1. [email protected] : admin : jashim sarkar
  2. [email protected] : admin_naim :
  3. [email protected] : admin_pial :
  4. [email protected] : admin : admin
  5. [email protected] : Rumana Jaman : Rumana Jaman
  6. [email protected] : Saidul Islam : Saidul Islam
সৈয়দপুরে গৃহবধূ আকলিমাকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে নরপশুরা - |ভিন্নবার্তা

সৈয়দপুরে গৃহবধূ আকলিমাকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে নরপশুরা

vinnabarta.com
  • প্রকাশ : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২০, ০৯:২৪ pm

নীলফামারীর সৈয়দপুরে গৃহবধু আকলিমা আক্তার (২৫) খুনের রহস্য উদঘাটন হয়েছে। সিগারেটের কাগজে সুইসাইড নোটের সূত্র ধরেই পুলিশ হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করে। গনধর্ষনের শিকার ওই গৃহবধু এক পর্যায়ে বাঁধা প্রদান করায় এ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। পুলিশ ঘাতক আনারুল (২৬) ও শুভকে (২১) গ্রেফতার করে এবং তারা ঘটনার আদ্যপান্ত আদালতের বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। তবে এ ঘটনায় জড়িত অপর আসামী হ্নদয় (২০) পলাতক রয়েছে।’

সূত্র মতে, গত ২৩ আগষ্ট সকালে উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের মৎস্য খামারের নিকটে বৈদ্যুতিক টাওয়ারের নিচে অজ্ঞাতনামা মহিলার লাশ পড়ে থাকার সংবাদ পায় সৈয়দপুর থানা পুলিশ। তাৎক্ষনিক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল পিপিএম, সৈয়দপুর সার্কেল এর নেতৃত্বে থানা অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসনাত খান, ওসি (তদন্ত) আতাউর রহমান, এসআই সাহিদুর রহমানসহ একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে। কিছুক্ষনের মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় ডিবি পুলিশের একটি দল। সেখানে ছিল উৎসুক জনতার ভীড়। কে এই মৃত দেহটি? কেউ বলতে পারে না।

ঘটনাস্থলে থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে। প্রায় দুই ঘন্টা পর পুলিশ জানতে পারে লাশটি কিসামত কামারপুকুরে মৃত আবেদ আলী মেয়ে আকলিমা। পুলিশ যথা নিয়মে মৃতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং মৃতের কোমর হইতে একটি সুসাইড নোটসহ একটি কাঠ পেন্সিলের টুকরা অংশ পাওয়া যায়। যাহা ডার্বি সিগারেটের ফয়েল পেপারের উল্টো পাশে সাদা অংশে কাঠ পেন্সিল দিয়ে লেখা। পুলিশ উহা জব্দ করে। মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য নীলফামারী হাসপাতালে প্রেরন করা হয় এবং মৃতের মাতা মমতাজ বেগম নিজে বাদী হয়ে মৃতের স্বামী মোঃ শরিফুল ইসলামকে (২৮) সন্দিগ্ধ করে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে সৈয়দপুর থানায় একটি হত্যা মামলা নং- ১৬, তাং- ২৩/০৮/২০২০খ্রিঃ ধারাঃ ৩০২/৩৪ পেনাল কোড দায়ের করেন। যদিও বাদীর প্রাথমিক ধারনা ছিল, হয়তবা তার স্বামী এই হত্যাকান্ডটি সংঘটিত করেছে কিন্তু মৃতের কোমড়ে পাওয়া সুসাইড নোটটি পুলিশের মনে রহস্যের জন্ম দিয়েছিল।

ঘটনার পরের দিন ২৪ আগষ্ট সকালে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বিপিএম, পিপিএম সৈয়দপুর থানায় হাজির হন। মৃতের পরিবারের লোকজনের সহিত ঘটনার বিষয়ে পুলিশ সুপার নিজে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং উপস্থিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সৈয়দপুর সার্কেলকে বিভিন্ন তদন্ত সংশ্লিষ্ট নির্দেশাবলী প্রদান করেন। ঘটনা উদঘাটনে সর্বোচ্চ বুদ্ধিমত্বা ও সামর্থ দিয়ে তদন্ত করার জন্য পরামর্শ প্রদান করেন।

