কাঙ্ক্ষিত টিকিট তারা পাচ্ছেন সৌদি প্রবাসীরা। যদিও এখনও তাদেরকে একটি টিকিটের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দাঁড়াতে হচ্ছে লম্বা লাইনে।
এই অবস্থায় প্রবাসীরা বলছেন, টিকিট ইস্যুর কাউন্টার বাড়ানোর পাশাপাশি ফ্লাইট বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। সৌদি এয়ারলাইন্স বা বাংলাদেশ বিমান আরও ফ্লাইট বাড়াতে পারলে আরও অধিক প্রবাসী ভিসা-ইকামার মেয়াদ থাকতে থাকতেই সৌদি আরব ফেরত যেতে পারবেন তারা।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় সৌদি এয়ারলাইন্সের অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় তিন শতাধিক প্রবাসী টিকিটের জন্য ভীড় করেছেন। বাইরে অপেক্ষায় আছেন আরও শতাধিক প্রবাসী। এদিন ১৪-২৯ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের ভিসার মেয়াদ আছে তাদেরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একটি লাইনে দাঁড় করানো হয়। আর যাদের ভিসার মেয়াদ ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত রয়েছে তাদেরকে বেশ কয়েকটি লাইনে দাঁড় করানো হয়। দেয়া হয় টিকিট।
খুলনা থেকে এসেছিলেন মো. জালাল উদ্দিন ভূঁইয়া। তিনি বলেন, একবার কথা বলে এসেছি এয়ারলাইন্সের ভেতর থেকে। ১৫ অক্টোবরের টিকিট দেয়া হবে বলে জানিয়েছে। বর্তমানে এখানে ভিসার মেয়াদের ভিত্তিতে টিকিট দেয়ার যে নিয়ম চালু করেছে এটি বেশ ভালো। এই নিয়ম আগে করলে ভিসার মেয়াদ থাকতে থাকতেই অনেকে ফিরতে পারতেন। টিকিট ইস্যুর কাউন্টার বাড়ানো দরকার। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। আর ফ্লাইট বাড়ানোও খুব জরুরি। তাহলে আরও অনেক প্রবাসী ফিরতে পারবেন। রুজি-রোজগারের পথটা নিশ্চিত হবে।
নরসিংদীর প্রবাসী ফারুক আহমেদ বলেন, আমাদের কোম্পানি থেকে করোনার আগে মোট ২৭ জন এসেছিলাম দেশে। এখন পর্যন্ত ফিরতে পেরেছে ৪ জন। আরও যেতে পারবেন আমিসহ ৩ জন। বাকি ২০ জনই ফিরতে পারবেন না। কারণ তাদের ভিসা-ইকামার মেয়াদ বাড়ানো যাচ্ছে না। কোম্পানিও সেটা বাড়াতে চাচ্ছে না। এই অবস্থা কিন্তু সেখানকার বেশিরভাগ কোম্পানিতেই।
তিনি আরও বলেন, আসলে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক অবস্থাও খুব একটা ভালো না। আগের চেয়ে কাজের সুযোগ অনেক কমে গেছে। তাই কোম্পানি বা কফিলকে (নিয়োগদাতা) বলেও অনেকে ভিসা-ইকামার মেয়াদ বাড়াতে পারছেন না।
এদিকে মঙ্গলবারও কারও কারও বুকিং করা রিটার্ন টিকিটের টাকা উঠিয়ে নেয়ার ঘটনা দেখা গেছে। তারা নিরুপায় হয়ে প্রায় লাখ টাকা খরচ করে নতুন করে রিটার্ন টিকিট ইস্যু করছেন।
এ বিষয়ে সৌদি এয়ারলাইন্সের ম্যানেজার (সেলস) ওমর খৈয়াম বলেন, রেগুলার ফ্লাইটের পাশাপাশি আমরা স্পেশাল কিছু ফ্লাইটও পরিচালনা করছি প্রবাসীদের ফিরিয়ে নিতে। আর এসব ফ্লাইটের খরচ সবদিক থেকেই বেশি। সেই কারণেই টিকিটের দাম একটু বেশি। আমরা কাউকে বেশি দামে টিকিট কিনতে বাধ্য করছি না। যার প্রয়োজন তিনি কিনছেন।
ফ্লাইটের বিষয়ে তিনি বলেন, সপ্তাহে এখন প্রায় ১০-১২টি ফ্লাইট পরিচালনা করছি আমরা। ইতোমধ্যে ৮ হাজার প্রবাসী আমাদের মাধ্যমে ফিরে গেছেন। সৌদি এয়ারলাইন্সের কর্মীরা দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। সমস্যার সমাধান অনেকখানি হয়েছে। আগামীতে আরও হবে।
জানা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বর্তমানে সৌদি আরবে সপ্তাহে ৯টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
ভিন্নবার্তা/এসআর
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051