
রাজধানীসহ সারাদেশে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। যদিও এ নিয়ে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে বেসরকারিভাবে কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদিকে, নগরীতে ডেঙ্গু নিধনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করে মামলা ও জরিমানা করা হচ্ছে। এছাড়া, ডেঙ্গু থেকে কিভাবে রক্ষা পাওয়া যায় সে বিষয়েও চলছে প্রচারণা। তবুও সচেতন হচ্ছে না নগরবাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে করোনা সংক্রমণের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু সংক্রমণ। করোনার হার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার এই সময়টাতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রæত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। রাজধানীতে মশা নিধনের দায়িত্বে থাকা দুই সিটির সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলছে, যেহেতু এডিস মশা পরিষ্কার পানিতে জন্মায় এবং এর উৎস বাসা-বাড়িতেই বেশি থাকে, তাই মশা নিধনে জনগণ সচেতন হয়ে পদক্ষেপ না নিলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না। আমরা নগরবাসীকে প্রতি নিয়ত সচেতন করছি। তবুও তারা সচেতন হচ্ছে না। যার ফলে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে।
জানা গেছে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ৮১১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ৬৫০ জনই ঢাকায়। চলতি বছরে এ পর্যন্ত আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ঢাকায় আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ৩৯৫ জন। আর ঢাকার বাইরে এই সংখ্যা ৭০ জন। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সাথে এভাবে পাল্লা দিয়ে ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়ায় চরম উদ্বগ্ন দেশবাসী। সরকারি হিসাবে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু সংক্রমণ হয়েছিল ২০১৯ সালে। সেবছর এক লাখের বেশি মানুষ রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আর মারা গিয়েছিলেন ১৭৫ জনের বেশি। তবে বেসরকারিভাবে মৃতর সংখ্যা আরো অনেক বেশি বলে ধরা হয়। এরপর ২০২০ সালে ১ হাজার ৪০৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন, আর চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই ২ হাজার ৩৯৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার রোগীদের মধ্যে শতকরা ৯৭ ভাগের বেশিই রাজধানী ঢাকায়। ফলে এ বিষয়ে ঢাকাবাসীকে সচেতন না হওয়ার বিকল্প নেই বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতেই অনেকটা বেগ পেতে হচ্ছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে। সেখানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হলে, সংক্রমণ থামানো ছাড়া আর কোন পথ নেই। সেক্ষেত্রে অতি দ্রæত পদক্ষেপ নিতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ডা. রোবেদ আমিন বলেন, হাসপাতালের আইসিইউগুলো কোভিড রোগীদের চিকিৎসাতেই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে ডেঙ্গু রোগীরা কিছুটা সংকটের মুখে পড়ছেন। এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে নন-কোভিড কয়েকটি হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গুর জন্য নির্ধারিত করা যায় কিনা সে বিষয়ে চিন্তা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জোবায়দুর রহমান বলেন, এবছর যে ডেঙ্গু সংক্রমণ বেশি হবে তা আমরা আগেই সন্দেহ করেছিলাম। তিনি বলেন, এর কারণ হচ্ছে, ভাইরাসজনিত রোগের ক্ষেত্রে প্রতি এক বছর অন্তর সংক্রমণের সংখ্যা বেশি হয়। ২০২০ সালে যেহেতু ডেঙ্গুর সংক্রমণ কম ছিল, তাই এবছর বেশি হবে, সেটাই আমাদের আশঙ্কা ছিল। তবে আমরা ডেঙ্গু নিধনে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমাদের মশক নিধন কর্মীরা এ নিয়ে কাজ করছে। আশা করি শিগগিরই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তবে এ বিষয়ে নগরবাসীকে আরো সচেতন হতে হবে। নগরবাসী সচেতন হলে পুরোপুরিভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জোবায়দুর রহমান আরো বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণের দায় যেমন কর্তৃপক্ষের রয়েছে ঠিক তেমনি নাগরিকদেরও রয়েছে। তিনি বলেন, জনসচেতনতা যদি তৈরি না হয় তাহলে মশা মারার জন্য কীটনাশকের ব্যবহার দ্বিগুণও করে দেয়া হয়, কিংবা জনবলও যদি দ্বিগুণ বা তিনগুণও করা হয় তাহলেও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসবে না।
ভিন্নবার্তা/এমএসআই