শিরোনাম

সাভারে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফরম পূরণে অনিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে একযোগে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হবে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা। নিয়ম অনুযায়ী সাভারের বিভিন্ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ শুরু হয়েছে। তবে ফরম পূরণের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ আছে, জাতীয় শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ফরম পূরণের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির থেকে অতিরিক্ত তিন গুণ টাকা আদায় করা হচ্ছে সাভারের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। ফলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের। আর অতিরিক্ত টাকা পরিশোধ করতে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন নিম্ন, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিভাবকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে এসএসসি পরীক্ষার ফি বাবাদ বিজ্ঞান বিভাগের জন্য এক হাজার ৯৭০ টাকা এবং বাণিজ্য ও মানবিক বিভাগের জন্য এক হাজার ৮৫০ টাকা নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে সুবিধাভোগীরা ম্যানেজিং কমিটির নাম ভাঙিয়ে এই নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত আদায় করছে অনেক স্কুল কর্তৃপক্ষ। যার পরিমাণ স্কুলভেদে ৩৫০ টাকা থেকে তিন হাজার ৪১০ টাকা পর্যন্ত।

 

নাম প্রকাশ না করা শর্তে সাভার ডেইরি ফার্ম হাই স্কুলের এক শিক্ষার্থী জানায়, তাদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির চেয়ে ৩-৪ হাজার টাকা অতিরিক্ত নেয়া হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী প্রকৃত ফির পরিমাণ জানে না। ফলে না বুঝেই অনেকে অভিভাবকদের ফি পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছে।

আশুলিয়ার গোমাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানায়, তাদের স্কুলে প্রতিবারই এসএসসি পরীক্ষার ফি বাবদ অতিরিক্ত টাকা নেন শিক্ষকরা। কিন্তু তারা কোনো রশিদ দেন না। শুধু ফরম পূরণ বাবদ টাকা গ্রহণ করেন।

গোমাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থী জানান, তাদের সময়ও অতিরিক্ত টাকা নেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। পরে কেউ একজন বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) জানায়। পরে দুদক ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়া হয়।

ডেইরি ফার্ম হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা বলেন, ‘পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসএসসি পরীক্ষার ফি বাবদ পাঁচ হাজার ৩৭০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।’

অতিরিক্ত টাকা কী কাজে ব্যয় করা হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

গোমাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সাত্তার দেওয়ান বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অতিরিক্ত টাকা দিয়ে স্কুলে মিলাদের আয়োজন করা হবে।’

জোরপূর্বক টাকা আদায় করা হচ্ছে কেন- জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদককে স্কুলে দেখা করার অনুরোধ জানান।

সাভার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কামরুন্নাহার বলেন, ‘নির্ধারিত বোর্ড ফির অতিরিক্ত আদায় করা অপরাধ। তবে কেউ যদি অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে থাকে তাহলে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

এসময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের রশিদ ছাড়া কোনো টাকা পরিশোধ না করার পরামর্শ দেন তিনি।

এমএম/শিরোনাম বিডি

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
আরো পড়ুুন