সুসাইড নোটকে ভিক্তি করে শুরু হয় তদন্ত। সুসাইড নোটটি ভিকটিমের কিনা তাহা যাচাই করার জন্য ৮ বছর আগে যে মাদ্রাসা থেকে মৃত মেয়েটি দাখিল পাশ করেছিল তার হাতের লেখার সন্ধান করে পুলিশ। পরবর্তীতে মাদ্রাসায় তার হাতের লেখার সাথে মিল না থাকায় সুসাইড নোটটি মেয়েটির হাতের লেখা নয় বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়। এতে সন্দেহের তীর আরও ঘনীভূত হয় এবং পুলিশ নিশ্চিত হয় এটি একটি নৃশংস হত্যাকান্ড। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ আগষ্ট পুনরায় নির্জন ঘটনাস্থল এলাকায় হাজির হয়ে পাশের বাঁশঝাড়ে তল্লাশী চালায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পালের নেতৃত্বে একদল পুলিশ। এক সময় পাওয়া যায় ডার্বি সিগারেটের একটি ছেঁড়া প্যাকেট, যাহা উল্টোপাশে সুসাইড নোটের মত একই লেখা কিন্তু ছেঁড়া। পুলিশ সেটিও যথারীতি জব্দ করে। পরবর্তীতে থানা পুলিশ লুঙ্গি পড়ে রাখাল বেশে ঘটনাস্থল এলাকায় অবস্থান করে মামলায় জড়িত সন্দিগ্ধ আনারুল ও শুভ নামের দুইজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
কামারপুকুরের কাঙ্গালুপাড়ার আব্দুল করিমের পুত্র আনারুল ইসলাম পেশায় রাজমিস্ত্রি। এছাড়া শুভ একই পাড়ার মতিয়ার রহমানের এবং আত্মগোপনে থাকা হৃদয় হাবিবুর রহমানের পুত্র।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল জানান, ধৃত আসামী আনারুল, শুভ ও পলাতক আসামী হ্নদয় তিন জনে পালাক্রমে ধর্ষন করে। একাধিকবার পাশবিক নির্যাতন মেয়েটি সহ্য করতে না পেরে এক পর্যায়ে বাধা প্রদান করে। যৌন পিপাসু আসামীত্রয় মেয়েটিকে বারংবার ধর্ষন না করতে পারার আক্রোশে অমানবিকভভাবে করে হত্যা করে। এরপর আসামী আনারুল ইসলাম তার নিজ হাতে একটি সুইসাইড নোট লিখে মৃত আকলিমার কোমড়ে গুঁজে রাখে এবং বাঁশঝাড়ের পাশেই বৈদুৎতিক টাওয়ারের মধ্যে মেয়েটির গলায় রশি বেধে নৃশংস হত্যাকান্ডটিকে আত্মহত্যা হিসাবে প্রকাশের একটি অপকৌশল গ্রহন করে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গতকাল শুক্রবার আসামিদ্বয়কে বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করা হলে তারা উভয়েই স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

আজ শনিবার সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোখলেছুর রহমান জানান, স্বামীর পরকীয়ার কারণে তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো এবং আকলিমাকে প্রায় নির্যাতন করতো শরিফুল। এরই মধ্যে অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাবার বাড়িতে চলে আসে সে। এখানে এসেও তাকে গালমন্দ করায় ক্ষোভ ও অভিমানে বাবার বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। ২৩ আগষ্ট সকালে গলায় রশি পেঁচানো আকলিমার লাশ কিছামত এলাকা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ডার্বি সিগারেটের রাংতায় লিখা ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়’ ও পেন্সিলের টুকরো অংশ নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
সুত্র ধরে এক পর্যায়ে কিসামত এলাকায় ছদ্মবেশ ধারণ করে সিগারেট গ্রহণকারীদের হাতের লিখা যাচাই করার কাজ শুরু করা হয়। যার মধ্যে চিরকুটটির লিখার সাথে মিলে যায় আনারুলের লেখার সাথে। তাকে এবং শুভকে গ্রেফতার করা হলে তারা রাতে ধর্ষণ করে হত্যা করে এবং তারা ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহের জন্য গলায় রশি পেচিয়ে হত্যা করে বৈদ্যুতিক পোলের নিচে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ও অশোক কুমার পাল উপস্থিত ছিলেন।

ভিন্নবার্তা/এসআর

আরো পড়ুন

মাসিক আর্কাইভ

© All rights reserved © 2021 vinnabarta.com
Customized By Design Host BD