1. admin-1@vinnabarta.com : admin : admin
  2. admin-2@vinnabarta.com : Rumana Jaman : Rumana Jaman
  3. admin-3@vinnabarta.com : Saidul Islam : Saidul Islam
  4. bddesignhost@gmail.com : admin : jashim sarkar
  5. newspost2@vinnabarta.com : ebrahim-News :
  6. vinnabarta@gmail.com : admin_naim :
  7. admin_pial@vinnabarta.com : admin_pial :
রৌমারীতে স্বাধীন প্রশাসন উদ্বোধন দিবস পালিত

রৌমারীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মুক্তাঞ্চল ঘোষণার দাবি

ভিন্নবার্তা প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ৩:২৪ pm

মোস্তাফিজুর রহমান তারা,রৌমারী (কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী উপজেলা রৌমারীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক স্বাধীন প্রশাসন উদ্বোধন দিবস। মহান মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে ১৯৭১ সালের ২৮ আগস্ট রৌমারী মুক্তাঞ্চলে বেসামরিক প্রশাসনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেও একটি স্বাধীন দেশের প্রশাসনিক কাঠামো পরিচালনার এই উদ্যোগ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে রৌমারীর অনন্য ভূমিকার গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে বিবেচিত হয়।

ঐতিহাসিক এ দিনটি স্মরণে স্থানীয়ভাবে প্রতিবছর বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে রৌমারী উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মো. মশিউর রহমান পলাশের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামফলকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পুষ্পমাল্য অর্পণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ফারুক আহমেদ বাবু, রৌমারী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি হারুনুর রশীদ হারুন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ মিশুক, সদর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব রুহুল আমিন, সদর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আয়নাল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন, যাদুরচর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সুমন রানাসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। মুক্তিযুদ্ধের সময় রৌমারী ছিল গুরুত্বপূর্ণ মুক্তাঞ্চল মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় রৌমারীর ভৌগোলিক অবস্থান ও সামরিক কৌশলগত গুরুত্ব ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তবর্তী এই জনপদটি এক পর্যায়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে পরিণত হয়।

ঐতিহাসিক বর্ণনা এবং ‘রৌমারী রণাঙ্গন’ গ্রন্থে বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী, তৎকালীন জেড ফোর্সের অধিনায়ক জিয়াউর রহমানের সময়োচিত ও কৌশলগত পদক্ষেপের ফলে রৌমারী থানা সদরকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দখল থেকে মুক্ত রাখা সম্ভব হয়।
১৯৭১ সালের ৬ আগস্ট লেফটেন্যান্ট নূরনবীর নেতৃত্বে তৃতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টের ডেল্টা কোম্পানি রৌমারীর প্রতিরক্ষা কাজে নিয়োজিত হয়। পরবর্তী সময়ে মুক্তাঞ্চলের নিরাপত্তা, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত করা হয়।
২৮ আগস্ট—যুদ্ধের মধ্যেও স্বাধীন প্রশাসনের সূচনা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে রৌমারীর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি হলো ১৯৭১ সালের ২৮ আগস্ট মুক্তাঞ্চলে বেসামরিক প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হওয়া।

দেশের অধিকাংশ অঞ্চল তখন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর দখল ও যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যে। সেই পরিস্থিতিতে রৌমারীর মুক্তাঞ্চলে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ ছিল কার্যত একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রশাসনিক সক্ষমতার প্রতীকী ও বাস্তব প্রকাশ।
মুক্তাঞ্চলে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এবং যুদ্ধ পরিচালনার বিভিন্ন কার্যক্রমও চলমান ছিল। ঐতিহাসিক বিভিন্ন বর্ণনায় রৌমারী মুক্তাঞ্চলে সামরিক প্রশিক্ষণ স্কুল ও ক্যান্টনমেন্ট প্রতিষ্ঠার কথাও উল্লেখ পাওয়া যায়।
ফলে একাত্তরের রৌমারী ছিল শুধু একটি সীমান্তবর্তী জনপদ নয়; বরং মুক্তিযুদ্ধের সময় এটি হয়ে উঠেছিল প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা, সংগঠন ও বেসামরিক প্রশাসন পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

ইতিহাসের পাতায় রৌমারীর গৌরব
মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে রৌমারীর মানুষ সাহস, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তা স্থানীয় ইতিহাসের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ মানুষ খাদ্য, আশ্রয়, তথ্য, যোগাযোগসহ নানা উপায়ে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে রৌমারী হয়ে উঠেছিল মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড।
আজও রৌমারীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে একাত্তরের স্মৃতি। তবে স্থানীয় ইতিহাসসচেতন মানুষের অভিযোগ, এসব ঐতিহাসিক স্মৃতি ও স্থান যথাযথভাবে সংরক্ষিত না হওয়ায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নিদর্শন হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির অপেক্ষায় ঐতিহাসিক রৌমারী
ঐতিহাসিক ২৮ আগস্টকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের একটি দাবি—মুক্তিযুদ্ধের সময় রৌমারীর ঐতিহাসিক ভূমিকার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং রৌমারীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘মুক্তাঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করা।

স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা মনে করেন, শুধু দিবস পালন করলেই ইতিহাস সংরক্ষণ হয় না; এর সঙ্গে প্রয়োজন গবেষণা, প্রামাণ্য দলিল সংগ্রহ, স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস তুলে ধরার কার্যকর উদ্যোগ।
তাদের দাবি, রৌমারীর মুক্তাঞ্চল, প্রশিক্ষণকেন্দ্র, প্রতিরক্ষা অবস্থান ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক স্থানগুলো চিহ্নিত করে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে নির্মাণ করা হোক আধুনিক মানের একটি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও গবেষণা কেন্দ্র, যেখানে সংরক্ষিত থাকবে রৌমারীর মুক্তিযুদ্ধের দলিল, আলোকচিত্র, স্মৃতিচিহ্ন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য।

আন্তর্জাতিক মানের স্মৃতি সংরক্ষণে নতুন উদ্যোগের প্রত্যাশা
ইতিহাসবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, রৌমারীর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে আন্তর্জাতিক মানে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলের সামরিক ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে আরও গবেষণা, প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ এবং বহুভাষিক প্রকাশনা করা গেলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আন্তর্জাতিক ইতিহাসেও রৌমারীর ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হবে।

তারা বলেন, ২৮ আগস্ট শুধু একটি তারিখ নয়; এটি যুদ্ধের মধ্যেও একটি স্বাধীন দেশের প্রশাসনিক সক্ষমতা ও রাষ্ট্রচিন্তার প্রতীক। তাই দিনটির ইতিহাস জাতীয় পর্যায়ে যথাযথভাবে তুলে ধরা এবং সংরক্ষণ করা সময়ের দাবি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রৌমারীর ঐতিহাসিক ভূমিকা নতুন করে মূল্যায়ন করবে। একই সঙ্গে ২৮ আগস্টকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্ব দিয়ে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী রৌমারীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মুক্তাঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

রৌমারীর মানুষ মনে করেন, যে মাটিতে একাত্তরে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রশাসনিক স্বপ্ন বাস্তব রূপ পেয়েছিল, সেই মাটির ইতিহাস সংরক্ষণ শুধু স্থানীয় মানুষের দায়িত্ব নয়—এটি সমগ্র জাতির ঐতিহাসিক দায়।



আরো




আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

মাসিক আর্কাইভ