কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের সশস্ত্র রোহিঙ্গাদের প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে মহড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের ওপর বাজারে বিপুলসংখ্যক অস্ত্রধারী রোহিঙ্গা সোমবার প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে মহড়াসহ দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে।
সশস্ত্র রোহিঙ্গা হামলায় স্থানীয় বসতবাড়ী লুটপাটসহ স্থানীয়দের মালিকানাধীন ৮টি সিএনজিচালিত ট্যাক্সি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
গত রবিবার দিবাগত রাতেও কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সশস্ত্র রোহিঙ্গাদের সঙ্গে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী রোহিঙ্গার মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। তবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী কর্তৃক অস্ত্র উঁচিয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীদের মালিকানাধীন সিএনজি অফিসে হামলার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে সিএনজি সমিতি ও স্থানীয় গ্রামবাসী। সমাবেশে অবিলম্বে চিহ্নিত রোহিঙ্গা সন্ত্রসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। বর্তমানে এ ঘটনায় কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)।
স্থানীয় গ্রামবাসী জাফর আলম ও শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করে জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টার দিকে করিম এন্টারপ্রাইজ নামক একটি সিএনজিচালিত ট্যাক্সিতে যাত্রী নিয়ে ১৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যায়। ক্যাম্পের মুচড়ার টেক নামক স্থানে রাস্তার পাশে গাড়িটি রেখে চালক চার দোকানে যায়। পরে এসে দেখে সিএনজি গাড়িটি নেই।
গাড়িটির খোঁজ নিতে সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় খবরা-খবর নিয়ে জানতে পারেন কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পের ই ব্লকের, শেড নং-২, এমআরসি নং- ৬১২৫১ এর আশ্রিত রোহিঙ্গা নুরুচ্ছালামের ছেলে মো. ইউসুফ, তাঁর ছেলে মো. ফয়সাল নিয়ে গিয়ে অজ্ঞাত স্থানে লুকিয়ে রেখেছে।
গাড়ির মালিক কুতুপালং বাজার এলাকার নাজির হোসেনের ছেলে জাফর আলম তাদের নিকট গাড়ি ফেরত চাইলে ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা দিতে অনিহা প্রকাশ করলে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী মাষ্টার মুন্না, ইউসুফ ও ফায়সালের নেতৃত্বে ৫০/৬০ জনের সংঘবদ্ধ সশস্ত্র সন্ত্রাসী রোহিঙ্গারা স্থানীয় জাফর আলমের বাড়িতে হানা দিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
শুধু তাই নয় সোমবার দুপুরে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা কচুবনিয়া সিএনজি শ্রমিক অফিসে এসে চেয়ার টেবিল ভাঙচুর করে। প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র, রড, লাঠিসোটা, দা, কিরিচ নিয়ে শ্রমিক নেতা ছৈয়দ হোছন, গাড়ির মালিক জাফর আলমকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যাওয়ার সময় ৬টি সিএনজি ও কচুবনিয়ায় শ্রমিকদের অফিস ভাঙচুর করেছে। এতে ৬/৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে শ্রমিক নেতারা দাবি করেছে।
ঘটনায় জড়িত স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, তাদের হেফাজতে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, আটকিয়ে রাখা সিএনজি উদ্ধার, ভাঙচুর করা গাড়ি, বাড়ির মালামাল লুটপাটের ক্ষতিপূরণ দাবি করে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কুতুপালং কচুবনিয়া রাস্তার মাথা শ্রমিক অফিসের সামনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন উখিয়া সিএনজি, মাহিন্দ্রা, অটোরিকশা, টমটম চালক শ্রমিক সমবায় সমিতির সভাপতি মাসুদ আমিন শাকিল, সহসভাপতি ছৈয়দ হোছন, শ্রমিক নেতা মো. হোসেন, কামাল উদ্দিনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
শত শত শ্রমিকদের উপস্থিতিতে প্রতিবাদ সভাটি বিক্ষোভ মিছিলে রূপ নেয় এতে শ্রমিকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। স্থানীয় হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মতিউর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। অপরদিকে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহমদ সঞ্জুর মোরশেদ জানান, সংঘটিত ঘটনা নিয়ন্ত্রণসহ পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।
ভিন্নবার্তা ডটকম/পিকেএইচ
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051