1. admin-1@vinnabarta.com : admin : admin
  2. admin-2@vinnabarta.com : Rumana Jaman : Rumana Jaman
  3. admin-3@vinnabarta.com : Saidul Islam : Saidul Islam
  4. bddesignhost@gmail.com : admin : jashim sarkar
  5. newspost2@vinnabarta.com : ebrahim-News :
  6. vinnabarta@gmail.com : admin_naim :
  7. admin_pial@vinnabarta.com : admin_pial :

ভোট দিতে এসে কেউ করোনায় মারা গেলে দায় কমিশনের নয়: সিইসি

ভিন্নবার্তা প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০ ১১:০৬ pm

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, ভোট দিতে এসে কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে বা আক্রান্ত হলে, সেই দায় নির্বাচন কমিশনের নয়। ভোটারদেরই সাবধানতা বাড়াতে হবে। তবে ভোটকেন্দ্রগুলোতে করোনার সংক্রমণ ঝুঁকি মোকাবিলায় হাত ধোয়াসহ সুরক্ষাসামগ্রীর ব্যবস্থা রাখা হবে।

কে এম নুরুল হুদা শনিবার বিকেলে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের উপনির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত সভা এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে আলাদা সভা শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

বগুড়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষ করতোয়ায় আয়োজিত এই ব্রিফিংয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি মাথায় রেখেই উপনির্বাচন করতে হচ্ছে। আসন শূন্য হওয়ার পর থেকে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে। বিষয়টি মাথায় রেখে তিন মাস পূর্ণ হওয়ার এক দিন আগে বন্যা ও করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে বাধ্য হয়ে এই উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ করতে হচ্ছে। ১৪ জুলাই ভোট গ্রহণ ছাড়া ভোট পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি কে এম নুরুল হুদা বলেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্বাচন হয়েছে, ফলে আমাদের দেশেও নির্বাচন হওয়াতে কোনো অসুবিধা নেই। উপনির্বাচনে ভোটকেন্দ্রগুলো ভোট গ্রহণের উপযোগী করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোট গ্রহণ করা হবে।

কেন্দ্রে ব্যালট পৌঁছাবে ভোটের দিন সকালে
এই উপনির্বাচন সামনে রেখে শনিবার বিকেল চারটায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাচনসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক সভা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। বৈঠকে নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে নির্দেশনা দেন সিইসি।

এ সময় সিইসি বলেন, অন্যবার ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পাঠানো হতো এক দিন আগে। এবার ব্যালট যাবে ভোটের দিন সকালে। সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে হবে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেই ভোট গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য ভোট গ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিতদের মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভসসহ সুরক্ষাসামগ্রী সরবরাহ করা হবে। ভোটকেন্দ্রে সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে, যাতে ভোটাররা হাত ধুয়ে ভোট দিতে পারেন। ভোটাররাও মাস্ক পরে ভোট দিতে আসবেন। তবে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মাস্ক খুলে চেহারা দেখাতে হবে।

কর্মকর্তারা এ সময় সিইসিকে অবগত করেন, বর্তমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে সোনাতলা উপজেলায় তিনটি ও সারিয়াকান্দি উপজেলায় সাতটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা সম্ভব নয়। এসব কেন্দ্র অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে প্রয়োজনে যত কেন্দ্র জলমগ্ন হবে, তা সরিয়ে নিয়ে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন সিইসি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরে উপনির্বাচনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সাহাদারা মান্নানসহ পাঁচজন প্রার্থী অংশ নেন। তবে দলের পক্ষ থেকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেওয়ায় বিএনপির প্রার্থী এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির সভায় অনুপস্থিত ছিলেন। সভায় একজন প্রার্থী ক্ষমতাসীন দলের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ভোটকেন্দ্রে কোনো দলের গুন্ডা বাহিনী মহড়া যেন না দিতে পারে, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে।

অপর প্রার্থী বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হতে হবে। প্রশ্নবিদ্ধ যেন না হয়।

সভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাহাদারা মান্নান বলেন, তাঁদের দলের কর্মী, সমর্থকসহ ভোটারদের নির্বাচনে আসতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক ভোটার উপস্থিত হবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা বলেন, ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে ভোট দেবেন এবং বাড়ি ফিরে যাবেন। এর জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, পুলিশ সুপার (এসপি) আলী আশরাফ ভূঞা, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদুল হক, নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহবুব আলম শাহ্ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিকেলে হেলিকপ্টারে করে বগুড়া বিমানবন্দরে নামেন। সভা শেষে তিনি হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় ফেরেন।

২০০৮ থেকে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন পর্যন্ত তিন দফায় আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সাংসদ হন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্রয়াত নেতা আবদুল মান্নান। গত ১৮ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যুর কারণে আসনটি শূন্য হয়। নির্বাচন কমিশন ২৯ মার্চ ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করে তফসিল ঘোষণা করে। ৯ মার্চ প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে প্রচারণা শুরু করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সাংসদ আবদুল মান্নানের স্ত্রী সাহাদারা মান্নান (নৌকা), বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোকছেদুল আলম (লাঙ্গল), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম (বটগাছ), বাংলাদেশ প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের (পিডিপি) মো. রনি (বাঘ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াসির রহমতুল্লাহ (ট্রাক)।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও বন্যার মধ্যে ১৪ জুলাই নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ায় বিএনপি এই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।

সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি উপজেলা মিলে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩০ হাজার ৯৯৩ জন। এর মধ্যে সোনাতলায় মোট ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬৭ জন এবং সারিয়াকান্দি উপজেলায় ১ লাখ ৭৭ হাজার ৩২৬ জন।
ভিন্নবার্তা ডটকম/এসএস



আরো




মাসিক আর্কাইভ