শিরোনাম

ডিসিসি নির্বাচন
রাত পোহালেই কাঙ্খিত ভোট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রার্থী ও তাদের দলীয় নেতাকর্মী-সমর্থকদের উত্তেজনা, আশা-আকাক্সক্ষা আর শঙ্কার মধ্যে আগামীকাল শনিবার সকালে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ভোট। এই আশা-শঙ্কা সাধারণ মানুষের মধ্যে যতটা না, তার চেয়ে বেশি নির্বাচন-সংশ্লিষ্টদের।

কাল রাজধানীবাসী প্রথমবারের মতো পুরো সিটি ভোটে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোটাধিকার প্রয়োগের আয়োজন দেখবেন। ঢাকায় দলীয় প্রতীকে প্রথম সিটি নির্বাচনও এটি। সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা পর্যান্ত বিরতিহীন চলবে ভোটগ্রহণ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক এক বছরের মাথায় রাজধানীতে প্রথম কোনো নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ফলে দেশি-বিদেশি সবার কাছে একটু বেশি মনোযোগ পাচ্ছে এই সিটি নির্বাচন।

এই আকর্ষণের আর একটি কারণ হলো সংসদসহ সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নির্বাচনে বিরোধী দল বিএনপির প্রচারণায় বাধার যত অভিযোগ দেখা গেছে, তার চেয়ে অনেক কম ছিল ঢাকা সিটি নির্বাচনে। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার বাইরে বড় কোনো হামলা-মামলার শিকার হননি প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা। সমানতালে প্রচারণা চালিয়েছে দুই পক্ষ। ফলে নির্বাচনী প্রচারণায় জমজমাট একটি প্রতিযোগিতা দেখেছে রাজধানীবাসী। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা সেই প্রচারণা-যুদ্ধের রায় হবে আগামীকালের ভোটে।

ওয়ার্ডভিত্তিক কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচারণা নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা ছিল বটে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী যেসব ওয়ার্ডে রয়েছে। তবে তেমন বড় কিছু দেখা যায়নি। আর রাজধানীজুড়ে আগ্রহের কেন্দ্রে থাকা মেয়র প্রার্থীদের নানা কৌশল এবং রং-ঢঙের প্রচারণা দৃষ্টি কেড়েছে সবার। প্রচারণার এই উৎসবের আবহ যেন ভোটের সময়টায়ও বজায় থাকে সেটাই চায় রাজধানীবাসী।

দীর্ঘদিন পর রাজধানীতে নির্বিঘ্নে প্রচারণা চালাতে পেরে কিছুটা তৃপ্ত রাজনীতির মাঠে কোণঠাসা বিএনপি। সে কথা দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেনও। তারা যদিও ইভিএমে কারচুপির শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, তারপরও জনগণ ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেবেন বলে আশা করেন তিনি।

একই সঙ্গে বিএনপির প্রতি অভিযোগ করছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। তারা আশঙ্কা করছেন, বিএনপি ভোটকেন্দ্র দখলে নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন বলে আশা করছেন তারা।

আ্ইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন আশ্বস্ত করছে, নির্বাচন পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভোটের দিনও তা-ই থাকবে। এ জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানায় নির্বাচন কমিশন। নির্ভয়ে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানায় তারা।

মূলত দুই সিটিতে মেয়র পদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রে রয়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা। গতবার চমক দেওয়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও ভালোভাবেই ছিল প্রচারণায়।
ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম এবং বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল।

ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে মেয়র পদে লড়ছেন আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস ও বিএনপির ইশরাক হোসেন।

নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের প্রচার শেষ হয়। ভোট উপলক্ষে রাজধানীতে গত রাত ১২টা থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়েছে। আজ রাত ১২টা পর্যন্ত নৌ চলাচলও বন্ধ থাকবে।

দুই সিটির ৬৫ শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

ভোটারদের নিরাপত্তার জন্য ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন। দুই সিটিতে ৬৪ দশমিক ৭১ শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলছে ইসি। এসব কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত ফোর্স নিয়োগ থাকবে।

ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুল কাসেম জানিয়েছেন, উত্তর সিটিতে ১ হাজার ৩১৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোট নেওয়া হবে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ৮৭৬টি। আর সাধারণ কেন্দ্র ৪৪২টি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন জানান, দক্ষিণ সিটিতে ভোটকেন্দ্র আছে ১ হাজার ১৫০টি। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ৭২১টি। আর সাধারণ কেন্দ্র ৪২৯টি।

দুই রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য একীভূত করলে দেখা যায়, দুই সিটিতে ২ হাজার ৪৬৮ কেন্দ্রের মধ্যে ১ হাজার ৫৯৭টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ। আর সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে ৮৭১টি।

গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের প্রতিটিতে ১৮ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য থাকবেন। তাদের মধ্যে ছয়জন সশস্ত্র পুলিশ (একজন এসআই, একজন এএসআই ও চারজন কনস্টেবল), দুজন সশস্ত্র আনসার এবং ১০ জন লাঠিসহ আনসার/ভিডিপি সদস্য (চারজন নারী ও ছয়জন পুরুষ) মোতায়েন থাকবেন।

আর সাধারণ ভোটকেন্দ্রে চারজন সশস্ত্র পুলিশ (এসআই/এএসআই একজন ও তিনজন কনস্টেবল), দুজন সশস্ত্র আনসার, ১০ জন লাঠিসহ অঙ্গীভূত আনসার/ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবে।

দুই সিটিতে পুলিশ ও আনসার-ভিডিপির সদস্য থাকছেন ৪১ হাজার ৯৫৬ জন। পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে গঠিত ১২৯টি মোবাইল ফোর্সে থাকবেন এক হাজার ২৯০ জন, ৪৩টি স্ট্রাইকিং ফোর্সে থাকবেন ৪৩০ জন, রিজার্ভ স্ট্রাইকিং ফোর্সে থাকবেন ৫২০ জন।

এ ছাড়া দুই সিটিতে ৬৫ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন রয়েছেন। তাদের মধ্যে উত্তরে থাকবে ২৭ প্লাটুন এবং দক্ষিণে থাকবে ৩৮ প্লাটুন বিজিবি। প্রতি দুইটি সাধারণ ওয়ার্ডে ১ প্লাটুন করে বিজিবি থাকবে।

এ নির্বাচনে মোট ২২ প্রতিষ্ঠানের এক হাজার ১৩ দেশি পর্যবেক্ষক কাজ করবেন। তাদের মধ্যে উত্তরে ৫০৩, দক্ষিণে ৪৫৭ এবং কেন্দ্রীয়ভাবে ৫৩ পর্যবেক্ষক পর্যবেক্ষণ করবেন। আর বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করবেন মোট ৭৪ জন। তাদের মধ্যে ৪৬ বিদেশি এবং ২৮ বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন।

ইসি সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩০ লাখ ১০ হাজার ২৭৩ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ এবং নারী ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৭০৬ জন। উত্তরে মোট ভোটকেন্দ্রে এক হাজার ৩১৮। মোট সাধারণ ওয়ার্ড ৫৪ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড সংখ্যা ১৮টি। এ ছাড়াও অস্থায়ী ভোটকক্ষ রয়েছে ৭৫৪টি।

আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মোট ভোটার ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৪। এর মধ্যে পুরুষ ১২ লাখ ৯৩ হাজার ৪৪১ এবং নারী ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৫৩। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা এক হাজার ১৫০। সাধারণ ওয়ার্ড ৭৫ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড ২৫টি। এ ছাড়াও অস্থায়ী ভোটকক্ষের সংখ্যা রয়েছে ৮৭৬টি।

দুই সিটিতে মোট প্রিসাইডিং আফিসার থাকবে ২৪৬৮ জন, সহকারী প্রিসাইডিং থাকবে ১৪ হাজার ৪৩৪ জন, পোলিং আফিসার থাকবে ২৮ হাজার ৮৬৮ জন, এ ছাড়া কারিগরি সহায়তায় (সেনাবাহিনী) থাকবে ৪ হাজার ৯৩৬ জন। সব মিলে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা থাকবে ৫০ হাজার ৭০৬ জন।

আইআই/শিরোনাম বিডি

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন
আরো পড়ুুন