
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ট্রেনের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় শুরু হয়েছে ঈদযাত্রা। গত ৩ মার্চ যারা আজকের (১৩ মার্চ) যাত্রার অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন, তারাই আজ ঢাকা ছাড়ছেন।
সকালে রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের মধ্যে বেশির ভাগই পরিবারের সদস্য। ঈদের ঠিক আগের দিনগুলোর তীব্র ভিড় ও ভোগান্তি এড়াতে কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকা কর্তাব্যক্তিরা স্ত্রী-সন্তান বা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের আগেই বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছেন।
সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কিছুক্ষণ পরপরই প্রধান ফটক পার হয়ে যাত্রীরা প্ল্যাটফর্ম এলাকায় প্রবেশ করছেন। ভেতরে প্রবেশের আগে দুই ধাপে টিকিট যাচাই করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন টিটিই ও রেলওয়ের কর্মীরা। যাত্রীরাও টিকিট দেখিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে ভেতরে ঢুকছেন।
প্ল্যাটফর্ম এলাকায় বিভিন্ন ট্রেনের শত শত যাত্রীকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তবে ভিড়ের চাপে কোনো বিশৃঙ্খলা চোখে পড়েনি। অধিকাংশ যাত্রীই নির্ধারিত সময়ের বেশ আগেই স্টেশনে পৌঁছেছেন। ট্রেনে ওঠার আগে কেউ পরিবার নিয়ে বসে আছেন, কেউবা ব্যাগপত্র গুছিয়ে নিচ্ছেন। এর মধ্যে শিশুদের ট্রেনে চড়ার আনন্দিত কোলাহলও চোখে পড়েছে।
লম্বা ছুটিতে আগেই বাড়ি যাচ্ছেন জামালপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘ঈদের আগে আজ মা ও বোনকে নিয়ে বাড়ি ফিরছি। টিকিট আগেই কেটে রেখেছিলাম। বাবা সরকারি ছুটি শুরু হলে ১৭ তারিখে আসবেন। ঈদের আগের ভোগান্তি এড়াতেই আমরা এখনই যাচ্ছি। স্টেশনে অতিরিক্ত কোনো ভিড় নেই, নিরাপত্তাব্যবস্থাও ভালো মনে হচ্ছে।’
জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসে পরিবারের সদস্যদের তুলে দিতে স্টেশনে এসেছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা ফয়সাল হাসান। তিনি বলেন, ‘ঈদের আগে ভিড় এড়াতে আজই স্ত্রী ও সন্তানকে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি। ট্রেনে যাতায়াত করা নিরাপদ ও আরামদায়ক। প্রতিবছরই আমি তাদের আগে বাড়ি পাঠিয়ে দিই। ছুটি পেলে পরে আমি চলে যাব। একা হলে যেকোনোভাবে যাওয়া যায়। আজ স্টেশনে তেমন কোনো হট্টগোলও দেখলাম না। একটু আগে বোধ হয় রেলমন্ত্রীও এসেছিলেন।’
স্টেশনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ঈদকে সামনে রেখে যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তা ও টিকিট যাচাই ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্টেশনে বিনা টিকিটে প্রবেশ ঠেকাতে ফটকে বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রীদের সুবিধার্থে প্ল্যাটফর্মে দিকনির্দেশনা ও তথ্যসহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বেলা ১১টার দিকে রেলপথ মন্ত্রী স্টেশন পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ৩ তারিখ থেকে ১০ দিন আগের টিকিট ধারাবাহিকভাবে অনলাইনে ছেড়েছিলাম। যাত্রীরা অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করেছেন এবং আজ থেকে ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। স্টেশনে এসে দেখলাম এখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক আছে। অনলাইন টিকিটে ব্যাপক চাপ ছিল; প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ টিকিট কিনতে চেয়েছেন। তবে আমাদের সক্ষমতা অনুযায়ী আমরা ৩৬ হাজারের মতো টিকিট বিক্রি করতে পেরেছি।’
মন্ত্রী আরও জানান, এখন পর্যন্ত ২১টি ট্রেন স্টেশন ছেড়ে গেছে এবং প্রায় সবগুলোই নির্ধারিত সময়ে ছেড়েছে। মাত্র দুটি ট্রেন ৪০ মিনিটের মতো বিলম্বে ছেড়েছে। সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা খুশি। তবে এই সেবার মান বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে কেউ কেউ শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। আমি তাদের আশ্বস্ত করেছি যে রেলের এই সেবার মান যেকোনো মূল্যে অব্যাহত রাখা হবে এবং ভবিষ্যতে তা আরও উন্নত হবে।’
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051