কুষ্টিয়ায় ১১৫ জন স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম-দুর্নীতি ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এনে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ফটকে তালা দিয়েছেন কয়েকজন বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থী।
শুক্রবার পরীক্ষার পর শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় চাকরি প্রত্যাশিরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ফটকে অবস্থান নেন। এ সময় তাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষও ছিলেন।
পরে তারা ফটকে অনিয়ম-দুর্নীতির ব্যানার টাঙ্গিয়ে তালা দিয়ে দেন। সেই সঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল, প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।
২০২৪ সালের ২৩ এপ্রিল রাজস্ব খাতভুক্ত তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ১১-২০তম গ্রেডে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সাতটি ভিন্ন ভিন্ন পদে মোট ১১৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
কুষ্টিয়া শহরের ১১টি কেন্দ্রে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এ নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
চাকরি প্রত্যাশী তারিব রহমান প্রান্ত অভিযোগ করেন, “শুক্রবার ভোর রাতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমামের বাসভবন থেকে এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে।
“২৫ থেকে ৩০ পরীক্ষার্থীকে দুটি অ্যাম্বুলেন্স ও অটোরিকশায় করে আরএমওর বাসায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাদের প্রশ্ন দেখিয়ে ও ডমি খাতায় পরীক্ষা নিয়ে প্রস্তুত করে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করানো হয়।”
এই পরীক্ষার্থীর অভিযোগ, “শুনতে পেয়েছি, এই চাকরির জন্য চুক্তিবদ্ধ প্রার্থীদের কাছ থেকে ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। ভেবেছিলাম, নতুন সরকারের আমলে দুর্নীতি কমবে। কিন্তু বাস্তবে তা আরও বেড়েছে।”
তবে, এই অনিয়ম-দুর্নীতি ও প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে পরীক্ষার্থীরা কোথাও কোনো অভিযোগ করেননি।
নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুত করা হচ্ছে, এমন খবর পেয়ে শনিবার দুপুরে সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে জড়ো হন বলে জানান পরীক্ষার্থীরা। দাবি মানা না হলে লাগাতার আন্দোলনের হুমকিও দিয়েছেন তারা।
তবে এ নিয়ে তারা কোনো লিখিত অভিযোগ কাউকে দেননি বলে জানান।
এদিকে প্রশ্নফাঁস বা এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আরএমও হোসেন ইমাম।
তিনি বলেন, “শুক্রবার সকালে কয়েকজন ছাত্রীকে আমার বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে দেখে সেটা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে আমাকে জড়িয়ে কুৎসা রটানো হচ্ছে। প্রকৃত অর্থে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনোভাবেই পক্ষভুক্ত ব্যক্তি নই।”
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা সিভিল সার্জন শেখ কামাল হোসেন, “এখানে আমার কিছু করার নেই। আমি অসহায়। এই নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণের জন্য একটি পরীক্ষা কমিটি গঠিত হয়েছে। উনারাই ভালো বলতে পারবেন আসলে কী হয়েছে?”
তবে কেউ অভিযোগ দিলে এর কোনো সত্যতা আছে কি-না সেটাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান সিভিল সার্জন।
নিয়োগ পরীক্ষা কমিটির সদস্য অতিক্তি জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।”
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051