ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার হেলিকপ্টারে চড়ে অ্যান্টনি ব্লিংকেন ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত এলাকা সফর করেন। পরে যুক্তরা-তুরস্কের যৌথভাবে পরিচালিত ইনসিরলিক বিমান ঘাঁটিতে তিনি বলেন, ‘এটি (বিধ্বস্ত এলাকা পুনরুদ্ধার) একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টা হতে যাচ্ছে।’
শীর্ষ এই মার্কিন কূটনীতিক বলেন, ‘আপনি যদি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, ভবনের সংখ্যা, অ্যাপার্টমেন্টের সংখ্যা, ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ির সংখ্যা দেখেন, তখন বুঝতে পারবেন সেগুলো পুনঃনির্মাণের জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।’
ব্লিংকেন বলেন, ‘বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যাদের প্রয়োজন তাদের সাহায্য দেওয়া, তাদের শীতকালীন সহযোগিতা করা এবং স্বনির্ভর করা। নিকটবর্তী সৈন্যরা সাহায্যের বাক্সগুলো নামাচ্ছে ... আমরা সঙ্গে থাকব, যতক্ষণ না আমরা কাজ শেষ করি।’
এর আগে ভূমিকম্পের কয়েকদিন পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তুরস্ক ও সিরিয়ার জন্য ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। ভূমিকম্পে এই দেশ দু’টিতে ৪৬ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছেন।
এছাড়া অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা সরবরাহ ও সরঞ্জামও পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্লিংকেন বলেছেন, সর্বশেষ প্রতিশ্রুতি দেওয়া অতিরিক্ত সহায়তার মধ্যে রয়েছে জরুরি শরণার্থী ও অভিবাসন তহবিলে ৫০ মিলিয়ন এবং মানবিক সহায়তায় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
সংবাদমাধ্যম বলছে, দুই বছর আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ন্যাটো মিত্র তুরস্কে এই প্রথম সফর করছেন ব্লিংকেন। গত সপ্তাহে জার্মানিতে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগদানের পর রোববার তিনি তুরস্কের ইনসিরলিক বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছান।
পরে তিনি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলুর সঙ্গে হেলিকপ্টারে করে তুরস্কের হাতায় প্রদেশ ঘুরে দেখেন। সফরে ব্লিংকেন মার্কিন ও তুরস্কের পরিষেবা কর্মীদের পাশাপাশি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত তুর্কি সামরিক পরিবারের সঙ্গেও দেখা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সফরের দ্বিতীয় দিনে ব্লিংকেন সোমবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় যাবেন। সেখানে তিনি তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। সেখানে ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে পরিবর্তিত বাস্তবতায় ন্যাটো জোটের সম্পসারণ নিয়ে আলোচনা হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৬ ফেব্রুয়ারি ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে তুরস্ক ও সিরিয়া। এতে এখন পর্যন্ত ৪৬ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল তুরস্কেই প্রাণ হারিয়েছেন ৩৮ হাজারের বেশি মানুষ। আহত হয়েছেন আরও লাখ লাখ মানুষ।
ভিন্নবার্তা ডটকম/এন
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051