শিরোনাম

প্রস্তুত ১৩৫০ শয্যা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গণবিজ্ঞপ্তি

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য সারাদেশে এক হাজার ৩৫০টি আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত করেছে সরকার। রাজধানী ঢাকাসহ পাঁচটি বিভাগের বিভিন্ন জেলায় এই শয্যা চালু করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর এ তথ্য জানান।

গত রোববার দেশে প্রথমবারের মতো তিনজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর তথ্য জানায় সরকার। ওই তিনজনই রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। সেখানে চিকিৎসায় দুইজন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। গতকাল সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ তথ্য জানিয়ে বলেন, যে কোনো সময় তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। তাদের সংস্পর্শে আসা কোয়ারেন্টাইনে থাকা সন্দেহভাজনরাও ভালো আছেন।

করোনা আক্রান্ত তিন ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার পর দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নেয়। কয়েকটি জেলায় প্রায় সাড়ে তিনশ’ ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। একই সঙ্গে আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। গতকাল পর্যন্ত রাজধানীর ছয় হাসপাতালে ৪০০, চট্টগ্রাম মহানগরীর ২ হাসপাতালে ১৫০, সিলেট মহানগরীর ২ হাসপাতালে ২০০, বরিশাল মহানগরীর ২ হাসপাতালে ৪০০ এবং রংপুর মহানগরীর ২ হাসপাতালে ২০০ আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে।

আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর বলেন, তিন রোগীর বাইরে অন্য কেউ সংক্রমিত না হলেও সরকার প্রস্তুতি নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে এসব এলাকায় আইসোলেশন শয্যাগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। অন্যান্য জেলায়ও আইসোলেশন শয্যা চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।

সারাদেশে মাস্ক তৈরির আহ্বান
সারাদেশে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে মাস্ক তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, সংশ্নিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে; পপলিনের কাপড় দিয়ে তিন স্তর বিশিষ্ট এ মাস্ক যে কোনো প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তৈরি করতে পারবেন। এই মাস্ক পরার জন্য পপলিনের ফিতা থাকতে হবে। একবার ব্যবহার করে সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে ও শুকিয়ে এই মাস্ক আবার ব্যবহার করা যাবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে দুইজন সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং তাদের যে কোনো দিন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গতকাল সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এই ভাইরাস মোকাবিলায় সরকার সতর্ক ও সজাগ রয়েছে। প্রতিরোধে সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে। সুতরাং এটি নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই।

অনুষ্ঠানে বিদেশফেরত যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সামিট গ্রুপের দেওয়া পাঁচটি থার্মাল স্ক্যানার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি বলেন, করোনা শনাক্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিদেশ থেকে আসা সবাইকে থার্মাল স্ক্যানারের মধ্য দিয়ে আসতে হচ্ছে। চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পরপরই সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আমরা এটি চালু করেছিলাম। মাঝখানে কিছু স্ক্যানার বিকল হয়ে পড়েছিল। পরে আবার কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেগুলোও আসা শুরু করেছে। এর মধ্যে সামিট গ্রুপের দেওয়া এই পাঁচটি স্ক্যানার পেয়ে আরও উপকার হলো। সামিট গ্রুপের মতো দেশে অন্যান্য বড় প্রতিষ্ঠান ও দানশীল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক বলেন, বিদেশফেরত যাত্রীদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মানুষ সরকারকে এ কাজে সহায়তা করছে। বিদেশ থেকে কেউ এলে তারা, তাদের আত্মীয়স্বজন এমনকি প্রতিবেশীরাও আইইডিসিআরের হটলাইনে ফোন করে পরামর্শ চাচ্ছেন। আবার বিদেশফেরতদের হোম কোয়ারেন্টাইনের থাকার বিষয়েও তারা পরামর্শ দিচ্ছেন। এগুলো আশাবাদী পদক্ষেপ। নিজ নিজ অবস্থান থেকে এ ধরনের সচেতনতা সৃষ্টি হলে এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মানুষ মুক্ত থাকবে।

বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা নিয়ে সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগে চিকিৎসকের সংখ্যা ছিল ১০ জন। এখন তা ৩০ জনে উন্নীত করা হয়েছে। ডেস্কের সংখ্যা দুটি থেকে বাড়িয়ে চারটি করা হয়েছে। সুতরাং জনবল স্বল্প থাকার অভিযোগ সঠিক নয়। এরপরও সংশ্নিষ্ট বিভাগগুলো কাজ করছে।

করোনা মোকাবিলায় সরকার স্কুল-কলেজ ছুটির বিষয়টি ভাবছে কিনা- জবাবে তিনি বলেন, শুধু স্কুল-কলেজ নয়, দেশের বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা কলকারখানাগুলোতেও বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কাজ করে। তাদের নিয়েও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভাবছে। স্কুলসহ সব জায়গায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। সংশ্নিষ্ট সব মন্ত্রণালয় নিয়ে বৈঠক করে নিজ নিজ মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে ব্যবস্থা নিতে হবে।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় তিনটি কমিটি কাজ করছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটি সার্বক্ষণিক কাজ করছে। বিদেশ থেকে কেউ এলে তাদের শনাক্ত করে পৃথক অর্থাৎ হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। এই মুহূর্তে বিদেশে অবস্থান করা ব্যক্তিদের দেশে না আসার অনুরোধ করেন তিনি।

গণবিজ্ঞপ্তি জারি
করোনাভাইরাসকে বিশ্ব মহামারি হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই ভাইরাস নিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এই ভাইরাস মোকাবিলায় জনস্বার্থে আইনের প্রয়োগ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত ওই গণবিজ্ঞপ্তিতে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন ২০১৮-এর বিভিন্ন ধারা, উপ-ধারাকে উল্লেখ করে প্রয়োজনে বর্ণিত আইনগুলো প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
আরো পড়ুুন