নীলফামারীর ডোমারে সমবায় সমিতির আঁড়ালে কোম্পানী খুলে ৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দিয়েছে প্রতারক একটি চক্রটি। এদিকে ওই ৬ কোটি টাকা হারিয়ে সর্বশান্ত সহস্রাধিক নারীসহ কোম্পানির ৬ শতাধিক নারী কর্মী এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। প্রতারকদের প্রতারণায় ডোমাররের সহস্রাধিক পরিবারের ঘরে অশান্তি দেখা দিয়েছে। এদের অনেকে এখন ঘরে ফিরতে পারছে না।
জানা যায, ডোমার উপজেলা নিার্বহী কর্মকর্তার দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথামত গত ২৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে প্রায় আড়াই শতাধিক নারী তাদের টাকা ফেরত পেতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের সদস্য ও ডোমার ভোগ্যপণ্য সমবায় সমিতির পরিচালক পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্য সহকারী মাহমুদুল হাসান মামুন ওরফে মামুন রহমান, সমিতির সভাপতি মামুন হাসান মালিক ওরফে আদম সুফি, মাহবুব, নুর আলম ওরফে শাকিল (ভুক্তভোগীদের দেয়া তথ্য মতে) তাদের সকলের মোবাইল ফোন সুইচ অফ করে রাখায় নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের সাথে কোন ভাবে যোগাযোগ করতে পারেননি। এ কারণে টাকা খোয়া যাওয়া নারীদের কিছুই বলতে পারেননি তিনি।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে অসহায় নারীরা নীলফামারী জেলা প্রশাসক এর সহযোগিতার আশায় তারা দুইটি বাসে করে দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে অবস্থান নেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন নারী জেলা প্রশাসকের সাক্ষাৎ করার অনুমতি পেলে তারা তাদের খোয়া যাওয়া টাকার বিষয়ে প্রতারক চক্রের সদস্যদের অভিনব কৌশলের কথা তুলে ধরেন। তিনি প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অসহায় নারীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেন।
জেলা প্রশাসক মোঃ হাফিজুর রহমান চৌধুরী তাৎক্ষণিক ডোমার উপজেলা ইউএনও সহ বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেন এবং তাদেরকে একটি অভিযোগ পত্র দেওয়ার জন্য বলেন। সেই সাথে তিনি আন্তরিকভাবে তাদের টাকা ফেরতের সকল ধরনের সহযোগীতা করবেন বলেও ভুক্তভোগী নারীদের আশ্বস্ত করেন।
জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে ফিরেই একই দিনে বিকেলে আবারও ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তাদের টাকা ফেরতের সহযোগীতা কামনা করে উপজেলা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাদের সামনে এসে সহযোগীর আশ্বস দিলে অসহায় এক নারী টাকার দাবীতে ইউএনও’র পায়ে পড়ে কাঁদতে থাকেন। এ ঘটনায় ইউএনও কিংকতর্ব্যবিমুড় হয়ে পড়েন।
এসব অসহায় নারীদের কাঁন্নায় আবেগে কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে ইউএনও’র। তিনি বলেন আপনাদের টাকা উদ্ধারে ডিসি স্যার ও আমি আন্তরিক এবং সচেষ্ট। আরও কিছুদিন সময় ধৈর্য ধরুন। সেদিন তাদের কাছে মাত্র ৬ লাখ টাকা পেয়েছি। তাদের কাছে যে চেক নেওয়া হয়েছে সেই একাউন্টে কোন টাকা নেই। তাই আমরা ভাবছি কি করা হবে এই টাকা উদ্ধারে। এরপর তাদের নেতৃত্বে থাকা সাদা মনের মানুষ পরোপকারী সমাজ সেবক আইয়ুব আলী এসব নারীদের উদ্দেশ্যে বলেন আমরা আজ চেষ্টা করলাম। প্রধান নির্বাহীদের কথাও শুনলাম। তারা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা অপেক্ষা করছি। আমরা আগামী বৃহস্পতিবার আবারও টাকা উদ্ধারের ব্যাপারে বসবো, সিদ্ধান্ত নিবো কিভাবে এ টাকা উদ্ধার করা যায়।
তিনি প্রতারকদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রতারকদের এ টাকা হজম করতে দিবো না। টাকা উদ্ধারের সমস্ত চেষ্টা চালিয়ে যাবো। প্রয়োজনে আইনের মাধ্যমে আইনী লড়াই করে এ টাকা উদ্ধার করা হবে ইনশাল্লাহ। জেলা ও উপজেলা নির্বাহী প্রধানদের টাকা উদ্ধারের আশায় আশস্ত হয়ে ভুক্তভোগী নারী ফিরে যান।
জানা গেছে, প্রথমে একটি ব্যাচে কিছু সংখ্যক শিক্ষিত নারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় । তাদের কাজের উপর ভিত্তি করেই বেতন ভাতা ধরা হবে ১২ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকা। এভাবেই তারা অল্প কয়েকদিনে ৮টি ব্যাচে প্রায় ৬ শতাধিক নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরি দিয়ে দেয় প্রতারক চক্রটি। আর তাদের প্রশিক্ষণের সময়েই কোম্পানি থেকে বিভিন্ন অফার ছাড়া হয়। যে কর্মী যত বেশী অফার কেটে টাকা জমা দিতে পারবে তার চাকরি তত আগে হবে। এবং নিয়োগ পত্র দেওয়া হবে। বেতনও ধরা হবে সেই ভাবে। যারা যত বেশী অফার কেটে কোম্পানিকে টাকা দিতে পারবে তার কমিশন ও চাকরির বেতনও তত বেশী হবে। এভাবেই প্রতারণা করা হয়।
ভিন্নবার্তা ডটকম/এসএস
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051