শিক্ষার্থীদের এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরীক্ষা ছাড়া শিক্ষার্থীদের সনদ দিলে পেশাগত জীবনে তারা বিপাকে পড়তে পারেন। চাকরিদাতারা এসব শিক্ষার্থীর যোগ্যতা নিয়ে করতে পারে বিদ্রূপও। এজন্য তাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই পরীক্ষা নিতে চায় মন্ত্রণালয়। আর এই পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে আগামী সপ্তাহে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে হবে। এক্ষেত্রে সিলেবাস না কমলেও বিষয় কমিয়ে আনার চিন্তাভাবনা করছে সরকার।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সিলেবাস কমানোর সুযোগ নেই। কারণ করোনার আগেই সিলেবাস সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে, পরীক্ষার বিষয় কমানো যায় কি না, তা নিয়ে ভাবা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এখন দু’টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। প্রথমত আগের পরীক্ষাগুলোর আলোকে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা। দ্বিতীয়ত, পরীক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা। তবে, এই পরীক্ষা না নিয়ে মূল্যায়ন করতে গেলে কিছু সমস্যা হতে পারে। তাই পরীক্ষার মাধ্যমেই সনদ দেওয়ার পক্ষে মন্ত্রণালয়।
জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকতা বলেন, ‘অনেকে পরীক্ষা না নিয়ে আগের পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করে সার্টিফিকেট দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। এই পদ্ধতি কতটা কার্যকর হবে, বলা যাচ্ছে না। এছাড়া, পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করলেও কিছু বিষয় কমিয়ে আনা যেতে পারে। বেসিক বিষয়গুলোকে ধরে পরীক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা যায়। এক্ষেত্রে খুব বেশি সময় লাগবে না। পরীক্ষার সব প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে।’
এর আগে, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা বিষয়ক সাংবাদিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল সভায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘পরীক্ষা কবে কখন কিভাবে নেওয়া যাবে, সে বিষয়টি আগামী সপ্তাহের সোমবার-মঙ্গলবার বিস্তারিত জানানো যাবে। তবে পরীক্ষা যখনই হোক, প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে। কেউ কোনো কারণে পরীক্ষা দিতে না পারলে তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পরীক্ষার্থীদের অনেক পরীক্ষা না নিয়ে আগের পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করে সনদ দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছি। তবে, পরীক্ষা ছাড়া সনদ দিলে তারা যখন চাকরি নিতে যাবে, তখন বলা হবে, ‘‘ও তোমরা ২০২০ সালের পরীক্ষা ছাড়া পাস করা ব্যাচ?’’ এমন পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, সেজন্য পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন শুধু পরীক্ষা বাকি।’ তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে কেউ যদি বিশেষ কারণে পরীক্ষা দিতে না পারে, তবে তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হবে।’ সব কিছু আগামী সপ্তাহে জানানো হবে বলেও তিনি জানান।
ভিন্নবার্তা/এমএসআই
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051