
জয়ের জন্য ১৫১ রান কি খুব বড় কোন স্কোর? বড় না, মাঝারি মানের। ফরচুন বরিশাল সেই মাঝারি মানের টার্গেটই পার করতে পারল না। আটকে গেল ১৪১ রানে। বেক্সিমকো ঢাকা ৯ রানে এই এলিমেনাটরি ম্যাচ জিতে ফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল। আর টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে সুপার ফোরে উঠা বরিশাল।
রান তাড়ায় বরিশালের শুরুটা কিন্তু মন্দ হয়নি। কিন্তু ম্যাচ জিততে হলে শেষ পর্যন্ত জেনুইন ব্যাটসম্যানকে টিকে থাকতে হয়- এই ম্যাচে সেই শর্তটা পুরুণ করতে পারেনি বরিশাল। আফিফ হোসেন ৩৩ বলে হাফসেঞ্চুরি পুরো করে বরিশালকে ম্যাচ জেতার স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু ৫৫ রানে সহজ ক্যাচ তুলে এই বাঁহাতি ফিরে আসার পর ম্যাচ জেতাটা ঢাকার জন্য সময়ের ব্যাপার হয়ে দাড়ায়।
দলের বোলাররা সেই দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করেন। ধীরগতির উইকেটের ব্যবহার ঠিক কিভাবে করতে হয় সেই উদাহরণ রেখে ঢাকাকে ম্যাচ জেতান বোলাররা। পেসার শফিকুল ইসলাম ৩৯ রানে তুলে নেন ৩ উইকেট।
এলিমেনাটরি এই ম্যাচের গতি-প্রকৃতি মূলত বদলে দেয় আল আমিনের স্পিন। নিজের শেষ ওভারের শেষ দুই বলে তৌহিদ হৃদয় ও সোরওয়ার্দি শুভকে বিদায় করে ম্যাচে ঢাকাকে চালকের আসনে বসিয়ে দেন আল আমিন। ব্যাট হাতে শূন্য রানে ফেরা আল আমিন বোলিংয়ে সেই ক্ষতি পুষিয়ে দিলেন। ৪ ওভারে ২২ রানে ২ উইকেট শিকার করেন আল আমিন।
মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে তামিম ইকবাল তার পুরানো ভুল আরেকবার করেন। উইকেটে সেট হয়ে আউট হওয়াকে এই টুর্নামেন্টে তামিম ইকবাল যেন অভ্যাসে পরিণত করেছেন! ২৮ বলে ২২ রান আসে তামিমের ব্যাট থেকে এই ম্যাচে।
শেষ ওভারে ম্যাচ জয়ের জন্য বরিশালের প্রয়োজন দাঁড়ায় ২০ রানের। মেহেদি হাসান মিরাজ ও সুমন খানের জন্য সেটা ছিল অনেক কঠিন বিষয়। সেই কঠিন পরীক্ষায় উতরে যেতে পারেননি তারা। মুক্তার আলীর শেষ ওভারে দুই উইকেট নিয়ে ঢাকাকে জয়ের হাসি এনে দেন।
দুপুরে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বেক্সিমকো ঢাকার শুরুটা হয় ভয়াবহ। শুরুর তিন ব্যাটসম্যান সিঙ্গেল ডিজিটে আউট। মুশফিক রহিমের ৩০ বলে ৪৩ ও দারুণ ফর্মে থাকা ইয়াসির আলীর ৫৪ ও আকবর আলীর ৯ বলে ২১ রানের ঝড়ো ইনিংসে ঢাকার স্কোরবোর্ডে দেড়শ রান জমা হয়।
ব্যাটিংয়ের শুরু এবং শেষ- কোনটাই ভাল হয়নি ঢাকার। কিন্তু মাঝারি মানের সঞ্চয় নিয়েও কিভাবে জিততে হয় অধিনায়ক মুশফিক সেটাই করে দেখালেন বাঁচা-মরার ম্যাচে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বেক্সিমকো ঢাকা: ১৫০/৮ (২০ ওভারে, মুশফিক ৪৩, ইয়াসির আলী ৫৪, আকবর ২১, মেহেদি হাসান ২/২৩, কামরুল ইসলাম ২/৪০)।
ফরচুন বরিশাল: ১৪১/৯ (২০ ওভারে, তামিম ২২, আফিফ ৫৫, মাহিদুল ১৫, মেহেদি হাসান ১৫, মুক্তার আলী ৩/১৮, শফিকুল ৩/৩৯, আল আমিন ২/২২)।
ফল: বেক্সিমকো ঢাকা ৯ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: ইয়াসির আলী।
ভিন্নবার্তা/এমএসআই