
অগণিত স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীর শেষ শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার প্রদর্শনের পর মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন নেত্রকোনার নারী জাগরণের পথিকৃৎ, উন্নয়ন সংস্থা স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির (এসইউএস) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক শিক্ষিকা বেগম রোকেয়া ওরফে মস্তুরা (৭৯)। রবিবার সকাল ১০টায় জেলা সদরের সাতপাই পৌর কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
এর আগে সকাল ৭টায় বেগম রোকেয়ার মরদেহ স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির (এসইউএস) কার্যালয়ে নেয়া হলে সংস্থার কার্যনির্বাহী পরিষদ, ব্যবস্থাপনা পরিষদ, সকল উন্নয়নকর্মী এবং স্থানীয় এলাকাবাসী তাঁর কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সকাল ৮টায় তাঁর মরদেহ জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে নেয়া হলে অসংখ্য মানুষ ভীড় জমান।
ওই সময় নেত্রকোনা নাগরিক সমাজ, সিপিবি, উদীচী, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, নেত্রকোনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, জাহানারা স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজ, জেলা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, জেলা প্রেসক্লাব, রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, প্রত্যাশা সাহিত্য গোষ্ঠী, টাইগার স্মৃতি সংসদ, সংস্কৃতি মঞ্চ, নেত্রকোনা নাগরিক প্লাটফর্ম, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ, উদয়ন সমিতি, এফএনবি, শ্রম উন্নয়ন সংস্থা, জাগরণ উন্নয়ন সংস্থা, মানব উন্নয়ন সমিতি, পল্লী কল্যাণ ফাউন্ডেশন, মোহনগঞ্জের দুর্বার নারী নেটওয়ার্ক, শেরপুরের স্বনির্ভর নারী কল্যাণ সংস্থা, জামালপুরের তরঙ্গ মহিলা কল্যাণ সংস্থাসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক সংগঠন এবং উন্নয়ন সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।
সকাল ন’টায় চন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় জানাজার নামাজ। তাতেও বিপুল মানুষের উপস্থিতি ঘটে।
স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির বর্তমান নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার পাল জানান, জেলা শহরের নিখিলনাথ সড়কের বাসিন্দা বেগম রোকেয়া গত ৩০ জানুয়ারি সুইডেনের স্টকহোমের একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্নলিল্লাহি---রাজিউন)। তিনি দুই মেয়ে রেখে যান। ‘মস্তুরা আপা’ বলে খ্যাত এই আত্মপ্রত্যয়ী নারী ১৯৪৭ সালের ১৩ মার্চ কেন্দুয়া উপজেলার কাউরাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় মাত্র অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালে তাঁর বিয়ে হয়। দুই মেয়ের জন্মের পর ঘটে বিয়েবিচ্ছেদ। এরপর পুনরায় লেখাপড়া শুরু করে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন নেত্রকোনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। বেশকিছুদিন শিক্ষকতার পর ১৯৮৬ সালে দরিদ্র, বঞ্চিত, নির্যাতিত নারী ও প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে প্রতিষ্ঠা করেন স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি নামক এনজিও প্রতিষ্ঠান, যার কর্মপরিধি বর্তমানে বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও সিলেটের নানা জেলায় বিস্তৃত। তিনি আমৃত্যু ওই সংস্থার কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও সুদীর্ঘকাল পালন করেছেন নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব। স্বাবলম্বী ছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময়ে পিকেএসএফ, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ ও গ্রামীণ ইলেক্ট্রিফিকেশন বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, নেত্রকোনা জেলা শাখার। এছাড়াও জড়িত ছিলেন অসংখ্য সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। বৃহত্তর ময়মনসিংহের নারীস
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051