1. admin-1@vinnabarta.com : admin : admin
  2. admin-2@vinnabarta.com : Rumana Jaman : Rumana Jaman
  3. admin-3@vinnabarta.com : Saidul Islam : Saidul Islam
  4. bddesignhost@gmail.com : admin : jashim sarkar
  5. newspost2@vinnabarta.com : ebrahim-News :
  6. vinnabarta@gmail.com : admin_naim :
  7. admin_pial@vinnabarta.com : admin_pial :
মাটি ও পানিতে এখনও রয়ে গেছে ক্রোমিয়াম

ট্যানারি সরে যাওয়ার পরেও হাজারীবাগের বাসিন্দারা শান্তিতে নেই

শফিকুল ইসলাম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৭ জুন, ২০২১ ৭:২১ pm

রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরে যাওয়ার পরেও শান্তিতে নেই স্থানীয় বাসিন্দারা। কারণ দীঘদিনের ট্যানারিশিল্পের বর্জ্যরে কারণে আশপাশের মাটি ও পানিতে এখনও রয়ে গেছে বিষাক্ত ক্রোমিয়াম। এতে মাটি ও পানি দূষিত অবস্থায় রয়েছে। ফলে এ মাটি ও পানি কোন কাজে আসছে না। তবে এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় তিন বছর আগে দূষিত এলাকার মাটি অপসারণ করে সংশ্লিষ্ট স্থানে বিশুদ্ধ মাটি বসানোর জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক। তবে কবে নাগাদ এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে তা জানা যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্জ্যরে সঙ্গে মাটিতে গিয়ে মেশা ক্রোমিয়াম ধাতু মাটি ও পরিবেশের জন্য একটি ধীরগতির বিষ। যা কখনো ধ্বংস হয় না। এটি ধীরে ধীরে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাটির সঙ্গে মিশে যায়। হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারে স্থানান্তর করা হলেও হাজারীবাগের মাটি ও পানিতে ক্রোমিয়াম থেকে গেছে। ফলে যতদ্রুত সম্ভব এসব দূষিত মাটি এখান থেকে অপসারন করতে হবে। না হয় এর দ্বারা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের সবচেয়ে বড় ট্যানারি শিল্প ছিল হাজারীবাগে। যদিও ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে এখান থেকে সব ট্যানারি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। কিন্তু এ ট্যানারি সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে স্থাপন করা হয়েছিলো। এখানের কোন ধরনের ইটিপি বা সিইটিপি পর্যন্ত স্থাপনা করা হয়নি। যে কারণে ট্যানারিগুলোর দূষিত পানি ও রাসায়নিক বর্জ্য খোলা ড্রেনের মাধ্যমে বুড়িগঙ্গা নদীতে গিয়ে মিশেছে। এতে স্বাভাবিক কারণে এলাকার মাটি, পানি ও বায়ু দূষিত হয়ে পড়ে। যার মাশূল এখনও দিচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

রাজউক সূত্রে জানা গেছে, হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো থেকে প্রতিদিন ৭৫ মেট্রিক টন কঠিন বর্জ্য ও ২১ হাজার ৬০০ ঘনমিটার তরল বর্জ্য কোনোরূপ পরিশোধন ছাড়াই সরাসরি খোলা ড্রেন দিয়ে মাটি, পানি ও নদীতে গিয়ে পড়তো। এতে হাজারীবাগ এলাকার মাটি বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। একসময় ওই এলাকার ট্যানারিশিল্পের বর্জ্যরে কারণে মাটিতে মিশেছে ক্রোমিয়াম, লেড ও আর্সেনিকের মতো ভারী ও বিষাক্ত পদার্থ। অবস্থানভেদে মাটির গভীরে এ দূষণের মাত্রা ১০ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে। এতে ভ‚-গর্ভস্থ পানি ক্রমান্বয়ে বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। দূষিত মাটি গাছপালার পাশাপাশি এলাকার বহুতল ভবনের জন্যও হমকি হয়ে উঠেছে। অবস্থার উন্নয়নে রাজউকের পক্ষ থেকে হাজারীবাগ এলাকার মাটি সরিয়ে নতুন মাটি ভরাটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দ‚ষিত মাটি ঢাকার বাইরে অপসারন করা হবে। কিন্তু এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের খবর নেই।
রাজউক সূত্রে জানা গেছে, জাপান ও সিঙ্গাপুরের আদলে হাজারীবাগ এলাকার ভ‚মির উন্নয়ন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যেমে হাজারীবাগের ৮ ফুট গভীর পর্যন্ত মাটি সরিয়ে বিশুদ্ধ মাটি দিয়ে ভরাট করা হবে। এ কাজ সম্পন্ন হলে দ‚ষিত মাটি নতুন প্রকল্প এলাকা ও ভ‚-গর্ভস্থ পানির ক্ষতি করতে পারবে না। এ জন্য এলাকার স্থানীয় ভ‚মি মালিকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে রাজউক। এতে ভ‚মি মালিকরা ইতিবাচক সড়াও দিয়েছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় হাজারীবাগের উন্নয়নের জন্য তিনটি পদ্ধতিকে বাচাই করেছে রাজউক। এগুলো হচ্ছে- ভ‚মি মালিক সমিতির নিজস্ব উদ্যোগ, ভ‚মি মালিক সমিতির সঙ্গে ডেভেলপার কোম্পানির চুক্তি ও ভ‚মি মালিক সমিতির সঙ্গে রাজউকের চুক্তি। ভ‚মি মালিকরা সম্মত হলে এ তিনটি পদ্ধতির যে কোনও একটির মাধ্যমে হাজারীবাগের উন্নয়ন করা হবে। প্রকল্পে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ঋণ দাতা সংস্থা বা সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়নের জন্য এখন অপেক্ষা করা হচ্ছে।

রাজউকের চেয়ারম্যান এবিএম আমিন উল্লাহ নূরী বলেন, হাজারিবাগ থেকে ট্যানারি সরে গেলেও বিষাক্ত মাটি রয়ে গেছে। তবে এ মাটি সরাতে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করি শিগগিরই কাজ শুরু করা যাবে। তিনি বলেন, হাজারীবাগের উন্নয়নের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে সম্ভাব্য নকশা তৈরি করা হচ্ছে। এই সম্ভাব্য নকশায় বিশেষজ্ঞ ও ট্যানারি মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামতের প্রতিফলন থাকবে।

ভিন্নবার্তা/এমএসআই



আরো




আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

মাসিক আর্কাইভ