নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা বুড়িরহাট এ ইউ দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও চাঁদখানা ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান হাফি’র বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। ওই মাদ্রাসায় তিনটি পদে নিয়োগ দেয়ার কথা বলে ১১ জন প্রার্থীর কাছ থেকে প্রায় ২৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এঘটনায় প্রতারণার শিকার আরিফুর রহামান নামে এক চাকুরী প্রার্থী টাকা উদ্ধারের জন্য বৃহস্পতিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এছাড়া অপর ১০জন প্রার্থী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে প্রতিকার না পাওয়ায় হতাশায় ভুগছেন। জানা যায়, ওই মাদ্রাসায় নৈশ্য প্রহরী, নিরাপত্তাকর্মী ও আয়া পদের জন্য ২০ জন প্রার্থী আবেদন করেন। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও চাঁদখানা ইউপি চেয়ারম্যান হাফি চাকুরী দেয়ার কথা বলে নিজ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ছালেহা বেগমের ছেলে ফিরুত শাহ্কে নিরাপত্তাকর্মী পদে চাকুরীর জন্য ২ লাখ ও চাঁদখানা চরকবন্দ গ্রামের মাহবুবার রহমানের কাছে ১ লাখ টাকা নেন।
এছাড়া নৈশ্য প্রহরী পদের জন্য রফিকুল ইসলামের কাছে ১ লাখ, বিলু মিয়ার কাছে ৩ লাখ, আলমগীর হোসেনের কাছে ৫০ হাজার, খবির উদ্দিনের কাছে ১ লাখ টাকা নেন। এভাবে ১০ জন প্রার্থীর নিকট থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মসাৎ করেন। পরে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বিধিবহির্ভূতভাবে তার পছন্দের তিনজন প্রার্থীকে নিয়োগ দেন।
চাকুরী প্রার্থীগণ টাকা উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। এছাড়া নৈশ প্রহরী পদের জন্য বুড়িহাট এলাকার মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে আরিফুর রহমানের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেয়ায় তিনি ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও চাঁদখানা ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান হাফির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, যারা আমার বিরুদ্ধে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা কি কোন ডকুমেন্ট দেখাতে পারবে। তাহলে মাদ্রাসার সুপারসহ অন্য কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ না করে আপনার বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ করলো। এর কোন সদুত্তোর না দিয়ে তিনি বলেন, আপনার সঙ্গে পরে কথা হবে।
ওই মাদ্রসার সুপার আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, তিনটি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ায় মোট ২০ জন প্রার্থী আবেদন করেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরে জানতে পারি সভাপতি একই পদে একাধিক প্রার্থীর কাছে টাকা নিয়েছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকতার্ এটিএম নুরুল আমিন শাহ্ এঘটনায় ১০জন প্রার্থীর অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমাকে না জানিয়ে বিধি বহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যারা কম টাকা দিয়েছেন তাকে নিয়োগ না দিয়ে বেশি টাকা দেওয়া প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়েছেন। এছাড়া নৈশ্য প্রহরী পদে যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তার বয়স ৪২ বছর।
অভিযোগের কপি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষনিকট পাঠানো হয়েছে। এবিষয়ে তদন্ত চলছে। কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল আউয়াল ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আরিফুর রহমান নামে এক চাকুরী প্রর্থীর কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভিন্নবার্তা/এমএসআই
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051