গেল ১২ আগস্ট দেশের সবচেয়ে বড় প্রেক্ষাগৃহ স্টার সিনেপ্লেক্সের পক্ষ থেকে জরুরী সহায়তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে আশংকা প্রকাশ করে সরকারের কাছে ৭ দফা দাবি পুরণের আহবানও জানানো হয়। এর আগে তথ্য মন্ত্রণালয়ে সিনেমা হল মালিকদের পক্ষ থেকেও ৩ দাবি জানানো হয়। যেখানে করোনাকালীন সময়ে বিপর্যস্ত চলচ্চিত্র খাতকে সচল করার জন্য বিশেষ প্রনোদনা চাওয়া হয় সেসঙ্গে স্বাস্থ্য বিধি মেনে হল চালুর অনুমোদন চাওয়া হয়। সর্বশেষ ২৬ জুলাই একনেকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ তহবিল গঠনের ঘোষনাও দিয়েছিলেন। এর পর থেকে সুখবরের অপেক্ষায় থাকারই কথা ছিল! অথচ অপেক্ষার পরিবর্তে মন খারাপের খবর জানাল মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হল স্টার সিনেপ্লেক্স!
বসুন্ধরা সিটি শপিংমলে আর কখনোই খুলবে না স্টার সিনেপ্লেক্স। এর মধ্য দিয়ে চিরতরে বন্ধ হবে ঢাকাবাসীদের বিনোদনের জনপ্রিয় এ মাধ্যমটি। স্টার সিনেপ্লেক্সের বিপণন ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মেসবাহ উদ্দীন আহমেদ আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও খবরটি সত্যি যে বসুন্ধরা থেকে গত মাসে আমাদের নোটিশ দিয়েছে, এই সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিনেপ্লেক্সের জায়গাটা ছেড়ে দিতে হবে। অর্থাৎ বসুন্ধরা সিটিতে আর স্টার সিনেপ্লেক্স থাকছে না। কারণ বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের কর্তৃপক্ষ আমাদের নোটিশ দিয়েছে সিনেপ্লেক্স বন্ধ করার জন্য। তাদের নতুন পরিকল্পনা রয়েছে শপিংমল নিয়ে।
তিনি বলেন, বাড়িওয়ালা যদি নোটিশ দেন চলে যাওয়ার জন্য তাহলে তো ভাড়াটিয়ার আসলে কিছু করার থাকে না। তবে সিনেপ্লেক্সের অন্য যে শাখাগুলো রয়েছে সেগুলো যথারীতি চালু থাকবে।
২০০২ সালে বসুন্ধরা সিটি শপিংমলে যাত্রা শুরু করে দেশের প্রথম ডিজিটাল এবং অত্যাধুনিক সুবিধা সংবলিত এই সিনেমা হলটি। এটি ঢাকাবাসীর তো বটেই, সারাদেশের সিনেমাপ্রেমী দর্শকের ভালোবাসা কুড়িয়েছিল। ১৮ বছর ধরেই বসুন্ধরায় এই সিনেপ্লেক্স সাফল্যের সঙ্গে ব্যবসা করে যাচ্ছিল দেশি-বিদেশি সিনেমা প্রদর্শন করে।
মেসবাহ উদ্দীন আহমেদ বলেন, বসুন্ধরা সিটি দিয়েই আমরা যাত্রা করেছিলাম। ১৮টি বছর কেটেছে এখানে। দেশ-বিদেশের অনেক বড় বড় তারকা, গুণী মানুষেরা এখানে পা রেখেছেন। চলচ্চিত্র সাংবাদিকরা এই আঙিনাটি মুখরিত করে রাখতেন আড্ডায়। অনেক অনেক স্মৃতি আসলে। দেশের মানুষ সিনেপ্লেক্স বলতেই এই শপিংমলের স্টার সিনেপ্লেক্সকে বুঝতো। এমন একটি ভালোবাসার ঠিকানা বদলে ফেলা আমাদের জন্যও খুব কষ্টের এবং আবেগের। কিন্তু কিছু তো আসলে করার নেই।
এই মুহূর্তে মহাখালীতে অবস্থিত এসকেএস (সেনাকল্যাণ সংস্থা) টাওয়ার, ধানমন্ডির সীমান্ত সম্ভার (রাইফেল স্কয়ার) শপিংমলে স্টার সিনেপ্লেক্স চালু রয়েছে। মিরপুরের সনি সিনেমা হল ভেঙে যে শপিংমল করা হচ্ছে সেখানেও একটি শাখা চালু করতে যাচ্ছে স্টার সিনেপ্লেক্স। পাশাপাশি চট্টগ্রাম শহরে ষোলশহর ফিনলে স্কয়ার শপিংমলের সপ্তম তলায় ‘সিলভার স্ক্রিন’ নামেও একটি শাখা চালু আছে স্টার সিনেপ্লেক্সের।
স্টার সিনেপ্লেক্স থেকে জানানো হয়, সারা দেশে ১০০ শাখা চালুর স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। করোনার কারণে যে স্বপ্ন থমকে গেছে।
ভিন্নবার্তা ডটকম/পিকেএইচ
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051