অবশেষে ৪০ টাকা কেজিতে নেমেছে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম। এক মাস আগে এই পেঁয়াজ ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। আর দেশি পেঁয়াজ আগের মতো কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা। কমে এসেছে কাঁচা মরিচের দামও। দাম কমার তালিকায় রয়েছে আটা, ময়দা, ব্রয়লার মুরগি ও ফার্মের ডিমের দাম। এছাড়া সব ধরনের মসলার দাম কমেছে। কমে আসছে শীতের সবজির দাম। বাড়েনি বোতলজাত সয়াবিনের দামও। তবে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ করে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ৪০ টাকায় নেমেছে। গত মাসের শুরুতে যা ১০০-১১০ টাকা কেজি কিনতে হয়েছে। আগের দামে আলু পাওয়া যাচ্ছে।
কাওরান বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আবদুল আলিম বলেন, ‘এক মাস আগে আলু ৪০ টাকায় বিক্রি করেছি। মাঝখানে ৬০ টাকা হয়েছিল। এখন কমে ৪০ টাকায় নেমেছে। তবে বাজারে আসা নতুন আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা করে।
রাজধানীর মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা বলেন, শীতে সয়াবিন ও পাম তেল জমে যায়। এ কারণে এই সময়ে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম কিছুটা বেড়ে যায়। এছাড়া সব পণ্যের দামই এখন নিম্নমুখী।
রাজধানীর মানিকনগর বাজারের চাল ব্যবসায়ী রাজিবুল বলেন, গত এক মাস ধরে চালের দাম এক টাকাও বাড়েনি। বরং সব ধরনের চালের দামই কমেছে। এক মাস আগে মোটা চাল (ভালো) ৫০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। এখনও সেই চাল ৫০ টাকায় দিচ্ছি। তবে চালের দাম কিছুটা কমছে। ৪৫ টাকাতেও মোটা চাল বিক্রি করছেন বলে জানান তিনি।
সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির হিসাবে, গত এক মাসে চালের দাম না বাড়লেও গত এক বছরে মোটা চালের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।মানিকনগর এলাকার বাসিন্দা গোলাম কিবরিয়া কামাল বলেন, ‘গত এক মাসে আলুর দাম চড়া হলেও এখন ৪০ টাকাতেই কেনা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচের দামও কমেছে। সব ধরনের জিনিসপত্রের দামই আগের মতো। তবে মসুর ডালের দাম আগের চেয়ে বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত এক মাসে দাম কমেছে সব ধরনের আটা ও ময়দার। তবে গত বছরের তুলনায় সাদা আটার দাম বেড়েছে ২ শতাংশের মতো।
বাড়েনি ব্রয়লার মুরগি দাম। গত মাসের মতোই ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম হালিতে ২ টাকা কমেছে। প্রতি ডজন বাদামি ডিমের দাম ১০০-১০৫ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিম ১৮০ টাকা ও হাঁসের ডিম ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গত এক মাসে দাম কমার তালিকায় রয়েছে আদা, রসুন, জিরা, হলুদ, দারুচিনি, লবঙ্গ, ধনে পাতা ও তেজপাতাসহ সব ধরনের মসলা। বাজারে চীনা রসুনের দাম এখন প্রতিকেজি ১০০-১২০ টাকা এবং দেশি রসুন ১২০-১৪০ টাকা।
বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মোটা দানার মসুর ডালের দাম কেজিপ্রতি ৫-৮ টাকা বেড়েছে। কাওরান বাজারের খুচরা দোকানে ছোট দানার মসুর ডাল ১০০-১১৫ টাকা ও মোটা দানা ৭০-৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়। একই বাজারে প্যাকেটজাত মসুরের ডাল ১২৫-১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছিলেন বিক্রেতারা। নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে খুচরা বিক্রেতারা পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন।
পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারেই বাড়তে শুরু করেছে দাম।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্যার পানি কমে যাওয়ার কারণে মাছ বেশি পাওয়া যাচ্ছে। যার ফলে মাছের বাজারে কিছুটা স্বস্তি বিরাজ করছে।
শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে। গাজর ৭০ টাকা, পাকা টমেটো ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিমের সরবরাহ বাড়ায় দামও কিছুটা কমেছে। মানভেদে ৮০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট সাইজের প্রচুর ফুলকপি ও বাঁধাকপি উঠেছে বাজারে। ছোট প্রতিটি বাঁধাকপি ও ফুলকপির দাম ৪০-৫০ টাকা করে। বরবটি, বেগুন, উচ্ছে ৮০-১০০ টাকা, ৬০-৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ঢেঁড়স। পটল, শসা, ঝিঙা, ধুন্দুল, কচুর লতি, কাঁকরোল ও শসার কেজি ৬০-৭০ টাকা। এছাড়া লাউয়ের পিস ৭০-৮০ টাকা। এক হালি কাঁচা কলা বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। আড়াইশ’ গ্রাম কাঁচা মরিচ ৩০-৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
ভিন্নবার্তা/এমএসআই
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051