
রৌমারীতে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে ব্রহ্মপুত্রে পানি আসতে না আসতেই ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই রৌমারী উপজেলার ধনারচর এলাকা থেকে শতাধিক ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছেন এলাকাবাসী। হুমকির মুখে পড়েছে ৫টি স্কুল, ঈদগাহ মাঠসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। উপজেলার অন্যতম বৃহৎ কর্তিমারী বাজার, ডিসি সড়ক ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে মাত্র ৫’শ মিটার দূরে অবস্থান করছে। বর্ষা মৌসুম আসতে না আসতেই ব্রহ্মপুত্রের এ রুদ্র রূপ আগে কখনও দেখেনি মানুষ।
বুধবার দুপুরের দিকে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। আশ্বাস দিয়েছেন নদী শাসনের। এ সময় স্থানীয় হাজার হাজার মানুষ প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে ধরেন এবং চুপিসারে বলতে থাকেন, ‘এবা আশ্বাস তো আগেও হুনছি, কাম তো হয় না। ড্রেজার দিয়া মাডি কাডনের জন্যি আইজকা আমাগো এ দশা। সাম্বাদিকরা আইছিলো, ড্রেজারে মাডি কাটন নিয়া মেলা নেহানেহি করছে। তহন ব্যবস্থা নিলি আইজকা এমুনডা হইতো না।’
ভাঙনের কবলে পড়া খাদেম আলী ভিন্নবার্তা ডটকমকে জানান, দীর্ঘ দিন ধরে যাদুরচর খেয়া ঘাটের ওই স্থান থেকে ১০/১২টি ড্রেজার দিয়ে গত ৬ মাস ধরে বালু উত্তোলন করে আসছেন। এ নিয়ে এলাকাবাসী বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও সুরাহা হয়নি। ওই অঞ্চলের বালুখেকো সিন্ডিকেটটি বড়ই শক্তিশালী ক্ষমতাধর। এরা কাউকে তোয়াক্কাই করেন না। নদীর কূল ঘেষে সারিবদ্ধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলনের ফলে নদীর সাথে সংযোগ ক্যানেল তৈরী হয়। যার ফলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ভাঙ্গনের তীব্রতা ব্যাপক আকার ধারণ করে। তবে এখন থেকে ১০ বছর পূর্বে রৌমারী, কর্তিমারী, সায়দাবাদ, শিবের ডাঙ্গি ও রাজিবপুর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ছিল ব্র্হ্মপুত্র নদের অবস্থান। কিন্তু আজ কালের আবর্তে মানুষের অবৈধ দৌরাত্ব ও নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করার মানসে এমন ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এখনই নদী ভাঙ্গন রোধ না করলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা।
ব্রহ্মপুত্রের পশ্চিম পারে কয়েক বছর আগে পার নির্মাণের ফলে অনেকটা ভাঙ্গন রোধ হলেও রৌমারীতে বছরের পর বছর কোন প্রকার নদী শাসনের কাজ না করায় নদী তার খেয়াল খুশিমত ভেঙেই চলছে। নদের পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ঘুঘুমারী, পাখিউড়া, বলদমারা, খেদাইমারী, বাইশপাড়া, খঞ্জনমারা, ফলুয়ারচর, বাঘমারা, কান্দাপাড়া, চর ইটালুকান্দাসহ প্রায় ৪০ কিলোমিটার নদী কূলীয় গ্রাম নদী ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ ব্যাপারে বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব আলী, আবু সামা, গিয়াস উদ্দিন, আব্দুল খালেকসহ অনেকে ভিন্নবার্তা ডটকমকে জানান, জরুরিভাবে নদী ভাঙ্গন রোধে সরকারি সহায়তা দরকার। ১০ বছরে শতাধিক মানুষ জমিজিরাত ভিটেমাটি সহায় সম্বল হারিয়ে কেউ রাস্তার পার্শ্বে, অন্যের ভিটায়,কেউ এলাকা ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে শহরের অলিগলি বস্তিতে। তবে এ অঞ্চলে নদী ভাঙ্গনের মূল কারণ অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলন বাণিজ্য। সাংবাদিকরা পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করার পর রৌমারীর ইউএনও ড্রেজারগুলোর পাইপ কেটে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আবারও তারা পাইপ বসিয়ে বালু উত্তোল করেছেন। তারা বলেন, পানি আসতে না আসতেই যে ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে মনে হয় এবার আর রক্ষা নেই। এভাবে ভাঙতে থাকলে ডিসি সড়ক, কর্তিমারী বাজার, ৮/১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৩টি ঈদগাহ মাঠ, ২টি কবরস্থানসহ অনেক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্রহ্মপুত্রে বিলীন হয়ে যাবে।
ভাঙন নিয়ে কথা বললে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল ইমরান ভিন্নবার্তা ডটকমকে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে আমার কথা হয়েছে, ঈদের পরে তারা এলাকা সফর করে ব্যবস্থা নেবেন।
ভিন্নবার্তা ডটকম/প্রতিনিধি/এসএস