শিরোনাম

সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের দায়িত্ব

ভিন্নবার্তা ডেস্ক:

পৃথিবীতে মা-বাবাই সন্তানের সবচেয়ে আপনজন। সন্তানরাও বাবা-মায়ের কলিজার টুকরো; সবচেয়ে আপনজন। সুসন্তান পার্থিব জীবনে সুখ-শান্তির এবং পরকালে মুক্তির অন্যতম মাধ্যম। ধন-সম্পদ, প্রাণ ও বংশপরম্পরা রক্ষার হাতিয়ার। সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের রয়েছে অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য, যা পাওয়ার অধিকার প্রতিটি সন্তানের রয়েছে। কয়েকটি এখানে উল্লেখ করছি।

তাওহিদের বাণী

সন্তান জন্মের পর তার কানে এক আল্লাহর কথা পৌঁছে দেওয়া বাবা-মায়ের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে সুন্নত হলো, সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর ডান কানে আজান এবং বাম কানে ইকামত দেওয়া। আবু রাফে (রা.) বলেন, ‘আমি মহানবী (সা.)-কে দেখেছি, ফাতিমা (রা.)-এর গর্ভে হাসান (রা.) জন্মগ্রহণ করলে তিনি তার কানে নামাজের আজানের মতো আজান দিয়েছেন।’ (তিরমিজি, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৮৩)

শিশু যখন কথা বলতে শুরু করবে, তখন সর্বপ্রথম তাওহিদের বাণী শেখানোর কথা হাদিসে এসেছে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘যখন তোমাদের সন্তান কথা বলতে শিখে তখন তাদের কালেমা লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ শিক্ষা দাও।’ (বায়হাকি)

অর্থবহ নাম

মানুষের ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটে নামের মাধ্যমে। দুনিয়ার এ নামেই পরকালে তাকে ডাকা হবে। নামের একটি প্রভাব অবশ্যই রয়েছে। তাই বাবা-মায়ের কর্তব্য হলো তার সন্তানের একটি অর্থবহ নাম রাখা। মহানবী (সা.) অর্থবহ নয় এমন অনেক নাম পরিবর্তন করে সুন্দর নাম রেখেছেন। যেমন আবদুল ওজ্জা নাম পরিবর্তন করে রেখেছেন আবদুল্লাহ, আসিয়া নাম পরিবর্তন করে রেখেছেন জামিলা। বুররা নাম পরিবর্তন করে রেখেছেন জয়নব।

আকিকা

শিশুর জন্মের সপ্তম দিন আকিকা করা সুন্নত। মহানবী (সা.) বলেন, ‘প্রতিটি শিশু তার আকিকার সঙ্গে বন্ধক থাকে। সুতরাং তার জন্মের সপ্তম দিন তার পক্ষ থেকে পশু জবেহ করবে, মাথার চুল মুণ্ডন করবে ও নাম রাখবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ছেলের জন্য দুটি ছাগল এবং মেয়ের জন্য একটি ছাগল আকিকা করবে।’ (বায়হাকি)

খতনা

বাবা-মায়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো পুত্রসন্তানের খতনার ব্যবস্থা করা। এটি সুন্নতে ইবরাহিমি। ইবরাহিম (আ.) বৃদ্ধ বয়সে নিজের খতনা নিজে করেছেন। মহানবী (সা.) বলেছেন, মানবীয় স্বভাবসম্মত কাজ পাঁচটি। এর মধ্যে একটি হলো খতনা। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬২৯৭)

লালনপালন

সন্তানকে যথাযথভাবে লালনপালন করা বাবা-মায়ের কর্তব্য। সন্তানের জীবনের নিরাপত্তা, শিক্ষা, চিকিৎসা, রোগমুক্ত রাখা, স্বাস্থ্যবান হিসেবে গড়ে তোলা এবং জীবনের উন্নতি ও বিকাশকল্পে যথাসাধ্য প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তার জন্য পুষ্টিকর খাদ্য, বিশুদ্ধ পানিসহ প্রয়োজনীয় সবকিছুর ব্যবস্থা করা আবশ্যক। আদর-যত্নে তাদের গড়ে তুলতে হবে। মহানবী (সা.) হাসান-হোসাইন (রা.)-কে চুমু দিতেন। এক গ্রাম্য ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে বলল, ‘আপনারা কি শিশুদের চুমু দেন, আমরা তো চুমু দিই না। মহানবী (সা.) তার কথা শুনে বলেন, যদি আল্লাহ তোমাদের অন্তর থেকে দয়া-মায়া উঠিয়ে নেন, তাহলে আমার কী করার আছে!’ (বুখারি ও মুসলিম)

শিক্ষাদান

বাবা-মায়ের প্রধান দায়িত্ব হলো সন্তানকে সুশিক্ষা দান করা। একজন মুসলমানের জন্য আল্লাহর কী কী আদেশ-নিষেধ রয়েছে, তা সন্তানকে শিক্ষা দেওয়া ইসলামের অন্যতম ফরজ। মহানবী (সা.) বলেন, প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। (ইবনে মাজাহ, বায়হাকি, মিশকাত, পৃষ্ঠা ৩৪)

আদব-আখলাক

সন্তানের চারিত্রিক দিক দেখাও বাবা-মায়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তাদের সুন্দর আদব-আখলাক শেখাতে হবে। নম্রতা, ভদ্রতা ও শিষ্টাচারের পাঠ দিতে হবে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘বাবা স্বীয় সন্তানকে শিষ্টাচারের চেয়ে উত্তম কিছু শেখাতে পারে না।’ (তিরমিজি, মিশকাত, পৃষ্ঠা ৪২৩)

ইবাদতের অভ্যাস

বাবা-মায়ের অন্যতম দায়িত্ব হলো বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্তানকে নামাজ, রোজা, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল ইত্যাদিতে অভ্যস্ত করে গড়ে তোলা। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের সন্তানের বয়স সাত বছর হয় তখন নামাজ পড়ার তাগিদ দাও। যখন ১০ বছর বয়সে উপনীত হয় তখন নামাজ পড়ার জন্য শাসন করো এবং তাদের বিছানা পৃথক করে দাও।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৫)

দোয়া

সন্তানকে আদব-কায়দা ও সুশিক্ষা দেওয়াই যথেষ্ট নয়, তাদের কল্যাণের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে দোয়াও করতে হবে। সন্তান জন্ম নেওয়ার আগে থেকেই তাদের কল্যাণের জন্য দোয়া করার শিক্ষা দিয়েছেন আল্লাহতায়ালা। সন্তানের জন্য দোয়া করতে গিয়ে জাকারিয়া (আ.) বলেন, ‘হে আল্লাহ, আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাকে নেক সন্তান দান করুন, অবশ্যই আপনি দোয়া শ্রবণকারী।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ৩৮)

বিয়ে

সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হলে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করা বাবা-মায়ের অন্যতম দায়িত্ব। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা বিয়েহীন, তাদের বিয়ে সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণ, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছল করে দেবেন।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩২)

মহানবী (সা.) তিনটি কাজ দ্রুত করতে বলেছেন। এক. ওয়াক্ত হলে নামাজ পড়া। দুই. ছেলেমেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হলে বিয়ের ব্যবস্থা করা। তিন. জানাজা উপস্থিত হলে জানাজা পড়া। (তিরমিজি, হাদিস : ১০৭৫)

ভিন্নবার্তা ডটকম/এন

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
আরো পড়ুুন