
গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) কম্পিউটার চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে যুবলীগ নেতা পলাশ শরীফকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত সোয়া ১২টায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা যুবলীগ সভাপতি জাহেদ মাহমুদ বাপ্পী ও সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মো. ফিরোজ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গোপালগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে পলাশ শরীফ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংগঠনের সকল প্রকার কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকারও আদেশ দেওয়া হয়েছে।
পলাশ শরীফ গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস-চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তার ভাই আমিনুল ইসলাম শরীফ ওরফে লাচ্চু শরীফ একই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা পলাশ শরীফ জানায়, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন। মূলত রাজনৈতিক ও পারিবারিকভাবে হেয় করার জন্য একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে হোটেল ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন জানিয়ে এই নেতা আরও বলেন, আটক দুলালের সঙ্গে তার কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই। তাকে ফাঁসানোর জন্য দুলাল মিথ্যা তথ্য দিয়েছে বলে দাবি করে কম্পিউটার চুরির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছেন পলাশ শরীফ।
প্রসঙ্গত, ঈদের ছুটির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পেছন দিকের জানালা ভেঙে ৪৯টি কম্পিউটার চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত ১০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. প্রফেসর নূরউদ্দিন আহমেদ বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা করেন।
এরপর গত বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার মহাখালীর ‘জিসান ইন্টারন্যাশনাল’ হোটেলে অভিযান চালিয়ে একটি কক্ষ থেকে ৩৪টি কম্পিউটার উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় হুমায়ুন ও দুলাল নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানান, হোটেল ব্যবসায়ী গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি পলাশ শরীফসহ একটি চক্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ ঘটনার পর থেকে পলাশ শরীফ পলাতক রয়েছে।
ভিন্নবার্তা ডটকম/এসএস