সঙ্গীত শিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদের মৃত ভাই বিমানচালক মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের সঙ্গে ভারতীয় হিন্দু নারীকে বিয়ের নিবন্ধনকারীকে (নিকাহ রেজিস্ট্রার, যা কাজি হিসেবে পরিচিত) তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ৮ মার্চ তাকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মোস্তফা জগলুল ও আঞ্জু কাপুরের বিয়ের নথিপত্র দেখতেই তাকে তলব করা হয়েছে।
বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। মোস্তফা জগলুলের প্রথম স্ত্রী ও তার সন্তানদের নিয়ে সৃষ্ট মামলার জেরে এ আদেশ দেন আদালত। মোস্তফা জগলুলের প্রথম স্ত্রী ও তার দুই মেয়ের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। কারাবন্দি আঞ্জু কাপুরের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাসুদ রেজা সোবহান।
মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের মৃত্যুর পরপরই তার ব্যাংক হিসাব থেকে এককোটি ৪০ লাখ টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগের মামলায় জগলুল ওয়াহিদের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবিদার ভারতীয় নাগরিক আঞ্জু কাপুরকে গত ৯ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
হাইকোর্টে আঞ্জু কাপুরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, মৃত্যুর আগেই মোস্তফা জগলুলের গুলশানের বাড়ি তার নামে (আঞ্জু কাপুর) হুইল করে দিয়ে গেছেন। এ অবস্থায় স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট ১৮৭২ অনুসারে কোনো মুসলিম কোনো হিন্দু নারীকে বিয়ে করতে পারে কি না এবং স্ত্রী হিসেবে তাকে দেওয়া জগলুল ওয়াহিদের সম্পূর্ণ বাড়ি উইল করার আইনগত ভিত্তি আছে কি না সে বিষয়ে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে চার সিনিয়র আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ, সিনিয়র আইনজীবী কামাল-উল-আলম, মো. নুরুল আমিন ও কামরুল হক সিদ্দিকীর বক্তব্য শোনার পর নিকাহ রেজিস্ট্রারকে তলব করা হলো।
জানা যায়, সংগীত শিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদের ভাই পাইলট মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদ গতবছর ১০ অক্টোবর মারা যান। তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় ২০০৫ সালে। তাদের দুই মেয়ে মুশফিকা মোস্তফা ও মোবাশ্বেরা মোস্তফা। তাদের মধ্যে বড় মুশফিকা মোস্তফা লেখাপড়ার জন্য ২০১৩ সালে দেশ ছাড়েন। আর ছোট মেয়ে মোবাশ্বেরা মোস্তফা বিয়ের পর আমেরিকা চলে যান। ফলে মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদ একা হয়ে পড়েন। এ সময় তার সঙ্গে ভারতের বেঙ্গালুরের মেয়ে আঞ্জু কাপুরের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই সূত্র ধরে ২০১৩ সালে তাদের বিয়ে হয় বলে দাবি আঞ্জু কাপুরের। কিন্তু পিতার মৃত্যুর খবর শুনে দেশে এসে পৈত্রিক বাড়িতে (গুলশান ২ নম্বরে ৯৫ নম্বর রোডের ৪ নম্বর বাড়ি) প্রবেশ করতে গেলে প্রথম পক্ষের দুই মেয়েকে আটকে দেওয়া হয়। তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়ায় বাড়ির সামনেই অবস্থান নেন তারা। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর হাইকোর্ট গতবছর ২৬ অক্টোবর স্বতপ্রণোদিত হয়ে দুই মেয়েকে বাড়িতে পৌঁছে দিতে পুলিশকে নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের নির্দেশে পুলিশ তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আদেশ দেন হাইকোর্ট।
ভিন্নবার্তা ডটকম/এন
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051