শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মধ্যেই দেশের ৫৯ জেলায় (চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাঁচ জেলা ছাড়া) এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সপ্তম দিনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত এসব পরীক্ষায় মোট ২০ হাজার ৫২ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ১৫ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, এদিন সাধারণ আটটি শিক্ষা বোর্ডে পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৮৩৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেন ৪ লাখ ৪১ হাজার ৭৩৮ জন। ফলে অনুপস্থিত ছিলেন ১২ হাজার ১০১ জন এবং বহিষ্কার হন ১০ জন। এ বোর্ডগুলোর গড় অনুপস্থিতির হার ছিল ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিমের আরবি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল ৬৮ হাজার ৪৬১ জনের। এর মধ্যে ৬৩ হাজার ৬০৬ জন পরীক্ষায় অংশ নেন এবং ৪ হাজার ৮৫৫ জন অনুপস্থিত ছিলেন। এ বোর্ডে অসদুপায়ের দায়ে পাঁচজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হন। গড় অনুপস্থিতির হার ছিল ৭ দশমিক ৯ শতাংশ।
অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা-২, উচ্চতর গণিত-২ এবং উচ্চতর হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৮০ হাজার ৩০৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৭ হাজার ২০৮ জন অংশ নেন। অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৯৬ জন এবং এ বোর্ডে বহিষ্কারের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত একই বিষয়গুলোর প্রথম পত্র পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন ১৯ হাজার ৫৯২ জন। সে তুলনায় দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অনুপস্থিতি প্রায় ৫০০ জন বেড়েছে। তবে বহিষ্কারের সংখ্যা কমেছে। প্রথম পত্রে ২৯ জন বহিষ্কৃত হলেও দ্বিতীয় পত্রে বহিষ্কার হয়েছেন ১৫ জন।
এদিকে বৈরী আবহাওয়া, বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে ভুলের প্রতিবাদে পরীক্ষার্থীরা কয়েকদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা স্থগিত, দায়ীদের শাস্তি এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবি জানান। সরকারের পক্ষ থেকে কিছু দাবি মেনে নেওয়া হলেও নির্ধারিত দিনের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়নি। ফলে আন্দোলনের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেন।
বন্যা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার এদিনের পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়।
এদিকে জাতীয় সংসদে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া বা অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশ নিতে পারেননি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিন্ন প্রশ্নপত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে পরীক্ষা দিতে পারবেন।
তিনি আরও জানান, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে ভুলের ঘটনায় দায়ীদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ভুল থাকা দুটি সৃজনশীল প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর প্রদান করা হবে।
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051