1. admin-1@vinnabarta.com : admin : admin
  2. admin-2@vinnabarta.com : Rumana Jaman : Rumana Jaman
  3. admin-3@vinnabarta.com : Saidul Islam : Saidul Islam
  4. bddesignhost@gmail.com : admin : jashim sarkar
  5. newspost2@vinnabarta.com : ebrahim-News :
  6. vinnabarta@gmail.com : admin_naim :
  7. admin_pial@vinnabarta.com : admin_pial :
দেশব্যাপী মানববন্ধন আজ

৪৪ দিন পরে বড় জমায়েতের চেষ্টা বিএনপির, আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণই লক্ষ্য

ভিন্নবার্তা প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১০:৩৯ am

ভিন্নবার্তা প্রতিবেদক: মানবাধিকার দিবসের কর্মসূচিকে ঘিরে দলের নেতাকর্মীদের ফের মাঠে জমায়েতে ফিরিয়ে আনা ও আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণই লক্ষ্য বিএনপির। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে আজ রবিবার ঢাকাসহ সারাদেশের জেলা সদরে গুম-খুনের শিকার এবং দলটির কারাবন্দি নেতাকর্মীর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানববন্ধন করবে দলটি। সরকারবিরোধী আন্দোলনে থাকা অন্যান্য দল ও জোটও একই কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে।

বেলা ১১টায় ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের ব্যানারে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। মানববন্ধন কর্মসূচিতে নিরাপত্তা চেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির দপ্তর সম্পাদক সাইদুর রহমান মিন্টুর সই করা চিঠি ডিএমপি কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়।

সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং তফসিল বাতিলের দাবিতে ২৯ অক্টোবর থেকে ১০ দফায় ২০ দিন অবরোধ এবং তিন দফা চার দিন হরতাল কর্মসূচি করেছে বিএনপিসহ বিভিন্ন দল ও জোট। গত ২৮ অক্টোবর ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশ পণ্ড হওয়ার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের রাজপথে জড়ো করার লক্ষ্যে দলটির ঘোষিত এটিই প্রথম কর্মসূচি।বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে এবারের মানববন্ধন কর্মসূচি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পালনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। পুলিশি হামলায় মানববন্ধন পণ্ড হতে পারে, গণহারে নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার ও আহত হতে পারেন- এসব কিছু বিবেচেনায় রেখেই যে কোনো মূল্যে দলের নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবে।

নেতারা মনে করছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এবারের মানবাধিকার দিবসের কর্মসূচি বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ। এর মাধ্যমে সরকার ও পুলিশের আচরণ কী হয়, সেটিও স্পষ্ট হবে। এর ভিত্তিতেই পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করা হবে।

নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরবে বিএনপি :

সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলনে দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, মামলা, সাজা দেয়া এবং কারা ও পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছে বিএনপি। তাই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের এ মানববন্ধনে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর গুম, খুন ও কারাগারে নির্যাতনে চিত্র দেশি-বিদেশি মহলের সামনে তুলে ধরার সুযোগ কাজে লাগাতে চায় দলটি। তাছাড়া দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের পরিবেশ না থাকলেও ভিন্ন উপায়ে মাঠে থাকার এ কৌশল নিয়েছে দলটি।

বিএনপিসহ সরকারবিরোধী আন্দোলনে থাকা দলগুলোর নেতাদের ভাষ্য- যে নির্বাচনে বিএনপিসহ প্রধান দলগুলো অংশ নিচ্ছে না, সে ধরনের ‘একতরফা’ নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রসহ গণতান্ত্রিক আন্তর্জাতিক মহলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। এসব রাজনৈতিক হিসাবনিকাশে এবারের মানবাধিকার দিবসের মানববন্ধন কর্মসূচিটি বিএনপিসহ বিরোধীদের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারাবন্দি নেতাকর্মীদের স্বজনদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনকে মানববন্ধন কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দেশের বাইরে দলের ইউনিটগুলোকেও এদিন কর্মসূচির আয়োজন করতে বলা হয়েছে।

বিএনপি নেতারা জানান, ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ সারাদেশে ২০ হাজারের ওপর নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুধু ঢাকাতেই ১০ হাজার নেতাকর্মী এখন কারাগারে। এসব পরিবারের সদস্যের সমাবেশে হাজির করা হবে। তাদের হাতে নির্যাতনের ব্যানার, ফেস্টুনসহ মুক্তির দাবিতে স্লোগানও থাকবে। এর সঙ্গে বিগত দিনে সারাদেশে গুম-খুনের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত থাকবেন। সব মিলিয়ে এসব পরিবারের কান্না, ভোগান্তি আর নির্যাতনের চিত্রসহ দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরবেন।

সূত্র জানায়, মানববন্ধনে মামলার আসামি ও পদধারী নেতাকর্মী উপস্থিত থাকা ঝুঁকি মনে করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড, এমনকি ইউনিট পর্যায়ে আটক নেতাকর্মীর পরিবারের সদস্যদের হাজির করা হবে। তাতেও ১০ হাজারের ওপর উপস্থিতি থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বিএনপি নেতারা।জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ভিন্ন বার্তাকে বলেন, প্রতি বছর এই দিবসে দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। তবে এবার সেই অধিকারও কেড়ে নেয়া হয়েছে। সভা আয়োজন করার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। তাই বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো কর্মসূচি না থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত আর নির্যাতিত পরিবারের ব্যানারে ভয়ভীতি উপেক্ষা করে প্রত্যেকে নিজ জায়গা থেকে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

এদিকে সব বাধাবিপত্তি প্রতিহত করে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে এই মানববন্ধন কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল বিকালে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে নির্যাতনের শিকার, গুম-খুন হওয়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানববন্ধনে উপস্থিত থাকবেন। তিনি আরও বলেন, শুধু বিএনপির নেতাকর্মীরা নন, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক এবং প্রতিবাদমুখর লোকজনও সরকারের নির্যাতন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন।

মানবাধিকার দিবসে বেলা ১১টায় ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অফিসের সামনে, ১২ দলীয় জোট বিজয় নগর পানির ট্যাংকের সামনে, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট পুরানা পল্টন আলরাজী কমপ্লেক্সে, এলডিপি’ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে, গণ ফোরাম ও পিপলস পার্টি হাইকোর্টের কদম ফোয়ারার উল্টো দিকে, গণ অধিকার পরিষদ বিজয় নগর পানির ট্যাংকের সামনে, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য জাতীয় প্রেস ক্লাব উল্টো দিকে, গণ অধিকার পরিষদ (ডক্টর রেজা কিবরিয়া ও ফারুক হাসান) পুরানা পল্টন দলীয় অফিসের সামনে, লেবার পার্টি তোপখানা রোড মেহরাব প্লাজার সামনে, এবি পার্টি বিজয় নগর ৭১ হোটেলের সামনে ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করবে। বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে। পাশাপাশি মানববন্ধন করার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীও। তবে দলটি কোথায় এ কর্মসূচি করবে, তা গণমাধ্যমকে জানায়নি।

বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ভিন্ন বার্তাকে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারের মানবাধিকার দিবসের বিশেষ তাৎপর্য আছে। মানবাধিকারের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে মানুষের ভোটের অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার। সরকার এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাই মানবাধিকার দিবসে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি মানুষের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকারসহ বিরোধী নেতাকর্মীদের গুম-খুন, গ্রেপ্তার, গায়েবি-ফরমায়েশি মামলায় জেলে দেয়ার মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা দেশের মানুষ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরা হবে।
ভিন্নবার্তা ডটকম/ আরজে/ এন



আরো




মাসিক আর্কাইভ