
মোস্তাফিজুর রহমান তারা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) থেকে: কুড়িগ্রামের চিলমারী–রৌমারী নৌপথে ফেরি চলাচলের সম্ভাবনা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। একে একে ফেরি ‘কুঞ্জলতা’র পর এবার ‘কদম’ও নৌপথ ছেড়ে নিজ গন্তব্যে ফিরে গেছে। ফলে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত চিলমারী–রৌমারী নৌ-যোগাযোগ চালু রাখার উদ্যোগে নতুন করে হতাশা দেখা দিয়েছে দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে।
চিলমারী নৌ-বন্দরটি দেশের অন্যতম প্রাচীন নৌবন্দর হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার পর নানা চড়াই-উতরাই, অব্যবস্থাপনা ও নাব্যসংকটের কারণে দীর্ঘ সময় অনেকটা নিষ্ক্রিয় ছিল বন্দরটি। পরে যানবাহন পারাপার ও স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বিগত সরকারের শেষ দিকে এ নৌপথে দুটি ফেরি চালু করা হয়। ফেরি চলাচল শুরু হলে দীর্ঘদিন পর চিলমারী নৌ-বন্দর এলাকায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে।
নৌ-বন্দরকে স্থায়ী ও কার্যকর করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে তৎকালীন নৌমন্ত্রীও চিলমারী নৌ-বন্দর পরিদর্শন করেন। এতে রৌমারী, চিলমারী ও আশপাশের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়। কিন্তু সেই আশা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যসংকটই এ নৌপথে ফেরি চলাচলের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রৌমারী থেকে চিলমারীর সরাসরি নৌপথের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার হলেও নাব্যসংকটের কারণে ফেরিকে অনেক সময় নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হয়। এতে সময় ও জ্বালানি—দুটিরই অপচয় হয়। পাশাপাশি ফেরি পরিচালনার ব্যয় বেড়ে যায় এবং নিয়মিত চলাচল ব্যাহত হয়।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, নৌপথের বিভিন্ন স্থানে ড্রেজিং কার্যক্রমের জন্য যন্ত্রপাতি থাকলেও কার্যকর ও নিয়মিত খনন না হওয়ায় নাব্যসংকট কাটছে না। ফলে কখনো ফেরি বন্ধ, আবার কখনো সীমিত পরিসরে চলাচল—এভাবেই চলছে দীর্ঘদিন ধরে।
এদিকে দিনের পর দিন ফেরি বন্ধ থাকায় পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষকেও লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। শেষ পর্যন্ত চিলমারী–রৌমারী নৌপথ থেকে ফেরি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে ‘কুঞ্জলতা’র পর ‘কদম’ও ফিরে গেছে নিজ গন্তব্যে।
ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু যানবাহন পারাপারই ব্যাহত হচ্ছে না, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন, রোগী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। বিশেষ করে রৌমারী–চিলমারীসহ আশপাশের চরাঞ্চলের মানুষের জন্য এ নৌপথটি ছিল স্বল্প সময়ে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ব্রহ্মপুত্রের নাব্যসংকট নিরসনে কার্যকর ড্রেজিং, নির্দিষ্ট নৌপথ চিহ্নিতকরণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা না হলে ফেরি চালু করেও সুফল পাওয়া যাবে না।
তাদের দাবি, চিলমারী–রৌমারী নৌপথকে স্থায়ীভাবে সচল করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় দুই পাড়ের মানুষের শত বছরের নৌ-যোগাযোগের স্বপ্ন বারবার বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে এসে থমকে যাবে।
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051