1. [email protected] : admin : jashim sarkar
  2. [email protected] : admin_naim :
  3. [email protected] : admin_pial :
  4. [email protected] : admin : admin
  5. [email protected] : Rumana Jaman : Rumana Jaman
  6. [email protected] : Saidul Islam : Saidul Islam
সাভারে তিতাসের ৮৬ অভিযানেও মিলছে না ফল |ভিন্নবার্তা
অবৈধ গ্যাস সংযোগ

সাভারে তিতাসের ৮৬ অভিযানেও মিলছে না ফল

vinnabarta.com
  • প্রকাশ : রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৯, ০৫:৪১ অপরাহ্ন
সাভার আঞ্চলিক তিতাস গ্যাস অফিসে স্তুপাকারে রাখা উচ্ছেদ অভিযানে জব্দকৃত পাইপ ও ইনসেটে অভিযানে অবৈধ গ্যাস উচ্ছেদ অভিযান। ছবি: শিরোনাম বিডি

ঢাকা জেলার সাভার উপজেলায় প্রশাসন ও তিতাসের নাকের ডগায় চলছে রাষ্ট্রীয় মূল্যবান সম্পদ তিতাস গ্যাসের হরিলুট। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদানকারী ও ব্যবহারকারীদের দৌরাত্ম্যে মূল্যবান এই সম্পদের অপচয় কোন ভাবেই যেন রোধ করা যাচ্ছে না। এতে করে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে সরকার একদিকে যেমন বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি অপচয় হচ্ছে মূল্যবান এই সম্পদ।

এদিকে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধে তিতাস কতৃপক্ষ মোটা অঙ্কের অর্থলগ্নি করে টানা অভিযান পরিচালনা করলেও মিলছে না সুফল। অপরদিকে এসব অবৈধ গ্যাস সংযোগে ব্যবহৃত নিম্নমানের ফিটিংসের লিকেজ থেকে মাঝে মধ্যেই বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে ঘটছে প্রাণহানির মত ঘটনা।

সাভার আঞ্চলিক তিতাস অফিস সূত্রে জানা যায়, সাভার ও গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় গত তিন বছরে (জানুয়ারি, ২০১৭-অক্টোবর, ২০১৯) অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদে ৮৬টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ৫৬৯টি স্পটে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে ৩৯৪ কিলোমিটার এলাকার ১ লাখ ৭২ হাজার ২’শ অবৈধ গ্যাস সংযোগ। যার অধিকাংশই আবাসিক গ্রাহক। অভিযানে উত্তোলন করা হয়েছে অবৈধ গ্যাস সংযোগে ব্যবহৃত নিম্নমানের এক, দেড়, দুই, আড়াই ও তিন ইঞ্চি ব্যাসের ২ লাখ ৩০ হাজার ৪১৫ ফুট পাইপ। এছাড়াও জব্দ করা হয়েছে রাইজার ও চুলাসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি। অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের অপরাধে এপর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে ২০ লাখ ২৬ হাজার ২০০ টাকা এবং মামলা হয়েছে ১২টি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিটি অভিযান অংশ নেওয়া ৬০ জন দিনমজুরকে ন্যূনতম ১ হাজার টাকা প্রদান করে তিতাস কতৃপক্ষ। প্রত্যেকটি উচ্ছেদ অভিযানে ব্যবহৃত দুটি জেনারেটরের ভাড়া বাবদ খরচ হয় ৫০ হাজার টাকা। এমনকি নিরাপত্তার জন্য রাখা প্রত্যেক অভিযানে ২৫ জন পুলিশ সদস্যকেও না কি প্রদান করতে হয়ে ২৫-৩০ হাজার টাকা। এছাড়া উপস্থিত তিতাস কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক, ও পুলিশসহ প্রায় এক’শ লোকের প্রত্যেকের দুপুরের খাবার বাবদ ২২০ টাকা করে খরচ হয় ২২ হাজার টাকা। এতে করে তিতাসের প্রতিটি গ্যাস উচ্ছেদ অভিযানে ন্যূনতম ব্যয় দাড়ায় প্রায় দেড় লাখ টাকা। আর গত তিন বছরে ৮৬ টি অভিযানে তিতাসের মোট ব্যয় দাড়িয়েছে ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। যদিও প্রতিটি অভিযানে সরকারি বরাদ্দ ৮০ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।

তবে সরকারি অর্থলগ্নি করে তিতাসের এত সংখ্যক অভিযানেও সাভারে যেন কোন ভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না অবৈধ আবাসিক গ্যাস সংযোগের হিড়িক। দিনে অভিযান পরিচালনা করা হলেও রাতের আঁধারে প্রভাবশালী অসাধুদের কারণে একই স্থানে দেওয়া হচ্ছে পুনঃসংযোগ।

