1. jashimsarkar1980@gmail.com : admin : jashim sarkar
  2. naim@vinnabarta.com : admin_naim :
  3. admin_pial@vinnabarta.com : admin_pial :
  4. admin-1@vinnabarta.com : admin : admin
  5. admin-2@vinnabarta.com : Rumana Jaman : Rumana Jaman
  6. admin-3@vinnabarta.com : Saidul Islam : Saidul Islam
ভিন্ন কৌশলে জাতীয় পার্টি - |ভিন্নবার্তা




দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন

ভিন্ন কৌশলে জাতীয় পার্টি

ভিন্নবার্তা প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৩০ মে, ২০২২ ৭:২৩ pm

নীরা নুসরাত : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটের মাঠে ভিন্ন কৌশল নিচ্ছে জাতীয় পার্টি। কৌশলে জোটবদ্ধ ভোটে অংশ নেওয়ার পথ খোলা রেখে একক প্রস্তুতি শুরু করেছে দলটি। দলটির নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, রাজপথের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি নির্বাচনে গেলে তারা সরকারের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করবে। আর বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ না নেয় সে ক্ষেত্রে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে নিজেদের সামর্থের ওপর জোর দিয়েই এককভাবে ভোটের মাঠে লড়বে জাপা। তবে ভাবগতি বুঝে বিএনপির সঙ্গেও জোট করার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন দলটির নেতারা।

২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গী ছিল জাতীয় পার্টি। মহাজোটের শরিক হয়ে একই সঙ্গে সরকারে ও বিরোধী দলেও ছিল দলটি। ২০১৮ নির্বাচনেও জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আসনে তারা। তবুও সরকারের ভালোর সঙ্গে থাকা, আর খারাপের সমালোচনা করা জাতীয় পার্টির নীতিগত এই অবস্থান এখনো চলমান। মাঝে মাঝে নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে ‘কঠোর’ অবস্থান নিলেও জাতীয় পার্টি তাদের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনেনি। দলের শীর্ষ নেতারা কেউ কেউ বিএনপির মতো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার হুমকি দিলেও পর্দার আড়ালে বেশ আগ ভাগেই ভোটের ‘ভ্যারাইটিস’ প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে জাপা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের কাণ্ডারি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ছাড়া আগামী নির্বাচন জাতীয় পার্টির জন্য বড় ধরনের অগ্নিপরীক্ষা। আগের দুটি নির্বাচনে তার নেতৃত্বেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ভোটে অংশ নিয়ে পরপর দুবার প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসে জাপা। এরশাদের মৃত্যুর পরে প্রায় ৪ বছর দলকে আগলে রেখেছেন তার ভাই জি এম কাদের। তবে এবার অধিকার ছাড়বেন না এরশাদপত্নী বিদিশাও। সব মিলে আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রাপ্তির খাতায় কী যোগ হবে; এখনই সেই হিসাব মেলানো কঠিন হলেও দলের কাণ্ডারি হিসেবে জি এম কাদেরকে যে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে এ নিয়ে সন্দেহ নেই।

চলছে নির্বাচনী প্রাক-প্রস্তুতি : সংসদ নির্বাচনের পুরোদমে প্রস্তুতির পাশাপাশি বিভিন্ন ইস্যুতে জোরেশোরে রাজপথে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে চায় জাতীয় পার্টি। এ লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপও তৈরি করেছে দলটি। যেটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী বছর ফেব্রুয়ারির মধ্যে পার্টিকে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো হবে।

দলটির নীতিনির্ধারকরা জানান, নব্বইয়ের পর এবারই সবচেয়ে বেশি সুসময় অপেক্ষা করছে জাতীয় পার্টির সামনে। ৫ জানুয়ারি নির্বাচন এবং পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়া নিয়ে দলটির মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাজ করলেও এবার সেই দ্বিধা আর নেই। কে অংশ নিল, আর কে নিল না- এ চিন্তা মাথায় নেওয়ার অবকাশ এবার নেই। সে অনুযায়ী দল গোছানো, প্রার্থী ঠিক করা, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে পার্টিকে শক্তিশালী করাসহ নানা উদ্যোগ চলছে। তৃণমূলে পার্টি এবং প্রার্থীর অবস্থান জানার জন্য এবারই প্রথম মাঠপর্যায়ে জরিপ চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

