1. [email protected] : admin : jashim sarkar
  2. [email protected] : admin_naim :
  3. [email protected] : admin_pial :
  4. [email protected] : admin : admin
  5. [email protected] : Rumana Jaman : Rumana Jaman
  6. [email protected] : Saidul Islam : Saidul Islam
রংপুরে চিড়িয়া খানায় নেই পুরুষ উটপাখি অফুটন্ত ৭ ডিম পড়ে আছে |ভিন্নবার্তা

রংপুরে চিড়িয়া খানায় নেই পুরুষ উটপাখি অফুটন্ত ৭ ডিম পড়ে আছে

আফরোজা সরকার, রংপুর
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ৭ মে, ২০২১, ১১:৫৮ অপরাহ্ন

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রংপুর বিনোদন উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় উট পাখিটি পরুষ সঙ্গ ছাড়াই ৭টি ডিম দিয়েছে। ডিম গুলো ফটানোর জন্য মাটির গর্তে বুকে আগলে রেখে তাপ দিচ্ছে পাখিটি। নানান রকমের গাছগাছালির লতাপাতায় ছায়ায় ঘেরা চিড়িয়াখানা এখন দর্শনার্থী শূন্য। মানুষের কোলাহল মুক্ত সুনসান নীরবতা আর স্নিগ্ধ পরিবেশে ভিন্ন ভিন্ন রূপ-বৈচিত্র্যে প্রাণীগুলো রয়েছে ফুরফুরে মেজাজে। এই চিড়িয়াখানায় বন্দি বড় আকৃতির উটপাখি দিয়েছে ৭টি ডিম। লকডাউন পরিস্থিতিতে গেল দুই মাসে সাতটি ডিম দিয়েছে এই উটপাখি।

পুরুষ সঙ্গীর অভাবে এখনও ডিমগুলো ফোটানি। নগরীর প্রন কেন্দ্র হুনুমান তলা এলাকায় প্রায় ২১ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত চিড়িয়াখানাটিতে ৩৩ প্রজাতির ২৫১টি প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে সিংহ, বাঘ, জলহস্তী, হরিণ, অজগর সাপ, ইমু পাখি, উটপাখি,ময়ুর,বানর,কেশওয়ারি,গাধা,ঘোড়া,ভাল্লুুক রংপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বলছেন, দুই বছর আগে ঢাকা থেকে উটপাখিটি দর্শনার্থীদের জন্য আনা হয়। কিন্তু স্ত্রী জাতের একাকীত্ব ঘুচতে প্রয়োজন ছিল পুরুষ উটপাখির। করোনাকালের স্নিগ্ধ প্রকৃতিতে খাঁচার ভেতরে গত দুই মাসে সাতটি ডিম দিয়েছে উটপাখিটি। ডিমগুলো ফোটানোর জন্য দরকার পুরুষ সঙ্গ পাখির। অন্যথায় ডিমগুলো স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষিত থেকে নষ্ট হয়ে যাবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রংপুর বিনোদন উদ্যান ও চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. আমবার আলী তালুকদার এসব তথ্য সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

জানাগেছে,মরুভূমির জাহাজ খ্যাত উটপাখি দুটি খাঁচায় বন্দি থাকলেও থেমে নেই দৌঁড়া দৌঁড়ি। ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত দৌঁড়াতে পারা এই পাখি কখনো নেপিয়ার সহ বিভিন্ন ঘাস খাচ্ছে। আবার কখনো বাঁধাকপি-ফুলকপি, লালশাক, পালংশাকও খাচ্ছে। মা পাখিটি ডিমগুলো ঘুরে ঘুরে দেখছে আর কী যেন ভাবনায় বিভোর। শুধু ডিকে ঘিড়ে কল্পনায় বিভোর উটপাখিাট দেখে মনেহয় মনেহয় নিজেই ডিম ভেঙে ছানা পাখিকে বের করে নিয়ে আসার ।
রংপুর বিনোদন উদ্যান ও চিড়িয়াখানার কেয়ারটেকার আনিস জানান, এই মা উটপাখিটি বালু গোল করে ঘুরে তার ওপরে প্রায় দেড় কেজি ওজনের ডিম দিয়েছে। পুরুষ উটপাখির অভাবে দুই মাস ধরে ডিমগুলো অফুটন্ত রয়েছে। ডিম ফোটানো সম্ভব না হলে এগুলো সংরক্ষণ করতে হবে।

রংপুর বিনোদন উদ্যান ও চিড়িয়াখানার জু অফিসার ডা. এইচ এম শাহাদাৎ শাহিন জানান, ২০১৯ সালের ২৮ মার্চ ঢাকা থেকে তিন মাস বয়সী একটি বাচ্চা উটপাখিটি আনা হয়েছে। দুই বছর বয়স পনূর্ন হবার পর গত মাস থেকে ডিম দেওয়া শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত মোট সাতটি ডিম দিয়েছে এই উটপাখিটি।তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মরুভূমির জাহাজখ্যাত এই পাখির বংশবৃদ্ধি হতে কোনো সমস্যা নেই। তবে এখানে পুরুষ উটপাখির অভাবে ডিম থেকে বংশ বৃদ্ধিতে আমরা নতুন কোনো সফলতা দেখতে পারছি না। যদি পুরুষ পাখির ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে এটা নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।

রংপুর বিনোদন উদ্যান ও চিড়িয়া খানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. মোঃ আমবার আলী তালুকদার জানান, গত মার্চ মাস থেকে মা উট পাখিটি ডিম দেওয়া শুরু করেছে। পুরুষ পাখি না থাকার কারণে ডিমগুলো ফার্টাইল (ফুটানো)হচ্ছে না। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরসহ ঢাকা চিড়িয়াখানাতেও একটি পুরুষ পাখির জন্য আবেদন করেছি। এই উটপাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম জুলিয়েট। আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় এই পাখিগুলো সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। একেকটা ১৫০ কেজি ওজনের পাখি ৩ মিটার উঁচুতে উড়তে অক্ষম। তবে এরা খুব দৌড়াতে পারদর্শী।প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত দৌঁড়াতে পারে। এরাই একমাত্র প্রাণী যাদের পায়ে দুটি মাত্র আঙুল রয়েছে। এরা দলবদ্ধ জীব। ৫ থেকে ৫০ সদস্যের যাযাবর দলে এরা মু এলাকা চষে বেরুয়।চিড়িয়া খানায় উটপাখিকে দৈনিক এক থেকে দেড় কেজি পোস্ট্রি ফিড, কলা, শাক, পাউরুটি, গম ও ভিটামিন প্রিমিক্স খাওয়ানো হয়। অ ল ভেদে এদের প্রজনন ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটি পুরুষ উটপাখি তার নিজস্ব এলাকা দখল করে ফেলে এবং তার সাথে ২-৭টি স্ত্রী উটপাখি থাকে। স্ত্রী উট পাখি দেড় কেজি ওজনের ডিম দেয়। ৩৫-৪৫ দিন পর ডিম ফুটে বাচ্চা প্রজন হয়। এরা ২-৪ বছর বয়সে বয়ো প্রাপ্ত হয়। তাদের জীবন কাল হয়ে থাকে ৩৫-৪৫ বছর।

ভিন্নবার্তা/এমএসআই

আরো পড়ুন

মাসিক আর্কাইভ

© All rights reserved © 2021 vinnabarta.com
Customized By Design Host BD