1. [email protected] : admin : jashim sarkar
  2. [email protected] : admin_naim :
  3. [email protected] : admin_pial :
  4. [email protected] : admin : admin
  5. [email protected] : Rumana Jaman : Rumana Jaman
  6. [email protected] : Saidul Islam : Saidul Islam
হাসপাতালে খালেদা জিয়া: আইন ও নজিরে কেটে গেছে এক মাস - |ভিন্নবার্তা

হাসপাতালে খালেদা জিয়া: আইন ও নজিরে কেটে গেছে এক মাস

vinnabarta.com
  • প্রকাশ : সোমবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২১, ০৭:১১ pm

নীরা নুসরাত: হাসপাতালে ভর্তির ২ দিন আগে গত ১১ নভেম্বর বোনকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দার। এই আবেদন আইনি মতামতের জন্য পাঠানোর হয় আইন মন্ত্রণালয়ে। ২৩ নভেম্বর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা দেখা করেন আইনমন্ত্রীর সঙ্গে। এরপর থেকেই মন্ত্রী বলেছেন আইন এবং নজির খুঁজছেন তিনি। এর মধ্যেই কেটে গেছে এক মাস। বিএনপিও আইনি পথে না হেঁটে রাজপথে বিদেশে চিকিৎসার জোর দাবি জানাচ্ছে।

সরকার খালেদা জিয়ার জীবননাশের ষড়যন্ত্র করছে, দলীয় নেতারা এমন অভিযোগ তুলে ক্ষমতাসীনদের পতনের হুমকি দিচ্ছে বিএনপি। একই সঙ্গে দলটির নেতারা এটাও বলছেন, একমাত্র সরকারই পারে খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ করে দিতে। এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। কেন সরকার তাকে বিদেশে যেতে দিতে চায় না? তারা আইনের কথা বলে। কিন্তু আইনের মধ্যেই বলা আছে সরকার চাইলেই তাকে এই মুহূর্তে বিদেশে পাঠাতে পারে। বাধা আইন নয়। বাধা হচ্ছে এই সরকার। সরকার খালেদা জিয়াকে স্তব্ধ করে দিতে চায়।

গত ৫ ডিসেম্বর খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠাতে আইনি উপায়’ খোঁজার কথা বলেছিলেন আইনমন্ত্রী। গত রবিবার (১২ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, একটু অপেক্ষা করুন, দেখবেন। এর আগে নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার বিষয়ে আবেদন বিবেচনা করতে ‘নজির’ খুঁজছেন। উপমহাদেশে কোনো আদালতে এমন নজির আছে কি না’ তা দেখে কিছুদিনের মধ্যেই’ সিদ্ধান্ত জানাবেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলছেন, নজির নয় আইনেই ক্ষমতা দেওয়া আছে বিদেশে পাঠানোর। তাই দেরি না করে এই বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানানো উচিৎ সরকারের। এজন্য যেকোনো শর্ত মানতে প্রস্তুত আইনজীবীরা। জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন বলেন, যে যাই বলুক না কোনো আইনমন্ত্রীর মতো একজন লোকের একটা আবেদনের প্রেক্ষিতে আইনটা দেখতে এতো সময় লাগতে পারে বলে আমি মনে করি না। সে যাই বলুক না কোনো বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে বিচার বিশ্লেষণ করে তিনি একটি সিদ্ধান্ত জানাবেন, আমরা সেই অপেক্ষাতেই আছি।

অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী বলছেন ভিন্ন কথা, তার মতে কোনো দণ্ডিত আসামিকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া কোনো সুযোগ নেই বিশ্বে। দুদুক আইনজীবী এ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম বলেন, আইনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে আমরা এই ধরণের কোনো নজির পাইনি। বাসায় থাকার ব্যাপারটা একেবারেই সরকার মানবিকতা দেখিয়েছিলো খালেদা জিয়ার প্রতি।

এদিকে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের কোনো উন্নতি নেই। বরং সার্বক্ষণিক ঝুঁকিতে রয়েছেন তিনি। থেমে থেমে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। রক্তক্ষরণের লক্ষণ দেখলেই ইনজেকশন আর ওষুধপত্র দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। হিমোগ্লোবিন উঠা-নামা করছে। মাঝে মাঝে রক্তবমি হচ্ছে। তরল খাবার ছাড়া মুখে কিছুই খেতে পারছেন না। স্যালাইনের মাধ্যমে খাদ্য খাটতি পূরণ করা হচ্ছে। শরীর অত্যন্ত দুর্বল। শারীরিক অবস্থা দিন দিনই খারাপের দিকে যাচ্ছে। তার সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ছে।

জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার ফের অবনতি হয়েছে। পরিপাকতন্ত্রে থেমে থেমে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। কখনো পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছেনা। রক্তক্ষরণ বন্ধের জন্য দফায় দফায় নতুন নতুন ইনজেকশন ওষুধপত্র দেওয়া হচ্ছে। তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডও এ নিয়ে চিন্তিত। যতই দিন যাচ্ছে ততই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। যে কোনো সময় অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটে যেতে পারে।

সংশ্লিষ্ট মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য জানান, খালেদা জিয়ার পরিপাকতন্ত্রের রক্তক্ষরণ কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়, আবার তা শুরু হয়। রক্তক্ষরণের কারণে একাধিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে স্বাস্থ্যের প্যারামিটারগুলো উঠানামা করছে। হিমোগ্লোবিন কমে যাচ্ছে। আবারও রক্ত সরবরাহ করে তা ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব কারণে খালেদা জিয়ার শরীরে খনিজে অসমতা দেখা দিচ্ছে। ফলে কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখা দিচ্ছে। এভাবে স্বাস্থ্যের প্যারামিটারগুলো নিচে নামা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে যাবে।

হাসপাতালে যেভাবে কাটছে দিন
এভারকেয়ার হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অনেকটা স্থিতিশীল। আজ সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) তার রক্তক্ষরণ হয়নি। শারীরিক অন্যান্য প্যারামিটারও ছিল অনেকটা স্বাভাবিক। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, অনেকটা নিরিবিলি সময় কাটছে খালেদা জিয়ার। ডাক্তার-নার্সদের সঙ্গে তেমন একটা কথা বলেন না তিনি। কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে জানান খুব আস্তে করে। শারীরিক দুর্বলতার কারণে ঘুমের নির্দিষ্ট সময় নেই তার। তা ছাড়া বেশিরভাগ সময়ই চোখ বুজে থাকেন; চিকিৎসকরা সিসিইউতে এলে প্রয়োজনীয় কথা বলেন। সকাল ৬টার মধ্যেই সাধারণত খালেদা জিয়ার ঘুম ভাঙে। পরিচ্ছন্ন হয়ে ওষুধ সেবন করেন। এর আধা ঘণ্টা পর হালকা নাশতা করেন। নাশতায় মূলত তার বাসা থেকে সরবরাহ করা তরল খাবার দেওয়া হয়। এরপর তিনি আবারও একটু ঘুমিয়ে নেন।

সিসিইউতে মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসক, পরিবারের সদস্য এবং শুধু বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রবেশের অনুমতি রয়েছে। দলের সিনিয়র নেতারা এখনো হাসপাতালে যাওয়ার অনুমতি পাননি। সেখানে সার্বক্ষণিক থাকেন ডা. এজেডএম জাহিদ। দিনে দুইবার খাবার নিয়ে শাশুড়িকে দেখতে আসেন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলের স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি। সিসিইউর সামনে তার নিরাপত্তার জন্য পোশাকধারী তিনজন পুলিশ থাকেন। হাসপাতালে খালেদা জিয়ার কেবিনের পাশে আরেকটি কেবিন বুকিং রয়েছে। কেবিনের সামনে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনীর (সিএসএফ) বেশ কয়েকজন সদস্য সবসময় দায়িত্ব পালন করেন। খালেদা জিয়ার গাড়িচালকও নিয়মিত হাসপাতালে আসা-যাওয়া করেন।

গত মাসের (নভেম্বর) ১৩ তারিখ ভর্তি করা হয় খালেদা জিয়াকে। ১৭ নভেম্বর তার লিভার সিরোসিস ধরা পরে। উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং জামার্নিতে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছে মেডিকেল বোর্ড। কিন্তু সরকারের অনুমতি এখনো মেলেনি।

ভিন্নবার্তা ডটকম/এন

আরো পড়ুন

মাসিক আর্কাইভ

© All rights reserved © 2021 vinnabarta.com
Customized By Design Host BD