ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা মো. নাজমুল হাসান সোহাগের তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এই নেতা বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক।
বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কনক বড়ুয়া আসামির রিমান্ডের এ আদেশ দেন।
এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। অপরদিকে আসামিপক্ষে রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করা হয়। আদালতে আসামির রিমান্ড শুনানি করেন বাদী আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে রিমান্ডের ওই আদেশ দেন।
এর আগে ৪ নভেম্বর বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর বংশাল থানাধীন রায়েসাহেব বাজার মোড় থেকে আসামি নাজমুল হাসান সোহাগকে গ্রেফতার করা হয়। এরও আগে এ মামলায় ১৫ অক্টোবর রিমান্ড শেষে ছাত্র অধিকার পরিষদের সহসভাপতি নাজমুল হুদা ও যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা ভিকটিমের সঙ্গে একসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন। সেই সুবাদে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনের (আসামি) সঙ্গে পরিচয় হয় এবং তার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। মামুন ভিকটিমকে শারীরিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেন। গত ৩ জানুয়ারি দুপুর ২টার দিকে মামুন ভিকটিমকে তার লালবাগের বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গেলে মামুন ভিকটিমকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এরপর থেকেই আসামি মামুন আত্মগোপন করেন।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি মামুনের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেয়ার কথা বলে সোহাগ কৌশলে ভিকটিমকে নিয়ে চাঁদপুরে যায়। চাঁদপুর পৌঁছানোর পর ভিকটিমের সন্দেহ হয়। তখন সোহাগকে দ্রুত ঢাকা ফেরার কথা বলেন ভিকটিম। ভিকটিমকে নিয়ে সোহাগ বিকালে লঞ্চের কেবিনে অবস্থান করে। সেখানে সোহাগ ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানালে সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দেন নূর। পরে ভিকটিমকে নূর হুমকি দিয়ে বলেন, বেশি বাড়াবাড়ি করলে তাকে পতিতা বানিয়ে ছাড়বে এবং তার ভক্তদের দিয়ে উল্টাপাল্টা পোস্ট করাবে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। ধর্ষণের শিকার ঢাবি শিক্ষার্থী নিজে বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
এর আগে একই শিক্ষার্থী গত ২০ সেপ্টেম্বর লালবাগ থানায়ও একটি ধর্ষণ মামলা করেন। সেখানেও ওই ছয়জনকে আসামি করা হয়। এছাড়া ফেসবুকে মানহানিকর পোস্ট দেয়ায় নূরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরেকটি মামলা করেন ধর্ষণের শিকার ওই শিক্ষার্থী।
ভিন্নবার্তা/এসআর
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051