দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তাঁর বাবার ওপর হামলার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করা আসামি রবিউল এ ঘটনায় জড়িত নন বলে দাবি করেছে তার পরিবার। পরিবারের অভিযোগ- প্রকৃত সন্ত্রাসীদের বাঁচানোর অসৎ উদ্দেশ্যে রবিউলকে বর্ণিত মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় দিনাজপুর প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ দাবি জানান রবিউলের ভাই রশিদুল ইসলাম। এ সময় রবিউলের মা রহিমা বেগম, ভাই রহিদুল ইসলাম, আজিজুর রহমান, প্রতিবেশী আব্দুল মালেক, প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে পরিবার ও অর্ধশত এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চলতি বছরের গত ১১ জানুয়ারি ঘোড়াঘাট ইউএনও কার্যালয় থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার পর থেকেই রবিউল ইসলাম বাড়িতেই অবস্থান করছিল। ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি যে, ইউএনও ও তাঁর বাবার ওপর গত ২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত্রী অর্থাৎ ৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২টার সময় নিজ বাড়িতে সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে। যার সঙ্গে আমার ছোট ভাই রবিউল ইসলামের কোনো প্রকার সংশ্লিষ্টতা নেই। আমরা ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার মারফত বর্ণিত ঘটনার সঙ্গে জড়িত মর্মে বিভিন্ন জনের নাম জানতে পারি। যা গোটা দেশবাসী মিডিয়ার মাধ্যমে অবগত হয়েছেন। এরই একপর্যায়ে হঠাৎ করে ডিবি পুলিশ আমার ছোট ভাই রবিউলকে আমাদের বাড়ি থেকে গত ৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত অর্থাৎ ১০ সেপ্টেম্বর রাত ১টা ৩০ মিনিটে ধরে নিয়ে যাওয়ার তিন দিন পর মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি যে, ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তাঁর পিতাকে মারার মামলায় ডিবি পুলিশ আমার ভাইকে আটক দেখিয়ে তাকে রিমান্ডে নিয়েছে। এর পর তার ওপর চাপ সৃষ্টি করে 'সে ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তাঁর পিতাকে একাই মেরেছে' মর্মে বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দি প্রদানে বাধ্য করেছে। প্রকৃতপক্ষে আমার ছোট ভাই রবিউল বর্ণিত ঘটনার বিষয়ে কোনো কিছু জানে না এবং সে ওই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত ছিল না। প্রকৃত সন্ত্রাসীদের বাঁচানোর অসৎ উদ্দেশ্যে আমার ছোট ভাই রবিউলকে বর্ণিত মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আমরা বিষয়টির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক মামলার ঘটনায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীর বিচার কামনা করছি। এ ঘটনায় নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসনের নিকট ন্যায়বিচার কামনা করা হয়।
এ সময় রবিউলের গ্রামের মানুষজন বলেন, ঘটনার আগের দিন রাত ৮টা পর্যন্ত রবিউলকে এলাকায় দেখেছেন। আবার পরের দিন ভোর ৬টার সময়ও নামাজিরা তাকে এলাকায় দেখেছেন। ৩ তারিখ সকালে রবিউলকে তার নিজ জমিতে ঘাস নিড়াতে দেখেছেন। রবিউল ঘোড়াঘাটে যায়নি বলেও দাবি করেন তারা।
প্রশ্ন করা হলে রবিউলের ভাই রশিদুল ইসলাম বলেন, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির নারাজির ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। কিন্তু আমরা সাংবাদিকদের মাধ্যমে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রকৃত আসামিদের বিচার দাবি করছি। ওই দিন রাতে সব ভাই মিলে একসাথে ভাত খেয়েছেন বলেও জানায় রবিউলের পরিবার।
উল্লেখ্য, গত ২০ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৭ এ ইউএনও ও তাঁর বাবার ওপর হামলার ঘটনায় দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন বিরল উপজেলার ধামাহার গ্রামের মৃত খতিব উদ্দিন আহাম্মেদের ছেলে রবিউল ইসলাম। গত ১২ তারিখ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত আদালতের আদেশে ডিবি পুলিশের হেফাজতে ৯ দিনের রিমান্ডে ছিল। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে ঘোড়াঘাট ইউএনও ও তাঁর বাবার ওপর হামলা হয়।
ভিন্নবার্তা ডটকম/পিকেএইচ
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051