জানা গেছে, সাভারের আমিনবাজার, হেমায়েতপুর, তেঁতুলঝোড়া, গেন্ডা, রেডিওকলোনী ও কলমা এলাকায় একাধিকবার তিতাস কতৃপক্ষ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ আবাসিক গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদ করেছে। কিন্তু পরবর্তীতে অধিকাংশ এলাকাতেই আবারো মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদান করেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

এছাড়া সাভারের আশুলিয়া, জামগড়া, শিমুলতলা, ইয়ারপুর, কাঠগড়া, ভাদাইল, গাজীরচট, জিরানী, পলাশবাড়ী, শ্রীপুর, কন্ডা, সুবন্দি, বাইপাইল ও পলাশবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করেও পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি অবৈধ গ্যাস সংযোগ।

আশুলিয়ার এলাকার হাবিবুর রহমানসহ অন্যান্য অবৈধ আবাসিক গ্যাস ব্যবহারকারীরা জানায়, তিতাস কর্মকর্তাদের কথা বলে ২০-৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাদের অবৈধ সংযোগ প্রদান করেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এরপর হঠাৎ তিতাস কতৃপক্ষ এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলে ভাড়াটিয়াসহ তারা পড়েন বিপাকে। পরবর্তীতে প্রভাবশালীদের বৈধ করে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাসে পুনরায় সমপরিমাণ অর্থ দিয়েই সংযোগ নেন তারা। তাই এই দুর্ভোগ এড়াতে তাদের যেন বৈধ সংযোগ প্রদান করা হয় এজন্য তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

দুর্ঘটনার ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিসের ৪নং জোন কমান্ডার আনোয়ারুল হক বলেন, বিগত কয়েক মাসে গ্যাস সংযোগের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে সাভার ও আশুলিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনসহ আট জনের প্রাণহানি হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। অবৈধ গ্যাস সংযোগে ব্যবহৃত নিম্নমানের ফিটিংসের কারণেই এসব দুর্ঘটনা ঘটছে বলেও জানান তিনি।

সাভার আঞ্চলিক তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর ব্যবস্থাপক (বিপনন) প্রকৌ. আবু সাদাত মো. সায়েম জানান, সাভার উপজেলায় প্রায় ৫২ হাজার বৈধ আবাসিক গ্যাস সংযোগের বিপরীতে অসংখ্য অবৈধ সংযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যেই তারা ৫৬৯টি স্পটে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে বিপুল সংখ্যক অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন। একই সাথে জরিমানা ও মামলাও করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও অবৈধ গ্যাস সংযোগ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই রাষ্ট্রীয় এই সম্পদ রক্ষার্থে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীসহ সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অভিযানে ব্যয়ের বিপুল পরিমাণ অর্থলগ্নির ব্যাপারে এই কর্মকর্তা বলেন, কোন এলাকায় অভিযানে যদি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এক মাসের পূর্বে পুনরায় সেই সংযোগ স্থাপন সম্ভব নয়। এতে করে প্রতি এক’শ বৈধ সংযোগে মাসিক সরকার নির্ধারিত ফি অনুযায়ী ৯০ হাজার টাকার গ্যাস সাশ্রয় হচ্ছে। ফলে এ পর্যন্ত তিতাসের ৮৬ অভিযানে ব্যয়ের চেয়ে সরকার অধিকতর লাভবান হয়েছে বলে দাবী এই কর্মকর্তার।

অবৈধ গ্যাস সম্পদের চুরি বন্ধের বিষয়ে জাহাঙ্গীনরগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আনু মোহাম্মদ বলেন, গ্যাস হচ্ছে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন খনিজ সম্পদ। রাষ্ট্রীয় মূল্যবান এই সম্পদের চুরি ও অপচয় কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই সম্পদ চুরির সাথে কেবল প্রভাবশালীরা নয়, তিতাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীও জড়িত।

তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রীয় এই মূল্যবান সম্পদকে বাঁচাতে হলে ২০০৯ সালে গ্যাস সংযোগ প্রদানের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিন্যাস করতে হবে। একই সাথে চুরির সাথে জড়িতদের কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে গ্যাস খাতের বর্তমান এ অরাজকতা বন্ধ করা সম্ভব হবে বলেও মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ।

আইআই/শিরোনাম বিডি

আরো পড়ুন

মাসিক আর্কাইভ

© All rights reserved © 2021 vinnabarta.com
Customized By Design Host BD