1. [email protected] : admin : jashim sarkar
  2. [email protected] : admin_naim :
  3. [email protected] : admin_pial :
  4. [email protected] : admin : admin
  5. [email protected] : Rumana Jaman : Rumana Jaman
  6. [email protected] : Saidul Islam : Saidul Islam
সিসিইউ থেকে বেডে যেতেই কেটে গেলো ২ মাস - |ভিন্নবার্তা
হাসপাতালে খালেদা জিয়া

সিসিইউ থেকে বেডে যেতেই কেটে গেলো ২ মাস

নীরা নুসরাত :
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২২, ১১:২১ am

লিভার সিরোসসির কারনে থেমে থেমে ক্ষুদ্রান্তে রক্তক্ষরণ, রক্তবমি, হিমোগ্লোবিন উঠা-নামা সহ নানা তীব্র জটিলতায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ২ মাস পার করলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার ক্ষুদ্রান্তের নিচে রক্তক্ষরণের উৎস বন্ধ করতে ‘ব্যান্ড লাইগেশন’ করা হয়েছে। পালাক্রমে দেয়া হয়েছে এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন। ১ মাস ২৭ দিন পরে গত ৯ জানুয়ারি সিসিইউ থেকে কেবিনে নেয়া হয়েছে খালেদা জিয়াকে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে আগের চেয়ে একটু সুস্হ আছেন বিএনপি প্রধান।

পরিস্হিতি একটু ভালো হলেও লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ায় যে কোনো সময় নতুন উৎস দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে পারে এমন আশংঙ্কাও করেছেন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বোর্ডের সদস্যরা। জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জে এম জাহিদ হোসেন বলেন, সিসিইউ থেকে কিবিনে নেয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে (খালেদা জিয়াকে) পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। মেডিকেল বোর্ড সার্বক্ষণিক চিন্তিত। যে কোনো সময় তার অবস্হা পরিবর্তন হতে পারে। তাকে দ্রুত বিদেশ পাঠালে তাঁর উন্নত চিকিৎসা সম্ভব।

হাসপাতালে ভর্তির ২ দিন আগে গত ১১ নভেম্বর বোনকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ে আবেদন করেছিলেন খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দার। এই আবেদন আইনী মতামতের জন্য পাঠানোর হয় আইন মন্ত্রনালয়ে। ২৩ নভেম্বর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা দেখা করেন আইনমন্ত্রীর সঙ্গে। এরপর থেকেই মন্ত্রী বলেছেন আইন এবং নজীর খুঁজছেন তিনি। ৫ ডিসেম্বর খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠাতে ‘আইনি উপায়’ খোঁজার কথা বলেছিলেন আইনমন্ত্রী।

অবশেষে ২৮ ডিসেম্বর তিনি আইনী মতামত পাঠান স্বারষ্ট্রমন্ত্রনালয়ে। ঐদিন বিকেলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বরাত দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার একটি চিঠি দিয়েছেন আমরা দেখেছি এবং আইনমন্ত্রী একটি মতামত দিয়েছেন সেটা আমরা পর্যালোচনা করছি। আইনতগত কোনো সুযোগ নেই।

খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার ব্যাপারে আইনী মতামত পাওয়ার পরে থেকেই সরকার খালেদা জিয়ার জীবন নাশের ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করছে বিএনপি। আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীনদের পতনের হুমকীও দিচ্ছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। কেন সরকার তাকে বিদেশে যেতে দিতে চায় না? তারা আইনের কথা বলে। কিš‘ আইনের মধ্যেই বলা আছে সরকার চাইলেই তাকে এই মুহূর্তে বিদেশে পাঠাতে পারে। বাধা আইন নয়। বাধা হচ্ছে এই সরকার। সরকার খালেদা জিয়াকে স্তব্ধ করে দিতে চায়।