দুই ধারায় এগুচ্ছেন দেবর-ভাবি : জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর চৌদ্দ বছর আগেই বিবাহবিচ্ছেদ হয় বিদিশা সিদ্দিকের সঙ্গে। তবে এখন ছেলে এরিক এরশাদের বদৌলতে থাকছেন এরশাদের রেখে যাওয়া প্রেসিডেন্ট পার্কে। অন্যদিকে দলের মূলধারার চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন এরশাদের ভাই জি এম কাদের। একজন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, অন্যজন দল গোছাতে ব্যস্ত।
৩০০ আসনে যোগ্য প্রার্থী দিতে দলকে সুসংগঠিত করছেন জি এম কাদের। অন্যদিকে এরশাদের চেয়ারে বসে একটি অংশের সমর্থন নিয়ে নিজেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করে দল পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন বিদিশা। এমনকি আগামী নির্বাচনে বিশেষ চমক দেখানোর ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। তবে এই চমক নিয়ে মাথাব্যথা নেই মূলধারার।

জানতে চাইলে জি এম কাদের বলেন, এখন এই মুহূর্তে আমরা ৩০০ আসনের জন্য আমাদের প্রার্থী বের করা এবং তাদের সেভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। জোটবদ্ধ না একক নির্বাচনে যাব- এটি এই মূহর্তে একেবারেই প্রি-ম্যাচিউর আলোচনা। অন্যদিকে বিদিশা সিদ্দিক বলেন, আমরা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতীয় পার্টিকে সাজাচ্ছি। সারাদেশে প্রায় ৩৬টির মতো কমিটি দেওয়া হয়েছে। এবারের নির্বাচনে এমন চমক দেব। জাপা জোটবদ্ধ নির্বাচনে যাবে কিনা? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতত একা নির্বাচন করার ইচ্ছা আমাদের।

প্রস্তুত হচ্ছে নির্বাচনী রোডম্যাপ : নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি রোডম্যাপও তৈরি করছেন জাতীয় পার্টির নীতিনির্ধারকরা। এরমধ্যে বিশেষ কয়েকটি এজেন্ডা নিয়ে এগুচ্ছে দলটি। এরমধ্যে অন্যতম হলো- কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ে দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন শেষ করা। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা এবং ত্যাগী ও সক্রিয় নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করে তাদের সামনের কাতারে নিয়ে আসা। তৃণমূল পর্যায়ে জরিপ করে ৩০০ আসনেই কমপক্ষে ৬০০ জন দক্ষ, যোগ্য এবং জনপ্রিয় প্রার্থী ঠিক করা। এর বাইরে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত পুরো সময় জাতীয় সংসদে এবং সংসদের বাইরে রাজপথে জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সক্রিয় ও সরব থেকে জনসমর্থন আদায় করা। এ লক্ষ্যে কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা, নারী শিশুদের জন্য প্রতিটি জেলা ও উপজেলা শহরে বিশেষায়িত হাসপাতাল, বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়াসহ সাধারণ জনগণের কল্যাণে কর্মপন্থা নিয়ে সারাদেশে পোস্টার লিফলেট করা।

নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নের কাজ চলছে : নির্বাচনের জন্য দলীয় নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নের কাজও শুরু করেছে জাতীয় পার্টি। এ লক্ষ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং চেয়ারম্যানের প্রেস এন্ড পলিটিক্যাল সেক্রেটারি সুনীল শুভ রায়কে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের ইশতেহার প্রণয়ন কমিটি গঠন করেছেন দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। ১৯টি দফায় এই ইশতেহারের কাজ চলছে। দফাগুলোর মধ্যে- প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন, নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার, পূর্ণাঙ্গ উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, কৃষকের জন্য ভর্তুকি মূল্যে সার, ডিজেল, কীটনাশক সরবরাহ, কর-শুল্ক মওকুফ, সহজ শর্তে ঋণ, সন্ত্রাস দমনে কঠোর ব্যবস্থা, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, ফসলি জমি নষ্ট না করা, খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা পদ্ধতির সংশোধন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, শান্তি ও সহাবস্থানের রাজনীতি প্রবর্তন, সড়ক নিরাপত্তা, গুচ্ছগ্রাম পথকলি ট্রাস্ট পুনঃপ্রতিষ্ঠা, পল্লী রেশনিং চালু, শিল্প ও অর্থনীতির অগ্রগতি সাধন এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্য ৩০টি আসন সংরক্ষিত রেখে সংসদে মোট ৩৮০টি আসনের কথা বলা হয়েছে ইশতেহারে।

জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনে পুরোদমে প্রস্তুতি চলছে। আওয়ামী লীগ লুটতরাজ ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারছে না। বিএনপি শুধু মুক্তি চাই, মুক্তি চাই বলে চিৎকার করছে। দেশের মানুষের দুর্দশার কথা এই দুটি দল ভাবছে না। তাই দুর্দিনে দেশের মানুষ এখন জাতীয় পার্টিকেই পাশে চায়।
ভিন্নবার্তা ডটকম/আরজে/এন



আরো




মাসিক আর্কাইভ