হঠাৎই যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যে। পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ইরানের ওপর একযোগে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানসহ ইরানের পাঁচটি প্রধান শহরে যৌথভাবে ভয়ংকর এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
হামলায় বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয় ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বাসভবনকে। পাশাপাশি মন্ত্রী ও সামরিক প্রধানদের বাসভবন, প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের স্থাপনাসহ অন্যান্য স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়; ইসরায়েলি হামলার টার্গেটে পরিণত হয়েছে কোমলমতি শিশুদের স্কুলও। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে চালানো এক ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫১ শিক্ষার্থীর প্রাণ ঝরে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হামলাটি চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের শাজারে তায়্যিবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয় লক্ষ্যবস্তু হয়। হামলায় নিহত ৫১ শিক্ষার্থীর সবার বয়স ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে।
হামলার সময় স্কুলটিতে প্রায় ১৭০ ছাত্রী উপস্থিত ছিল। হামলার পর অনেক শিক্ষার্থী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছে বলেও জানা গেছে।
ইরানে হামলার সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক ভিডিও বার্তায় ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘বড় ধরনের যুদ্ধাভিযান’ চালিয়েছে। আমরা বারবার একটি চুক্তি চেয়েছি। আমরা চেষ্টা করেছি। তিনি বলেন, আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস ও ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা জ্বালিয়ে দিতে যাচ্ছি। এটা পুরোপুরি ধ্বংস করা হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ এই হামলার পর চুপ করে বসে নেই ইরান। তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দেওয়া শুরু করেছে তারাও। ইসরায়েলে বৃষ্টির মতো আঘাত হানছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। শুধু ইসরায়েলেই নয়; যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও হামলা শুরু করেছে দেশটি। এরই অংশ হিসেবে কাতার, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে ইরান।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে, ইরান থেকে ছোড়া অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় শনাক্ত করা হয়েছে। এই ভয়াবহ পাল্টা হামলার পর পুরো ইসরায়েলজুড়ে বিপদ সংকেত বা সাইরেন বেজে উঠেছে এবং নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইডিএফের পক্ষ থেকে জারি করা জরুরি সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বড় ধরনের ঢেউ আমাদের সীমান্তের দিকে ধেয়ে আসছে। আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিমান বাহিনী এই হুমকিগুলো প্রতিহত করার জন্য সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে কাজ করছে।
আইডিএফ আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শতভাগ নিখুঁত নয়, তাই বড় ধরনের প্রাণহানি এড়াতে জনগণকে অবিলম্বে আইডিএফের সুরক্ষা নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। তেল আবিবসহ ইসরায়েলের প্রধান শহরগুলোতে এখন মুহুর্মুহু সাইরেন আর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, যা দেশটিকে এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এছাড়া, কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ইরানের মিসাইল ভূপাতিত করা হয়েছে। কাতারে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি; যা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত তাদের ঘাঁটিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাহরাইনেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে দেশটিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিস্ফোরণের তথ্য জানালেও; সেটি কিসের শব্দ সেটি স্পষ্ট করেনি।
এছাড়া, কুয়েতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন আল জাজিরা আরবি বিভাগের সাংবাদিকরা। সেখানে সাইরেনও চালু করা হয়েছে।
সেইসঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতেও একটি বিকট বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে রয়টার্স। এমনকি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে বলেছে, শত্রু চূড়ান্তভাবে পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051