১৩ নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরে অন্ত্রে কয়েকদফা রক্তক্ষরণে মৃত্যুঝুঁকিতে পড়েন খালেদা জিয়া। রক্তক্ষরণের লক্ষণ দেখলেই ইনজেকশন আর ওষুধত্র দিয়ে তাৎক্ষনিক তা বন্ধ করার চেষ্টা করেছেন চিকিৎসকরা। তবে পরিস্হিতি ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে ২৪ নভেম্বর চিকিৎসকেরা তার এন্ডেস্কাপি ও কলোনস্কোপি করেন। ২৮ নভেম্বর রাতে সংবাদ সম্মেলনে মেডিকেল বোর্ড জানায়, খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। ২৭ ডিসেম্বর ক্যাপসুল এন্ডোস্কপি পরীক্ষায় তাঁর ক্ষুদ্রান্তের নিচে রক্তক্ষরণের এই উৎসটি দেখতে পান চিকিৎসকেরা। পরে ক্ষুদ্রান্তের নিচে রক্তক্ষরণের উৎস বন্ধ করতে ‘ব্যান্ড লাইগেশন’ করা হয়। ফলে সাময়িকভাবে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয় খালেদার।

মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসকরা জানান, স্বাস্হের প্যারামিটারগুলো এখানো উঠানামা করছে। হিমোগ্লোবিন কমে যাচ্চে। আবারও রক্ত সরবরাহ করে তা ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্চে। এসব কারনে খালেদা জিয়ার শরীরে খনিজে অসমতা দেখা দিচ্ছে। ফলে কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখা দিয়েছে। এভাবে স্বাস্হের প্যারামিটারগুলো নিচে নামা অব্যাহত থাকলে পরিস্হিতি জটিল হয়ে যাবে।

হাসপাতালে যেভাবে কাটছে দিন : হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, অনেকটা নিরিবিলি সময় কাটছে খালেদা জিয়ার। ডাক্তার-নার্সদের সঙ্গে তেমন একটা কথা বলেন না তিনি। দিনে দুইবার খাবার নিয়ে শ্বাশুড়িকে দেখতে আসেন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলের স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি। এ সময় সিঁথি শ্বাশুড়িকে অউটিয়ে বসান; পরিস্কার করেন। নিজ হাতে খাবার খাওয়ান। টুকিটাকি গল্প করেন। এর বাইরে বেশিরভাগ সময়ই চোখ বুজে থাকেন। চিকিৎসকরা সিসিইউতে এলে প্রয়োজনীয় কথা বলেন। প্রথমে তরল খাবার ছাড়া মুখে কিছুই খেতে না পরেলেও এখন নরম খিচুড়ি, ডিম রুটি খেতে পারছেন। তবে শরীর অত্যন্ত দূর্বল।

হাসপাতলে মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসক, পরিবারের সদস্য এবং শুধু বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাসপাতালে ঢোকার অনুমতি রয়েছে। দলের সিনিয়র নেতারা এখনো হাসপাতালে যাওয়ার অনুমতি পাননি। সেখানে সার্বক্ষনিক থাকেন ডা. এজেডএম জাহিদ। ছোট ছেলের স্ত্রী সিঁথি ছাড়া খালেদা জিয়ার পরিবারের অন্য কোনো সদস্য এখানো তাকে হাসাপাতালে দেখতে যাননি। কেবিনের সামনে তার নিরাপত্তার জন্য পোশাকধারী তিনজন পুলিশ থাকেন। হাসপাতালে খালেদা জিয়ার কেবিনের পাশে আরেকটি কেবিন বুকিং রয়েছে। কেবিনের সামনে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনীর (সিএসএফ) বেশ কয়েকজন সদস্য সবসময় দায়িত্ব পালন করেন। খালেদা জিয়ার গাড়িচালকও নিয়মিত হাসপাতালে আসা-যাওয়া করেন।

গত মাসের (নভেম্বর) ১৩ তারিখ ভর্তি করা হয় খালেদা জিয়াকে। ১৭ নভেম্বর তার লিভার সিরোসিস ধরা পরে। উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং জামার্নি এই ৩ টি দেশের যে কোনো একটিতে নেয়ার পারমর্শ দিয়েছেন মেডিক্যাল বোর্ড। বোর্ড প্রধান প্রফেসর ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য এ মুহূর্তে যে প্রযুক্তি দরকার তা ভারতীয় উপমহাদেশে নেই। এসমস্ত চিকিৎসা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানিতে সম্ভব। এখনই দেশের বাইরে না নেয়া হলে আবার রক্তক্ষরণ হলে বন্ধের চিকিৎসা দেশে নেই বলে জানান তিনি

ভিন্নবার্তা/এমএসআই

আরো পড়ুন

মাসিক আর্কাইভ

© All rights reserved © 2021 vinnabarta.com
Customized By Design Host BD