
পাবনার বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আনাম সিদ্দিকীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে বেড়া পৌর মেয়র আব্দুল বাতেনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়।
পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ চিঠি প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, চিঠির পরপরই তিনি পৌর মেয়রের দায়িত্ব হারিয়েছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্যানেল মেয়র অথবা ইউএনও এই দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জেলা প্রশাসক পাবনার প্রেরিত প্রতিবেদন অনুসারে বেড়া পৌর মেয়রের আচরণ ও কর্মকাণ্ড স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন-২০০৯ এর ৩২ (১) (খ) ও (ঘ) ধারায় বর্ণিত অভিযোগের পর্যায়ভুক্ত হওয়ায় একই আইনের ৩১ (১) ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ সমিচীন। উল্লেখিত অপরাধ ৩২ (১) উপধারা অনুযায়ী মেয়র পদ থেকে অপসারণ যোগ্য অপরাধ। মেয়র আব্দুল বাতেনের অসদাচরণ শিষ্ঠাচার বহির্ভূত কর্মকাণ্ড ও ক্ষমতার অপব্যবহার পৌর পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থী বলে সরকার মনে করে। তাই স্থানীয় সরকার বিভাগ পৌরসভা আইনের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বেড়া পৌরসভার মেয়রের পদ থেকে আব্দুল বাতেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।
এর আগে, সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে জেলা প্রশাসক স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব বরাবর প্রেরিত এক পত্রে মেয়র আব্দুল বাতেনের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।
জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ জানান, সোমবার (১২ অক্টোবর) বেড়া উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অক্টোবর মাসের মাসিক সভা চলাকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং অশালীন ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন আব্দুল বাতেন। যা একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে শিষ্টাচার বহির্ভূত ও ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, গত সেপ্টেম্বর ২০২০ মাসের উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় মেয়র বেড়া পৌরসভা নগরবাড়ী ঘাট ও কাজীরহাট ঘাট ইজারা সংক্রান্ত বিষয়ে বেআইনি প্রস্তাব উত্থাপন করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আইনি ব্যাখ্যা প্রদান করেন। যা কার্য বিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ প্রেক্ষিতে অক্টোবর মাসের চলমান সভায় কার্যবিবরণীর উক্ত বিষয় নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রতিবাদ করলে এবং আইন বহির্ভূত কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, মেয়র আব্দুল বাতেনের শিষ্টাচার বহির্ভূত ও আইন পরিপন্থী আচরণ নতুন নয়, প্রায়ই তিনি উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিষ্টাচার বহির্ভূত অসদাচরণ করেন। এসব কর্মকাণ্ডের তথ্য প্রমাণাদিসহ মেয়র আব্দুল বাতেনের বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ জানিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে জেলা প্রশাসনের চিঠির প্রেক্ষিতে তাকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়।
বরখাস্তের বিষয়টিকে ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে আব্দুল বাতেন বলেন, জেলা প্রশাসনের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমি এ বিষয়ে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করবো। তিনি বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টায় বেড়া টাউন ক্লাবে এই বিষয়টি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন আহবান করেছেন।
প্রসঙ্গত, সাবেক স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী ও পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকুর ছোট ভাই মেয়র আব্দুল বাতেন দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য সমালোচিত হয়ে আসছেন। তার বিরুদ্ধে দুদকে একাধিক মামলা চলমান। সম্প্রতি, ক্ষমতার অপব্যবহার করায় আব্দুল বাতেনকে বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ সব পদ থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়।
ভিন্নবার্তা/এমএসআই