1. [email protected] : admin : jashim sarkar
  2. [email protected] : admin_naim :
  3. [email protected] : admin_pial :
  4. [email protected] : admin : admin
  5. [email protected] : Rumana Jaman : Rumana Jaman
  6. [email protected] : Saidul Islam : Saidul Islam
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবরারের মৃত্যুর তদন্ত প্রতিবেদন |ভিন্নবার্তা

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবরারের মৃত্যুর তদন্ত প্রতিবেদন

vinnabarta.com
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০৩ অপরাহ্ন

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র নাইমুল আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (১১ নভেম্বর) বিকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি দল এ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামীম ফরহাদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আবরারের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশও করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যে কোনো প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠান করতে চাইলে-বিদ্যুৎ, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ থেকে ছাড়পত্র নিতে হবে। এসব সুপারিশসহ ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে পাঁচটি সুপারিশ করা হয়েছে।

এর আগে গত ৮ নভেম্বর স্কুল ছাত্র নাইমুল আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় রেসিডেনসিয়াল স্কুল কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (১ নভেম্বর) বিকালে কলেজ ক্যাম্পাসে কিশোর আলোর অনুষ্ঠান চলাকালীন মঞ্চের পেছনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন রেসিডেনসিয়ালের নবম শ্রেণির দিবা শাখার ছাত্র আবরার। এরপর আয়োজকরা তাকে উদ্ধার করে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ওইদিন ১ নভেম্বর (শুক্রবার) রাতেই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। পরদিন ২ নভেম্বর গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ধন্যপুরে আবরারকে দাফন করা হয়।

এ দিকে নাঈমুল আবরারের মৃত্যুর ঘটনার পর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দৈনিক প্রথম আলো ও অনুষ্ঠানের আয়োজক কিশোর আলোর অব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় তোলেন অনেকে।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে কার্টুনিস্ট মোরশেদ মিশু ফেসবুক স্ট্যাটাসে দাবি করেন, রেসিডেনসিয়ালের ছাত্র আবরার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর নিকটস্থ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে না নিয়ে কেন মহাখালীর আয়েশা হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তার ফেসবুকের স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, ‘কিশোর আলো কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তহীনতায় এবং মাঠে বিরাজমান আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালের ‘এফসিপিএস’ ডাক্তারদের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে তাকে নিকটস্থ ‘সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের’ জরুরি বিভাগে না নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে মহাখালীস্থ ‘আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে’ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কারণ আয়েশা মেমোরিয়াল এই সংক্রান্ত ব্যাপার ‘ফ্রি’ তে করার জন্য চুক্তিবদ্ধ। বলে রাখা ভালো, আবরার তখনো জীবিত এবং অনুষ্ঠান চলমান।’

অন্যদিকে আবরারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন কিশোর আলোর সম্পাদক আনিসুল হক। ঘটনার রাতেই (১টা ৩৫ মিনিট) ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট দিয়ে কিশোর আলোর সম্পাদক লিখেন, ‘গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, কিশোর আলোর অনুষ্ঠান দেখতে এসে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল কলেজের ক্লাস নাইনের ছাত্র নাইমুল আবরার বিদ্যুতায়িত হয়। ওখানেই জরুরি মেডিকেল ক্যাম্পে তাকে নেওয়া হয়। দুজন এফসিপিএস ডাক্তার দেখেন। জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিতে বলেন। হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আনিসুল হক আরও লিখেন, ‘আমার জীবনে এর চেয়ে মর্মান্তিক খবর আমি আর পাই নাই। আমি এখন হাসপাতালে আছি। প্রিন্সিপাল স্যার আছেন। নাইমুল আবরারের বাবা-মা এবং আত্মীয়রা আছেন। আমি ও কিশোর আলো আজীবন আবরারের পরিবারের সঙ্গে থাকব। যদিও এই অপূরণীয় ক্ষতি কিছুতেই পূরণ হবে না। আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় আছি। নাইমুল আবরারের জন্য দোয়া করছি।’

ফেসবুকে সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আনিসুল হক দাবি করেন, ‘এখন ফেসবুকে কতগুলো প্রচারণা দেখছি। আমি আমার জানা দেখা কথাগুলো বলি। আমাকে ৪টার পর জানানো হয়, একজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। আরও খানিক পরে জানানো হয়, আহত ভদ্রলোক সম্ভবত চট্টগ্রাম থেকে আসা। অনুষ্ঠান শেষ হয় ৪টা ৪০ কি ৪টা ৪৫। পাঁচটার পর আমি জানতে পারি, আহত জন মারা গেছেন। মানে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার ১৫/২০ মিনিট পরে মৃত্যুর খবর আমি পাই। তারও আধ ঘণ্টা পর আমাকে জানানো হয়, যিনি মারা গেছেন, তিনি ক্লাস নাইনের ছাত্র রেসিডেনসিয়ালের ছাত্র।’

তিনি বলেন, ‘কাজেই যারা বলছেন, নাইমুল আবরার মারা যাওয়ার খবর গোপন করে অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়া হয়েছে, তারা ঠিক বলছেন না। শেষ শিল্পী অর্ণব মঞ্চে ওঠার আগে দুর্ঘটনা সম্ভবত ঘটেনি। সম্ভবত বলছি, কারণ একেকজন একেকটা কথা বলছেন।’

আনিসুল হক আরও দাবি করেন, ‘দ্বিতীয়ত, ইউনিভার্সেল হাসপাতাল আমাদের স্পন্সর নয়। তারা আমাদের জরুরি মেডিকেল সার্ভিস দেওয়ার জন্য ওখানে ছিলেন। দুজন এফসিপিএস ডাক্তার ছিলেন। একটা অ্যাম্বুলেন্স রেডি ছিল। সেই অ্যাম্বুলেন্সেই নাইমুল আবরারকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কেন তাকে হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে নেওয়া হলো না, এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য আমার জানা নেই। তবে আমরা যে মেডিকেল ক্যাম্প, টিম, অ্যাম্বুলেন্স রেডি রেখেছিলাম, সেটা ভালোর জন্য। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তা থাকা সত্ত্বেও নাইমুল আবরার আমাদের ছেড়ে চলে গেল।’

অপর দিকে আনিসুল হকের স্ট্যাটাসের ঘণ্টাখানেক পর কিশোর আলোর ফেসবুক পেজে আবরারের মৃত্যুর বিষয়ে আরেকটি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে। ওই স্ট্যাটাসে বলা হয়েছে, আবরারের মৃত্যুর কারণে শনিবারের পর্যালোচনা সভাসহ কিআনন্দ সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি সভা ও কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা সমালোচনার মধ্যেই শিক্ষার্থীরা এ ঘটনায় আয়োজক কমিটির অব্যাবস্থাপনাকে দায়ী করেন। পরদিন তারা চার দফা দাবি জানিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে তারা বিক্ষোভ স্থগিত করেন। আবরারের সহপাঠীদের দাবি, ঘটনা চেপে রেখে আবরারকে কলেজের পাশের কোনো হাসপাতালে না নিয়ে মহাখালীর একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার খবর গোপন করে অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়া হয়।

আলোচনা সমালোচনার মধ্যে গত ৬ নভেম্বর আয়োজক কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে প্রথম আলোর সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা করেন আবরারের বাবা মো. মুজিবুর রহমান। শনিবার (৯ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইলিশায় রিসিলের উপস্থিতিতে এই মরদেহ কবর থেকে তুলে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

এনআই/শিরোনাম বিডি

আরো পড়ুন

মাসিক আর্কাইভ

© All rights reserved © 2021 vinnabarta.com
Customized By Design Host BD