
দেশের পৌরসভার মেয়ররা বলছেন, কোভিড মহামারিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও তেমন স্বীকৃতি পাননি। পুশিল-ডাক্তারদের পাশাপশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে পরিচ্ছন্ন কর্মী, পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী, মেয়র ও কাউন্সিলররা অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন। আর্থিক টানাপোড়নের মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখনো নাগরিক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তাদের এ কাজ অনেকটাই লুকায়িত রয়েছে। এর কারণ হিসাবে তারা বলছেন, পৌর মেয়রদের কাজের স্বীকৃতি না দেওয়া, সমন্বয়হীনতার অভাব ও ডাটার অভাবে সাফল্য প্রচার না হওয়া। করোনার মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেসব কাজ তারা করেছেন এর স্বীকৃতি পেলে আগামীতে নাগরিক সেবার কাজে আরও উৎসাহ বাড়বে বলে মনে করছেন মেয়ররা।
ইউএনডিপির প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের (এলআইইউপিসি) আওতায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলায় বাংলাদেশের পৌরসভাসমূহের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে করণীয় বিষয়ে এক ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন পৌর মেয়ররা। ওয়েবিনারে কারিগরি সহায়তা দেয় বাংলাদেশ পৌরসভা সমিতি (ম্যাব) এবং নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশের (ইউডিজেএফবি)।
ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে পৌর মেয়রা বলেন, মহামারী কোভিড-১৯ এর কারণে বিশ্বসের সঙ্গে বাংলাদেশও এর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যথাসাধ্য চেষ্টা করে চলেছে। নানান সীমাবদ্ধতা সত্তে¡ও দেশের পৌরসভাগুলো পরিস্থিতি মোকাবেলায় চেষ্টা চালিয়েছে। সরকারি, বেসরকারী, এনজিও এবং দাতাসংস্থাগুলোর অর্থায়ন ও পৌরসভাগুলোর নিজস্ব অর্থায়নে এ মহামারীর প্রভাব প্রতিরোধের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পৌরসভার মেয়ররা। দেশের বেশিরভাগ পৌরসভায় আর্থিক টানাপোড়ন প্রকট থাকায় প্রান্তিক জনগোষ্টিকে মৌলিক সেবাদান বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এরমধ্যে করোনার দ্বিতীয় ডেউ আসছে। এসব সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকার ও দাতা সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তারা।
বাংলাদেশ পৌরসভা সমিতির (ম্যাব) সভাপতি ও নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক অমিতোষ পালের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, ম্যাব সাধারণ সম্পাদক ও শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবুর রহমান, ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র খন্দকার মো. কমরুজ্জামান মাজেদ, মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র খালিদ হোসেন, সোনাইমুড়ী পৌরসভার মেয়র মোতাহের হোসেন, ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু, গোপালগঞ্জ পৌরসভার মেয়র লিয়াকত আলী, কুড়ীগ্রাম পৌরসভার মেয়র তারিক আবুল আলা, এফসিডিও’র সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা আনোয়ারুল হক, এলআইইউপিসি প্রকল্পের আন্তর্জাতিক কারিগরি সহায়তা বিষয়ক উপদেষ্টা যোগেশ প্রধানং, ইউডিজেএফবি’র সভাপতি মতিন আব্দুল্লহ, সাধারণ সম্পাদক সোহেল মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল খান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাসান ইমন, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক সাইদুল ইসলাম এবং কার্যনির্বাহী সদস্য, রাশেদ আহমেদ ও মেহেদী হাসান বাধন উপস্থিত ছিলেন প্রমুখ।
ওয়েবিনারে ম্যাব সভাপতি ও নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ বলেন, করোনা মোকাবেলায় দেশের পৌরসভার মেয়ররা অনেক কাজ করেছেন। দেশে যখন করোনা আক্রান্ত শুরু হয়, তখন সরকারি নির্দেশনায় পৌরসভাগুলো জনসচেতনতায় মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, জনসাধারণের চলাচলে নিয়ন্ত্রনসহ সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এরপর সরকারের লক ডাউন ঘোষণার পর, কেউ যেন না খেয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এসন ঘোষনার পর পৌর মেয়ররা নিজের জীবন বাজি রেখে জনসাধারণকে সার্বিক সহায়তা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ওই সময় থেকে পৌরসভার আয় কমে গেছে। নাগরিকরা কর দেয়নি, বাজার থেকে রাজস্ব আসেনি। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় পৌর মেয়ররা আরও ভাল কাজ করতে পারবে, যদি সরকারি-বেসরকারি ও এনজিওসহ দাতাসংস্থাগুলো পৌর মেয়রদের প্রণোদনা দিয়ে সহযোগিতা করে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল বলেন, করোনা মহামারী মোকাবেলায় সরকার নানা প্রদক্ষেপ নিয়েছে। এরমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ওয়াজ মাহফিল না করা, কোন রকম জনসমাগম না হওয়ার নির্দেশান থাকলেও ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঘোষনা দিয়েছে। একদিকে জনসমাগম না করতে নিষেধ অন্যদিকে নির্বাচনের অনুমতি। দুইটা বিষয় একসঙ্গে সামঞ্জস্য হচ্ছে না। নির্বাচন কয়েকমাস পিছিয়ে দিলেও সমস্যা হতো না।
গোপালগঞ্জ পৌর মেয়র লিয়াকত আলী বলেন, গোপালগঞ্জ পৌরসভার করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত বেশি ছিল। করোনা নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করেছি, সফলও হয়েছি। তবে সফল হওয়ার পেছনে সরকারি-বেসরকারি ও এনজিও সংস্থাগুলোর সহায়তা ছিলো।
নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশের সভাপতি মতিন আব্দুল্লাহ বলেন, ঢাকা শহর হচ্ছে একটি অপরিকল্পিত শহর। অবকাঠামোসহ নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অপরিকল্পিতভাবে হয়েছে। একইসঙ্গে শহরে বসবাসের জনঘনত্বও বেশি। ফলে করোনা মোকাবেলায় সরকারের নানা কর্মসূচির পরেও সফল হতে পারেনি। পৌর মেয়রদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, পৌরসভা নিয়ে আপনারা মাস্টার প্ল্যান করেন। অবকাঠামোসহ নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন। যদি পরিকল্পনা করে উন্নয়ন করা যায়, তাহলে ঢাকা শহরের মতো সমস্যা হবে না।
ভিন্নবার্তা/এমএসআই