কুমিল্লায় চলন্ত বাসে তরুণীকে গণধর্ষণ ও চাকরির প্রলোভনে তিনদিন হোটেলে আটকে রেখে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরো একটি ধর্ষণকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এবার কুমিল্লার বরুড়ায় ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিবন্ধী এক তরুণী। আর ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে সালিসের নামে তরুণীর বাবার কাছ থেকে ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় তরুণীর পিতা বাদী হয়ে ইমাম হোসেন নামে একজনকে আসামি করে বরুড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত ইমাম হোসেন বরুড়া উপজেলার শীলমুড়ি উত্তর ইউনিয়নের লগ্নসার গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে। সোমবার মধ্যরাতে মামলা হলেও এখনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেতে পারেনি পুলিশ।
এ নিয়ে গত ১৫ দিনে তিনটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লায়। এর আগে চাকরির সন্ধানে ঢাকায় গিয়ে ফেরার পথে ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে চলন্ত বাসে গণর্ধষণের শিকার হন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার এক তরুণী। এ ঘটনায় ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে মামলা করলে ‘তিশা’ পরিবহনের চালক ও এক সহকারীকে আটক করে পুলিশ। অভিযুক্ত আরেকজন (বাসের সুপারভাইজার) পলাতক রয়েছেন।
এ ঘটনার তিনদিন পর ১৭ সেপ্টেম্বর চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কক্সবাজারে নিয়ে তিনদিন হোটেলে আটকে রেখে এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। ২০ সেপ্টেম্বর অসুস্থ অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে বাড়ির পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ধর্ষক। এ ঘটনায় মামলা হলে অভিযুক্ত নাজিম উদ্দিন নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বরুড়ার শীলমুড়ি উত্তর ইউনিয়নের লগ্নসার গ্রামের ইমাম হোসেন বিভিন্ন সময়ে প্রতিবন্ধী ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে আসছিলো। গত শনিবার রাতেও ইমাম হোসেন তরুণীর বাড়িতে ঢুকলে তার বাবা ইমাম হোসেনকে হাতেনাতে ধরার চেষ্টা করলে সে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এলাকার কতিপয় ব্যক্তি সালিসের নামে অর্থের প্রলোভনে তরুণীর বাবার কাছ থেকে ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বরুড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল বাহার জানান, মামলা দায়েরের পর রাতেই ওই তরুণী ও তার বাবার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন ব্যক্তি সালিসের মাধ্যমে টাকা দিবে বলে খালি ট্যাম্পে তরুণীর বাবার কাছ থেকে স্বাক্ষর আদায় করেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে এ ঘটনায় কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের (সালিসদার) বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বরুড়া থানার ওসি সত্যজিত বড়ুয়া বলেন, প্রতিবন্ধী বৌদ্ধ তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনাটি সালিসের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে জেনেছি। মামলায়ও তা উল্লেখ আছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। ভিকটিমের ডাক্তারি সম্পন্ন হয়েছে।
ভিন্নবার্তা ডটকম/পিকেএইচ
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051