
যদি ‘না’ ভোট বিজয়ী হয় তাহলে বাংলাদেশ ধ্বংস হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নেত্রকোণা-৫ আসনে (পূর্বধলা) জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক মাছুম মোস্তফার নির্বাচনী জনসভায় জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এ সময় তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে আমাদের বিজয়ী করতে হবে। যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হয় তাহলে বাংলাদেশ বাঁচবে। আর যদি ‘না’ ভোট বিজয়ী হয় তাহলে বাংলাদেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। এ ধ্বংসের হাত থেকে বাংলাদেশকে আর কেউ রক্ষা করতে পারবে না। সুতরাং ১২ তারিখ আমাদের দুটো দায়িত্ব। একটা হচ্ছে হ্যাঁ ভোটকে বিজয়ী করা। আরেকটা দায়িত্ব হচ্ছে ১১ জোটের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা সহ যে প্রতীক যেখানে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে সে প্রতীককে বিজয়ী করা। এ দুটো ঐতিহাসিক দায়িত্ব আপনাদের উপর অর্পিত হয়েছে। আপনারা সকল ভাই-বোনেরা এই দুটো দায়িত্ব নিজেরা পালন করবেন এবং ভোটারদেরকে এ দুটো দায়িত্ব পালনের জন্য আপনারা উদ্বুদ্ধ করবেন।
তিনি আরো বলেন, আমরা একটি ফ্যাসিস্ট সরকারকে দেখতে পেরেছি। যারা অন্যায়, জুলুম, অত্যাচার, হামলা-মামলা, গুম-খুন, নির্যাতন-লুটপাটের মধ্য দিয়ে এ বাংলাদেশটাকে অন্ধকার দেশ হিসেবে, অন্ধকার যুগ হিসেবে পরিগণিত করেছে। এত পরিমান জুলুম রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হয়েছে যে বাংলাদেশ আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকারকেও হার মানিয়েছে। শেখ হাসিনার সময় পল্টন মোড়ে আমাদের ভাইদেরকে লগি-বইটা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে, লাশের উপরে নৃত্য করেছিল তারা। সুতরাং এই শেখ হাসিনার শেষ হলো মনটা আইয়ামে জাহেলিয়াতের চেয়ে আরো জঘন্য ছিল।
তিনি বলেন, পাঞ্জাবিদেরকে আমরা দোষারোপ করি, বাংলাদেশের মা বোনদেরকে অত্যাচার করেছে, লুটপাট করেছে। কিন্তু আমি বলতে চাই শেখ হাসিনার ১৫ বছর পাঞ্জাবীদের কেউ হার মানিয়েছে। এভাবে তারা লুটপাট করেছে, বিভিন্নভাবে দুর্নীতিতে তারা নিমজ্জিত হয়ে পড়েছিল। হাজার হাজার আলেম-ওলামা, ইসলামী ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদেরকে বছরকে বছর জেলখানায় অবর্ণনীয় জুলুম নির্যাতন করা হয়েছে। তখন অবস্থাটা এমন ছিল ওই ছোট জেলখানাটা নিরাপদ। গোটা বাংলাদেশ যে জেলখানাটা ছিল সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর। রাস্তাঘাটে কোথাও স্বস্তি নিয়ে মানুষ চলাফেরা করতে পারেনি। এই ধরনের একটি বর্বর যুগ, এই ধরনের অন্ধকার যুগ, এই ধরনের একটি জুলুমের যুগ, এই ধরনের একটি খুন-খারাবি লুটপাটের যুগ আমরা পার করে এসেছি ।
নারীদের প্রসঙ্গে নিয়ে তিনি বলেন, আমরা এমন একটি সমাজ ব্যবস্থা তৈরি করব যেখানে যেখানে নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে না। নারীদের উপর কেউ ইভটিজিং করতে পারবেনা, স্বামী তাদের উপর নির্যাতন করতে পারবে না, তাদের সম্পদ দখল করতে পারবে না, মিরাজ থেকে তাদের বঞ্চিত করতে পারবেনা। নারীদের শিক্ষা-দীক্ষা উন্নয়ন কর্মকান্ড এগুলোতে আমরা তাদেরকে শামিল করবো।
এ সময় তিনি আরো বলেন, জামায়েত ইসলামী যদি ক্ষমতায় যায় অমুসলিমদের বাংলাদেশে আমাদের মত সমমর্যাদায় নাগরিক রূপে এখানে তাদেরকে থাকতে দেবো, বসবাস করতে দেবো । কোন অমুসলিমের উপরে কেউ কোনো জুলুম করতে পারবে না। কোন অমুসলিমের জায়গা কেউ দখল করতে পারবে না। তাদের পূজায় কেউ আক্রমণ করতে পারবে না। এভাবে আমরা মুসলিমদেরকে এখানে শান্তিতে বসবাস করতে দেবো।
সুতরাং অমুসলিমরা তাদের দেশে যেভাবে শান্তিতে আছে এর চেয়ে বেশি শান্তিতে তারা এখানে বসবাস করতে পারবে। আমাদের শাসন দেখে, আমাদের চরিত্র দেখে, আমাদের মহানুভবতা দেখে তারা নিজেরাই রাজি হয়ে যাবে যে ইসলামের মতন এই সুন্দর জীবন আদর্শকে আমাদের কবুল করা উচিত। আমরা জোর করে কাউকে মুসলমান বানাবো না।
এছাড়াও জনসভায় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, নেত্রকোণা-৫ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাসুম মোস্তফা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেত্রকোণা জেলা শাখার আমির মাওলানা ছাদিক আহমাদ হারিছসহ জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ।