1. [email protected] : admin : jashim sarkar
  2. [email protected] : admin_naim :
  3. [email protected] : admin_pial :
  4. [email protected] : admin : admin
  5. [email protected] : Rumana Jaman : Rumana Jaman
  6. [email protected] : Saidul Islam : Saidul Islam
লকডাউন উঠে যাওয়ায় ভয়াবহ রুপ নিবে করোনা! - |ভিন্নবার্তা

লকডাউন উঠে যাওয়ায় ভয়াবহ রুপ নিবে করোনা!

vinnabarta.com
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০, ১১:৪৬ am

৩১ মে থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলছে। চলাচল শুরু হচ্ছে অভ্যন্তরীণ রুটের বিমান, বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ গণপরিবহন। দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে করোনার বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটি আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এ সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন জনস্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা। কেউ বলছেন জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। কেউ বলছেন অর্থনীতিতে গতিসঞ্চারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এগুলো খুলে দেয়ার বিকল্প নেই।

তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের সব কিছু যখন স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তখন দেখা যাচ্ছে রেকর্ডসংখ্যক নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। সংক্রমণের হার দ্রুত বেগে বাড়ছে। কোভিড হাসপাতালগুলো ইতোমধ্যেই তার সামর্থ্যরে সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গেছে। কোনো নতুন কোভিড রোগীকে তারা জায়গা দিতে পারছেন না। দেশের আনাচে-কানাচে পৌঁছে গেছে করোনা ভাইরাস।

সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালেই বৈঠকে বসে করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি কমিটি। দেশবরেণ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত এ কমিটির সদস্যরা বলেন, আমরা এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যকে হুমকিতে ফেলবে।

এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, এখন দেশে করোনা সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী। যদিও দেশের প্রকৃত চিত্র এখনও দৃশ্যমান নয়।

ঈদে অনেক মানুষ ভ্রমণ করেছেন। এতে সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা আছে। এক্ষেত্রে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালনের কোনো বিকল্প নেই। নয়তো বড় ধরনের স্বাস্থ্য সংকট দেখা দিতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদের আদেশে বলা হয়েছে, ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে সীমিত আকারে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস নিজ ব্যবস্থায় খোলা থাকবে। এ সময়ে শর্ত মেনে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্টসংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান ও রেল চলাচল করতে পারবে।

নিজ ব্যবস্থাপনায় বিমান চলাচলের বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করবে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আপাতত বন্ধই থাকছে। এর মধ্যে দিয়ে করোনা ভাইরাসের কারণে দুই মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর অফিস-আদালত খুলছে। করোনা ভাইরাসের কারণে ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি চলছে। ইতোমধ্যে সাত দফায় ছুটি বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বাড়ানো হয়।

এক মাস রোজা শেষে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়ে গেল দু’দিন আগে। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সর্বশেষ ঘোষিত সাধারণ ছুটিও শেষ হচ্ছে ৩ দিন পর, ৩০ মে। অফিস খুললেও এ সময়ে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় জনসাধারণের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। প্রতিটি জেলার প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে চেকপোস্ট ব্যবস্থা থাকবে।

রাত ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না। এ নিষেধাজ্ঞার সময় মানুষকে অবশ্যই স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

হাট-বাজার ও দোকানপাট এবং শপিং মল বিকাল ৪টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। কেনাবেচার সময় পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। আইনশৃঙ্খলা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা এবং জরুরি পরিষেবা যেমন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদি এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

এ ছাড়া কৃষিপণ্য, সার, কীটনাশক, খাদ্য, শিল্প পণ্য, রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের মালামাল, কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এবং এসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মী, ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন ও কর্মী, গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক) এবং ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কের কর্মীরাও এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবেন।

ওষুধশিল্প, কৃষি, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলো, উৎপাদন ও রফতানি শিল্পসহ সব কলকারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে চালু রাখতে পারবে। অবশ্য ২৬ এপ্রিল থেকেই রফতানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা চালু হয়।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় করিগরি কমিটির অন্যতম সদস্য ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান বলেন, সংক্রমণ যখন নিম্নমুখী হয় এবং ৫০ শতাংশ কমে আসে এবং দুই সপ্তাহ ওই অবস্থায় থেকে যায়, তখন লকডাউন সংক্রান্ত আরোপিত বিধিনিষেধ পর্যায়ক্রমে শিথিল করা যেতে পারে।

তবে এর আগে লকডাউন শিথিল কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি বলেন, ঈদপরবর্তী সময়ে ব্যাপকভাবে পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে দেখা যাবে, সংক্রমণের গতি পূর্বের তুলানয় ঊর্ধ্বমুখী। তাই এ সময়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।

অধ্যাপক ইকবাল বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়েই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা বিজ্ঞানভিত্তিক নীতির আলোকে জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তায় করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ প্রদান করব। এক্ষেত্রে জনগণের প্রতি অনুরোধ, নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করোনা সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি পুঙ্খানুপুঙ্খ মেনে চলুন।

দেশের বর্তমান করোনা পরিস্থিতি এবং সরকারি সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে করণীয় প্রসঙ্গে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মহসীন আহমেদ সোহেল বলেন, বর্তমানে সারা বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ।

নিজের ও পরিবারের সুরক্ষার জন্য প্রত্যেককে সাবধানে থাকতে হবে, এটাই এখন একমাত্র করণীয়। কম-বেশি আগামী ১ বছর আমাদের এ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

অতি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতে হলে পাতলা সুতির পুরাতন ফুল হাতার জামা/পাঞ্জাবি ও একটু লুজ ফিটিং প্যান্ট/ পায়জামা পরতে হবে। জুতা ও মোজা অবশ্যই পরতে হবে। অবশ্যই সার্বক্ষণিক মাস্ক পরে থাকতে হবে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মী ছাড়া বাকিরা পিপিই পরবেন না। গ্লাভস ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। সঙ্গে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে, পাশাপাশি রোদ চশমা কিংবা ফেস শিল্ড ব্যবহার করতে হবে।

তিনি বলেন, সবারই তিন স্তর বিশিষ্ট সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। সার্জিক্যাল মাস্ক ৮০ ভাগ সুরক্ষা দেয়। সেক্ষেত্রে ৫টি মাস্ক বাসায় রাখতে হবে। ১ম মাস্কটি ব্যবহারের পরে না ধুয়ে একটি পলিথিনে ভরে বারান্দায় ঝুলিয়ে রেখে দেবেন।

এরপর ২য়টি ব্যবহার করবেন, এভাবে ১ম টি আবার ষষ্ঠ দিনে ব্যবহার করবেন। কথা বলার সময় মাস্ক কোনোভাবেই নামিয়ে রাখা যাবে না। মাস্কের সামনের অংশে হাত দেয়া যাবে না, এতে ইনফেক্টেড হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

প্রয়োজনে বাইরে বের হলে ৬ ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা উত্তম। কমপক্ষে ৩ ফুট দূরত্ব অবশ্যই বজায় রাখতে হবে। ধাতব বস্তু যেমন ঘড়ি, চেইন, ব্রেসলেট ইত্যাদি পরে বাইরে যাবেন না। কারণ ধাতব বস্তুতে ভাইরাস অনেকদিন বেঁচে থাকতে পারে। আর মোবাইল ফোন যেখানে-সেখানে ফেলে রাখবেন না। মোবাইল ফোন থেকেও ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে।

ভিন্নবার্তা/এমএসআই

আরো পড়ুন

মাসিক আর্কাইভ

© All rights reserved © 2021 vinnabarta.com
Customized By Design Host BD