শিরোনাম

সাভারেই উৎপাদন হবে উন্নতমানের জারবেরা ফুলের চারা

উপজেলা প্রতিবেদক, সাভার

সারা পৃথিবীতে ফুলের চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে এর বাণিজ্যও সম্প্রসারিত হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ফুলের বাজার প্রায় ১২’শ কোটি টাকার। দেশের প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে বর্তমানে ফুল চাষ হচ্ছে। এ পেশার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় দেড় লাখ মানুষ জড়িত। বিশ্বে ফুলের বাণিজ্যে বাংলাদেশের হিস্যা মাত্র ০.৩ ভাগ হলেও বাংলাদেশের মাটি, জলবায়ু ও সার্বিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় প্রায় সব ধরণের ফুল চাষ বৃদ্ধি করার সুযোগ রয়েছে।

এ লক্ষ্যেই দেশে ফুল ব্যবসার প্রসারের জন্য সাভারের আশুলিয়ায় ফুলের আধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাবে বিদেশী জারবেরা ফুলের চারা উৎপাদন শুরু করেছে বেসরকারি এনজিও সংস্থা পল্লী-কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও পল্লী মঙ্গল কর্মসূচি (পিএমকে)।

বৃস্পতিবার বিকেলে আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় পিএমকে’র কার্যালয়ে ইফাদ-এর আর্থিক সহায়তায় আধুনিক এই ল্যাবরেটরির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

এসময় পিএমকে’র প্রধান নির্বাহী কামরুন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিকেএসএফ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন আব্দুল্লাহ। এছাড়া পিকেএসএফ’র এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল কাদের ও সিনিয়র মহাব্যবস্থাপক ড. আকন্দ মো. রফিকুল ইসলামসহ আমন্ত্রিত অতিথি বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আধুনিক এই ল্যাবরেটরির প্রধান ড. আতাহারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের ফুলের সবচেয়ে বড় ক্লাস্টার যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালিতে অবস্থিত হলেও ঢাকা জেলার সাভারে ফুল চাষ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানকার প্রায় ১৫’শ কৃষক এই পেশার সাথে জড়িত। দিন দিন ফুলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ও অন্যান্য ফসলের চেয়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় ফুল চাষের জমির পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, বিশেষ করে কাট ফ্লাওয়ার হিসেবে জারবেরা দেশে চাষ করা হলেও এর প্রধান উপকরণ চারা দেশে উৎপাদিত না হওয়ায় পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে উচ্চমূল্যে প্রতিটি চারা ৭০-৮০ টাকা দরে নানা ভাবে সংগ্রহ করে চাষীরা। তবে তাদের ল্যাবে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে রোগমুক্ত সুস্থ্য সবল জারবেরা ফুলের চারা উৎপাদন শুরু করেছেন তারা। এতে করে সংগৃহীত চারার চেয়ে তুলনামূলক কম মূল্যে প্রতিটি চারা ৩৫-৪০ টাকা দরে কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করা সম্ভব। এজন্য ইতোমধ্যেই চায়না থেকে উন্নতমানের জারবেরা ফুলের মাতৃগাছ সংগ্রহের পাশাপাশি যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক পদার্থ সংগ্রহ করা হয়েছে।

আইআই/শিরোনাম বিডি

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
আরো পড়ুুন