
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোরকিপার ফারুক আহমেদ বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম চোরাইভাবে বিক্রির উদ্দেশ্যে ঢাকায় পাঠানোর সময় পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ফারুক আহমেদ প্রায় ৪০ হাজার পিস মেট্রোনিডাজল ট্যাবলেট এবং ১৮টি ওজন মাপার মেশিন অবৈধভাবে বিক্রির জন্য ঢাকার মিটফোর্ড এলাকার বাবু বাজারে মুন্না নামে এক ব্যক্তির কাছে পাঠানোর পরিকল্পনা করেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি রৌমারী থেকে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মালামাল পাঠানোর জন্য বুকিং দিতে যান।
কুরিয়ার সার্ভিসের ম্যানেজার মেহেদী হাসান বুকিংয়ের সময় সন্দেহ হওয়ায় কার্টন খুলে দেখেন। এতে সরকারি ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন সরঞ্জাম দেখতে পেয়ে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়। পরে তিনি বুকিং গ্রহণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রশাসনকে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে রৌমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সরকারি ওষুধ ও সরঞ্জামসহ স্টোরকিপার ফারুক আহমেদকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তার বিরুদ্ধে রৌমারী থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি হাসপাতালের ওষুধ ও সরঞ্জাম চোরাচালানের ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে পারে না। তাদের ধারণা, হাসপাতালের ভেতরের যোগসাজশ ছাড়া এমন ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়। এ ঘটনাকে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের হুমকি উল্লেখ করে তারা সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কাওসার আলী জানান, উদ্ধার হওয়া মালামালের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।