দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সমন্বয়হীণতা আর লোভ-লালসা আর চাঁদাবাজি ও স্বেচ্ছাচারিতায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে তৃণমূল আওয়ামী লীগে। এসব কারণেই দলের অভ্যন্তরে কোন্দল এখন প্রকাশ্যে। বিভিন্ন স্থানে ঘটছে সংঘাত, বাকযুদ্ধ, হানাহানি এবং আহত-নিহতের ঘটনা। অধিকাংশ জেলা-উপজেলায় আওয়ামী লীগের শত্রু আওয়ামী লীগই। ভয়াবহ কোন্দলে বিপর্যস্ত দলের তৃণমূল। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য বলেন, ইতিমধ্যে দলে বিশৃঙ্খলাকারিদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে হাইকমাণ্ড। এরপরও দলে চাঁদাবাজি-বিশৃঙ্খলা ও স্বেচ্ছাচারিতাকারিরা শিক্ষা নিচ্ছে না।
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, যেখানে চাওয়া-পাওয়ার হিসেব-নিকেশ জড়িত থাকে, সেখানে সহসায় উত্তরণ সম্ভব নয়। তিনি বলেন, জেলা-উপজেলা পর্যায়ের দলীয় নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরো সর্তক হতে হবে। পদ-পদবী না থাকলে কেউ চাঁদাবাজি-বিশৃঙ্খলা ও স্বেচ্ছাচারিতা করার সাহস পাবে না। একইসাথে জেলা-উপজেলা ও পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সবার আগে বংশপরায়ন আওয়ামী লীগ এবং চরিত্র বিবেচনায় নিতে হবে। তাহলে একটি পরিচ্ছন্ন ও জনকল্যানময় আওয়ামী লীগ উপহার দেয়া সম্ভব হবে।
সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব পাওয়ার মাস পেরোনোর আগেই সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কে. এম. হোসেন আলী হাসানের বিরুদ্ধে বিতর্কিত নানা কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। তার মেয়ে সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাসনা হেনার বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ,সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। গত ২২ নভেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লতিফ বিশ^াস এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. হাবিবে মিল্লাতকে তাদের পদ থেকে অব্যাহত দেয়া হয়।
কে এম হোসেন আলী হাসান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং আবদুস সামাদ তালুকদার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। দায়িত্ব পাওয়ার পর পরই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হোসেন আলী হাসান দল এবং জেলার সরকারী দপ্তরগুলোতে নিজের আধিপত্য বিস্তারে তৎপর হয়ে উঠেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে হাসনা হেনা বলেন, নিশ্চয় আমাদের এলাকার আরো লোকজনের সাথে আপনার কথা হয়েছে। তারা কি বলেছে? আর আপনাকে এসব আজগুবি তথ্য কে দিয়েছে, বলে ফোন কেটে দেন। তবে একাধিক বার ফোন করেও কোনো বক্তব্যে পাওয়া যায়নি সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কে. এম. হোসেন আলী হাসানের।
ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হোসেন আলী হাসান দায়িত্ব পাওয়ার পর বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন পদ দিয়েছেন। সন্ত্রাসীদের নিজের গ্রুপে ভিড়িয়ে তৃণমূলের অনেক নেতা-কর্মীকে হয়রানি করছেন। পৌর নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে দলীয় মনোনয়নের জন্যই তিনি বিপুল পরিমান টাকা নিয়েছেন। এরমধ্যে সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ২ কোটি টাকা এবং শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী তরু লোদীর কাছ থেকে ১ কোটি টাকা নেয়ার ঘটনা আলোচনায় এসেছে। কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো.উসমান শিকদার দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
উসমান টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের কচুবনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর ছেলে এবং সাবরাং ইউনিয়নের যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এরআগে ঢাকার ধামরাইয়ে পৌরসভা নির্বাচনে সহিংসতার কারণে পৌর যুবলীগের সভাপতি আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ভাঙচুরের মামলা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধামরাই থানার পরিদর্শক (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা। এর আগে ২৯ ডিসেম্বর রাতে ধামরাইয়ে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এই হামলার ঘটনা ঘটে। পরে ৩১ ডিসেম্বর আমিনুর রহমানসহ ৩৫ জনের নামোল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী মনিরুজ্জামান। ধামরাই থানার মামলা নম্বর ২৬। ধামরাই পৌরসাভা যুবলীগ সভাপতি আমিনুর রহমান ৩ নম্বর আসামি।
ভিন্নবার্তা/এমএসআই
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051