
পশ্চিমবঙ্গের কার্শিয়াংয়ের দক্ষিণ পূর্ব ঢাল বরাবর আড়াআড়িভাবে রয়েছে রাজা-রানি পাহাড়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, সেই পাহাড়ে একা একা যাওয়া আর মৃত্যুবরণ করা সমান। সেখানে গেলে কেউ আর ফিরে আসে না বলেই জানে সবাই। তাই একা যাওয়ার সাহসও দেখাননি কেউ। সেই রূপকথার গর্ভেই প্রবেশ করল কলকাতার ছয়জন অভিযাত্রী। দলের নেতৃত্ব দেন পর্বতারোহী অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায়।
হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, দার্জিলিং, কালিম্পং ও কার্শিয়াং একসময় সিকিমেরই অংশ ছিল। সেখানকার আদি অধিবাসীরা হলেন লেপচা। লেপচাদের প্রথম রাজা ছিলেন তোরভে পানো। তার রাজত্বের সময়কাল নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। মনে করা হয়, ১৪০০ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে তার রাজত্বকাল ছিল। তারপরে আরও তিন প্রজন্ম সামলেছে লেপচা জগতের রাজ্যপাট।
লেপচাদের উপকথা অনুযায়ী, তাদের রাজারা যুদ্ধের সময় এই গুহা দুটিতে আত্মগোপন করতেন। স্থানীয় লেপচাদের ভাষায় রাজাকে ‘গুলমা রাজা’ ও রানিকে ‘গুলমা রানি’ বলা হয়। সেই থেকেই এই পাহাড়ের নাম রাজা-রানি পাহাড় বলে মনে করা হয়।
অভিযানের পর অনিন্দ্য ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গুহা দুটি কার্শিয়াংয়ের কাছে। তবে ২০০ ফুট উচু খাড়া পাহাড়ের দেওয়ালে ঢাকা পড়েছে। তাই বাইরে থেকে দেখে বোঝা যাবে না ঠিক কোথায় গুহা দুটি। রক ক্লাইম্বিং ছাড়া সেখানে পৌঁছানোও অসম্ভব। তবে ছয় বাঙালির দুঃসাহস অবশেষে সেটাই সফল করে দেখাল।
অনিন্দ্যর কথায়, মিথ কখনও এমনি এমনি তৈরি হয় না। রোলা বার্থ যেমন বলেছিলেন, মিথের সঙ্গে মানুষের ইতিহাসের যোগ থাকেই। মিথ তৈরির পিছনেও কোনো না কোনো উদ্দেশ্য থাকে। মিথকে বদলানো যায়, তাতে মুছে ফেলা যায়। তার পরেও যেখানে মিথের জন্ম, সেখানে কোনো না কোনও সূত্রে থেকেই যায়। এক্ষেত্রেও তেমনই হয়েছে। পুরনো গল্পের মধ্যেই ছিল এই গুহার সূত্র। এত দিনে তার সন্ধান পাওয়া গেল।
ভিন্নবার্তা ডটকম/এন